‘কৌশলবিদ’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : সম্প্রতি আমেরিকাকেন্দ্রিক দুইটা ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটা ‘দেশ ও জণগণের স্বার্থে’ হয়েছে বলে সরকারের তরফ থেকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। আরেকটার সার্টিফিকেটের জন্য জনগণই অপেক্ষায় আছে। প্রথমটা হচ্ছে- গত ১ জুলাই সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২ লাখ ৭০ হাজার টন গম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করে, যার মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে আসবে ৫০ হাজার টন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন। সিঙ্গাপুর থেকে উন্মুক্ত নিলামে কেনা প্রতি টন গমের দাম পড়বে ২৯৭ দশমিক ৯২ ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আনা হবে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে, যেখানে প্রতি টন গমের দাম পড়বে ৩২২ ডলার। এই যে দামের তারতম্য এটার একটা ‘কৌশলী’ ব্যাখ্যা দিয়েছেন সরকারের নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, “একটু বেশি দামে গম কেনা হয়েছে। এটাও আমি মিডিয়াতে দেখেছি। একটু বেশি দামে যদি গম কেনাও হয়- এটাও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমি বলছি, জ্বী! কেন বলছি? আপনি খেয়াল করবেন- এই চুক্তি যখন করা হয়েছিল তার আগের পরিস্থিতিটা কী ছিল? রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ দেওয়া হয়েছিল। আমাদের গার্মেন্ট প্রোডাক্টের উপরে খুব বড় একটা ট্যারিফ পড়েছিল। আপনি চিন্তা করুন তো! তখন যেটা হয়েছে যে, ট্রেড ডেফিসিট আছে সেটা কমানোর কিছু পণ্য তাদের কাছ থেকে আমরা বেশি কিনবো এ ধরনের একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং আমাদের মধ্যে হয়েছে।”উপদেষ্টা বলেন, “তাতে লাভ কি হলো? লাভ হচ্ছে আমরা আমাদের ওই যে বললাম এতক্ষণ। আমাদের তো এই মুহূর্তে অন্তত গার্মেন্টের উপরে যদি আমরা খুব বড়... আমাদের ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে যদি একক ইউনিট হিসেবে ধরি এটা হলো হাইয়েস্ট রপ্তানি সেকেন্ডেই কিন্তু আমেরিকা। সুতরাং আমাদের যদি ওই ট্যারিফ আমাদের ওই এক্সপোর্টের উপরে পড়ে সেটা আমাদের জন্য বিপদ তৈরি করবে। সেজন্য এটাও আসলে এক ধরনের.. আমি মনে করি যে-জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্যই।” আরেকটা ঘটনা হচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান করেছে। এ নিয়ে সারাদেশে আলোচনা-সমালোচনা করছে। কে জানে কবে জানি দেশের ‘নীতি ও কৌশলবিদ’ আবার বলে বলেন, এটাও দেশের ‘জনগণের স্বার্থে’ হয়েছে!!

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..