বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে মার্কসের বিদ্রোহ
ডা. মনোজ দাশ

মার্কস বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে গড়ে তুলেছেন ‘বিচ্ছিন্নতার তত্ত্ব’। মার্কসের এই বিচ্ছিন্নতার তত্ত্বের একটি সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট আছে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা উদ্ভবের পর পুঁজি সমগ্র সমাজের নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হয়। তখন সবকিছুই পরিণত হয় পুঁজির দাসে। মানুষের শ্রমশক্তি পুঁজি নির্ভর হয়ে পড়ায় গোটা শ্রম প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায় সৃষ্টি বিমুখ। ফলে সৃষ্টিশীল শ্রম প্রক্রিয়া থেকে ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়। শ্রম প্রক্রিয়া থেকে ব্যক্তির এই বিচ্ছিন্নতা এক খণ্ডিত ও বিকৃত জীবনবোধের জন্ম দেয়। অষ্টাদশ শতকের চিন্তাবিদেরা পুঁজিবাদ সৃষ্ট এই খণ্ডিত ও..
বিস্তারিত
রাষ্ট্র, পুঁজি, নাগরিক সমাজ ও রাস্তার পাঠ
ওয়াংচুককে ছাড়িয়ে বামপন্থার সামনে প্রকৃত প্রশ্ন
অচিন্ত নারায়ণ চৌধুরী
সোনম ওয়াংচুক বা দীপকের রাজনৈতিক অতীত নিয়ে সন্দেহ থাকা অস্বাভাবিক নয়। একজন দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে আপসের রাজনীতি করেছেন কি না, অন্যজনের রাজনৈতিক অবস্থান কতটা সুসংহত–এসব প্রশ্ন অবশ্যই তোলা যায়। কিন্তু ইতিহাসের বস্তুবাদী পাঠ আমাদের শেখায়, ইতিহাস ব্যক্তির ইচ্ছায় চলে না; ইতিহাস চলে বস্তুগত সামাজিক দ্বন্দ্বের গতিতে। বহু আন্দোলনই এমন হয়েছে, যেখানে নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে জনগণ নিজস্ব রাজনৈতিক চেতনা গড়ে তুলেছে।
দিল্লির রাস্তায় যা ঘটছে, তার গুরুত্ব ওয়াংচুকের ব্যক্তিত্বে নয়; বরং রাষ্ট্রের চরিত্র উন্মোচিত হওয়ায়। যখন রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে..
বিস্তারিত
বিভ্রান্ত বিচারকের কাঠগড়ায় ‘প্রগতিশীল রাজনীতি’
জলি তালুকদার
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে এ বছর প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলোর ক্রোড়পত্রে কয়েকটি লেখা নিয়ে বেশ আপত্তি উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, ২৪-এর অভ্যুত্থানে এদেশে বামপন্থিদের ভূমিকাকে নাই করে দেয়ার সুকৌশলী প্রয়াস স্পষ্ট। বিশেষ করে যারা বিগত আওয়ামী শাসন আমলে বিরোধী ভূমিকায় নীতিনিষ্ঠ ছিল এবং একই সাথে বিএনপি ও জামাতবর্গ থেকে একটি স্বতন্ত্র ও আদর্শিক দূরত্ব বজায় রেখেছে, তেমন বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক শক্তির অসামান্য অবদান অস্বীকার করার একটা অপরাধমূলক চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
প্রধান আপত্তি তৈরি হয়েছে বর্তমান শাসক সরকারের অংশীদার গণসংহতি আন্দোলনের নেতা ফিরোজ..
বিস্তারিত
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও প্রগতিশীল শক্তির
বিরুদ্ধে কালিমা লেপনের চেষ্টা
জামসেদ আনোয়ার তপন

১৭ জুলাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত ফিরোজ আহমেদের ‘চব্বিশের কাঠগড়ায় প্রগতিশীল রাজনীতি’ নিবন্ধটি নিয়ে আলোচনা জরুরি। কারণ, কোনো রাজনৈতিক মূল্যায়ন যখন গণঅভ্যুত্থানের বহুমাত্রিক বাস্তবতাকে সংকুচিত করে একটি নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতাকে সামগ্রিক ইতিহাসের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন প্রকৃত চিত্রটি তুলে ধরাও এতিহাসিক দায়িত্বের অংশ হয়ে ওঠে।
লেখাটির মূল সীমাবদ্ধতা এখানেই যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক জোটের অভিজ্ঞতা ও কর্মসূচি এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যেন সেটিই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রধান ও প্রায় একমাত্র প্রতিনিধিত্বশীল ধারা। ফলে কমিউনিস্ট, বামপন্থি, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তির বহুমাত্রিক..
বিস্তারিত