গণমাধ্যম
গণমাধ্যমের গলায় দড়ি
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
গণমাধ্যমের গলায় দড়ি পরানো হয়েছে বলাটা নিশ্চয়ই বাড়াবাড়ি শোনাবে। কিন্তু শৃঙ্খল বলার চেয়ে গলায় দড়ি বলাই বোধকরি অধিক সঙ্গত। কেননা গণমাধ্যম যা করে তা হলো কথা বলা, তা সে কথা ছবি হয়ে আসুক, কিংবা আসুক ছাপার অক্ষর হয়ে, অথবা টেলিভিশনে দেখা দিক ছবি ও কথায় মেশামেশি ঘটিয়ে। সেই কথা বলার যে স্বাধীনতা তাকেই ভীষণভাবে এখন নিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের যে-চেহারা ও দশা তা শৃঙ্খলিত মূর্তির নয়, চোখে ঠুলি-পরানো রয়েছে বললেও তার যথার্থ ছবি ফুটিয়ে তোলা যাবে না, বলতে..
বিস্তারিত
একতা
একতার লড়াই চলছে, চলবে
কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন
সাপ্তাহিক একতার সাথে আামার সম্পর্ক ৫৩ বছর আগে। যখন কোনো কিছু বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই একতা পড়ছি। আমার বাবা একতা নিয়ে আসতেন এবং আইনজীবীদের মধ্যে বিক্রি করতেন। ট্যাবলয়েড সাইজের একতা পত্রিকা ছিল। ঢাকার বংশালে (আমার বাবার বাড়িতে) ছিল ‘একতার কার্যালয়’।
পরবর্তীতে যখন সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হই তখন থেকেই একতা পড়ছি এবং ৮০ এর দশকে একতা লঞ্চঘাটে, বাসস্ট্যান্ডে বিক্রিও করেছি। ৮০ দশকে একতার জনপ্রিয়তা বেড়ে গিয়েছিল। সেসময় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেয়ালে একতা সাঁটা হতো। ধনীক গোষ্ঠীর লুটপাটের কাহিনী শীর্ষক লেখা প্রতি..
বিস্তারিত
গণঅভ্যুত্থান
শাসকদের ‘উন্নয়ন’ থেকে জনগণের অভ্যুত্থান এবং তারপর
আনু মুহাম্মদ
বাংলাদেশের গত ছয় দশকে বড় তিনটি গণঅভ্যুত্থানে- ১৯৬৯, ১৯৯০, ২০২৪- আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিল দেখতে পাই। পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক অভ্যুত্থান করে দেশের ক্ষমতা দখল করেন ১৯৫৮ সালে। তাঁর শাসনামলকে (১৯৫৮-১৯৬৮) ‘উন্নয়নের দশক’ হিসেবে উদযাপন করা হয়েছিল। সেসময় অনেক অবকাঠামো নির্মাণ হয়, নতুন শহর হয়, সড়ক ও বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হয়। সেগুলোকে উন্নয়ন সাফল্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু সেসময় গণতন্ত্র পদদলিত হয়, জাতিগত নিপীড়ন ও বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। সেই ‘উন্নয়নের’ শেষ পরিণতি হয় ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান..
বিস্তারিত
রাজনীতি
ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের
শ্রেণি চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি
মোহাম্মদ শাহ আলম
জুলাই আন্দোলন থেকে দেশ অতিক্রান্ত করছে তিনটি পর্যায়। প্রথম পর্যায়ে- ৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনার দেশত্যাগ; হাসিনার গণবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিদায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে- ৮ আগস্ট ২০২৪ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন; অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু। তৃতীয় পর্যায়ে- ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচন; বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন। শপথ নিয়ে বিরোধী দলের বিতর্কিত ভূমিকা। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির মন্ত্রিপরিষদ গঠন। বহুদিন পর প্রকৃত অর্থে একটি নির্বাচিত সরকারের চলার শুরু।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে স্বৈরাচারবিরোধী গণতন্ত্রের উপাদান ছিল..
বিস্তারিত
নয়া উদারবাদ
বাংলাদেশে নয়া উদারবাদ
উৎপত্তি-বিকাশ ও সংকট
ডা. মনোজ দাশ
নয়া উদারবাদ বিশ শতকের শেষভাগ থেকে বিশ্ব পুঁজিবাদী অর্থনীতির প্রধান নীতিগত ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের দেশে স্বাধীনতার পর প্রথম দিকে রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হলেও ১৯৮০-এর দশকে ঋণনির্ভরতা, বৈদেশিক সহায়তা এবং কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নয়া উদারবাদী নীতিতে অগ্রসর হয় বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে সব সরকারই বিভিন্ন মাত্রায় একই নয়া উদারবাদী অর্থনৈতিক কাঠামো অনুসরণ করেছে। এর ফলে প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি বৃদ্ধি পেলেও আয়-বৈষম্য, শ্রমের অনিশ্চয়তা, কৃষির সংকট, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং করপোরেট পুঁজির প্রভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৪-এর..
বিস্তারিত
জীবন কথা
সত্যেনদার দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে
লক্ষ্মী চক্রবর্তী
ভারতীয় উপমহাদেশে বার বার নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ জাতি ও সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এদেশে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ’৫২র ভাষা আন্দোলন, পরবর্তীতে আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। এই ধারাবাহিক ইতিহাসের প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামকে অগ্রসর করতে অনন্য সাধারণ ভূমিকা পালন করেছে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলন। আর প্রগতিশীল এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সংগঠিত করার এক মহানায়কের নাম সত্যেন সেন, আমাদের ‘সত্যেনদা’।
তিনি ছিলেন এক অসীম কৃতিত্বের অধিকারী মানবতাবাদী নেতা। মনুষ্যত্বের সাধনা তাঁর কাছে ছিল এক আদর্শিক বিষয়। ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে ছিল তাঁর..
বিস্তারিত
রাজনীতি
ইতিহাস কাউকেই ছাড় দেয় না
মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন
অনেক দিন হলো লেখালেখির অভ্যাসটা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। হঠাৎ করে একতার অফিস থেকে ফোন এলো- ‘একতা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আপনাকে একটা লেখা দিতে হবে’। আগে একতায় মাঝে-মধ্যে লিখতাম। সেই দায়বদ্ধতা থেকে অনুরোধটা আর ফেলতে পারলাম না।
কিন্তু লিখতে গিয়ে পড়ে গেলাম সমস্যায়। কারণ কী লিখবো, কী প্রসঙ্গে লিখবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিছুটা ভেবে সিদ্ধান্ত নিলাম দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে- সেই বিষয়গুলিকে উপজীব্য করে কিছু লেখা উচিত।
তাই সেই বিগত সরকারের আমল দিয়ে শুরু করলাম। তখন আওয়ামী লীগ..
বিস্তারিত
একতা
অধিকারের সংগ্রামে অদম্য ‘একতা’
আরিফুল ইসলাম নাদিম
আরেকটি বছর পেরিয়ে সাপ্তাহিক একতা এসে দাঁড়িয়েছে তার আরেক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রান্তে। কাগজে-কলমে এটি একটি সংখ্যার হিসাব মাত্র, কিন্তু ইতিহাসের চোখে এটি একটি অবিরাম সংগ্রামের রক্তাক্ত, অথচ অটুট ধারাবাহিকতা। ১৯৭০ সালে যখন এই পত্রিকার জন্ম হয়েছিল, তখন এই ভূখণ্ড পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের নিগড়ে বন্দি, মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের নিচে চাপা। সেই অন্ধকার সময়ে জন্ম নেওয়া একতা আজ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, স্বপ্ন ও প্রতিরোধের অগ্নিসাক্ষী হয়ে টিকে আছে-কোনো নরম আপসে নয়, কঠোর অবিচলতায়।
সাপ্তাহিক একতাকে অনেকে..
বিস্তারিত
সংবাদপত্র
একতার অবিচল পথচলা শেষ হয় না
আহমদ সিরাজ
সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা অনেকটা অভিন্ন মনে হলেও তার গতিপ্রকৃতি ভিন্ন। যদিও সংবাদপত্রকে বলা হয়ে থাকে এটি রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ। গুরুত্বের দিক থেকে তা বিবেচ্য হলেও রাষ্ট্রের অপরাপর স্তম্ভ নড়বড়ে হয়ে উঠলে, সংবাদপত্রের স্তম্ভ হিসেবে পথচলায় সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কোমর সোজা না থাকলে সংবাদপত্রের পথচলা কঠিন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ জন্মের ৫৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে, তেমনই প্রায় সমানতালে সাপ্তাহিক একতার জন্মের ইতিহাসও চিহ্নিত হয়ে আছে–যা একটা কঠিন সময় হিসেবে জাতীয় জীবনে অতিবাহিত ছিল। এই সময় স্বাধীন বাংলাদেশে পত্রপত্রিকার সংখ্যা হাতেগোনার..
বিস্তারিত
আর্কাইভস
সংবাদপত্র ও রাজনীতি
মোহাম্মদ ফরহাদ
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ-এর এই লেখাটি একতার ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা (১৭ আগস্ট ১৯৮৪) থেকে পুনর্মুদ্রিত হলো। একতার জন্মলগ্ন থেকেই মোহাম্মদ ফরহাদ পার্টির এই মুখপত্রটির সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন একতার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। একতায় তিনি লিখেছেন অনেক। বিচ্ছিন্নভাবে একতাকে সাহায্য করা ছিল তার নিয়মিত কাজের অংশ। একতার ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।
সংবাদপত্র একটি শক্তিশালী অস্ত্র। বিশ্বের প্রথম সফল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মহান নেতা ভ.ই. লেনিন পত্রিকা সম্পর্কে যে বিখ্যাত কথাগুলো বলেছিলেন, কমবেশি সকলেই..
বিস্তারিত
শুভেচ্ছা বাণী
সকল বাধা মোকাবিলা করে
একতা এগিয়ে যাবেই
খালেকুজ্জামান
৫৭ বছরে আজ একতার বার্তা বহনকারী একতা। এই দীর্ঘ সময়ে একতা কৃষকের কথা, শ্রমিকের কথা, তাদের দুঃখ বেদনা-দুঃসহ জীবন যন্ত্রণার কথা যেমন তুলে ধরেছে, তেমনই প্রগতির শক্তি, বিপ্লবের শক্তির অঙ্গীকার আর অংশগ্রহণের ছবিও হাজির করেছে। ছাত্র-যুব-নারী সমাজ, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী বিভিন্ন স্তরের মানুষও তাদের বার্তা পেয়ে এসেছে এ পত্রিকার মাধ্যমে। এ ধরনের পত্রিকাকে অনেক দুর্গম কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়, অনেক প্রতিবন্ধকতাকে মোকাবিলা করে এগুতে হয়। কর্পোরেট হাউজের পুঁজির গাড়ি চেপে এর গতি তৈরী হয়না। তারপরও বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির..
বিস্তারিত
গণসংগঠন
পার্টি ও গণসংগঠনের মিথস্ক্রিয়া
জুলফিকার আহমেদ গোলাপ
পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচে না, তেমনি গণসংগঠন ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টি বিকশিত হবে না। তবে পার্টি ও গণসংগঠনের মিথস্ক্রিয়া বা আন্তঃসম্পর্ক যথাযথভাবে কার্যকর করার ওপর পার্টি ও গণসংগঠন উভয়েরই বিকাশ নির্ভরশীল।
গণসংগঠন নেহাতই ‘ক্লাব’,‘চক্র’ নয় কিংবা কোনো ‘গল্পের আসর’ বা ‘অলস আড্ডা’ নয়। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার অমানবিকতা, নির্মম শোষণ, পরস্পর বিচ্ছিন্নতার বিপরীতে দেশপ্রেম, মানবপ্রেমের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৈপ্লবিক উজ্জীবন ঘটানোর যোগ্য সহায়ক শক্তি হয়ে উঠতে হবে গণসংগঠনকে। সেই গণসংগঠনের অভ্যন্তরীণ জীবন হবে প্রাণবন্ত আলোচনা, তত্ত্বচর্চা আর নিরবচ্ছিন্ন কাজের..
বিস্তারিত
বাণিজ্য চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি কি ঔপনিবেশিক অর্থনীতির নতুন রূপ?
ড. মোশাহিদা সুলতানা
১.
কল্পনা করুন, উনিশ শতকের ভারতের কোথাও এক তুলা চাষির মাঠ। আকাশে রোদ, জমিতে তুলার গাছ, কিন্তু তার জীবনের নিয়ন্ত্রণ আর তার নিজের হাতে নেই। জমির খাজনা কত হবে, কোন দামে তুলা বিক্রি করতে পারবে, রেলে তুলা তুলে বন্দর পর্যন্ত নিতে কত ভাড়া গুনতে হবে– এসব ঠিক হচ্ছে দূরের কোনো দফতরে, লন্ডন আর কলকাতার নীতিনির্ধারকদের টেবিলে।
ব্রিটিশ শাসন তখন ভারতীয় অর্থনীতিকে এক বিশেষ ছকে বেঁধে ফেলেছে। ভারত থেকে যায় তুলা, পাটসহ নানা ধরনের কাঁচামাল। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যায় ল্যাঙ্কাশায়ার আর ম্যানচেস্টারের মিলগুলোর..
বিস্তারিত
একতা
একতার জন্য প্রত্যয়
এমদাদুল হক মিল্লাত
১৯৮০ সনে ছাত্র ইউনিয়ন ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। কমরেড জ্যোতিষ বোস তখন সিপিবি জেলা কমিটির সম্পাদক। ছাত্র গ্রুপের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে সাপ্তাহিক একতা পত্রিকা বিক্রি করতে হবে। কি আজব ব্যাপার, পত্রিকা বিক্রি করতে হবে, এটা কিভাবে করবো। কিছু দিন আগে ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সম্মেলন গিয়েছে, চাঁদা তুলেছি টানা এক মাস, জীবনে এর আগে আব্বার কাছে টাকা চাওয়া ছাড়া কোনোদিন কারো কাছে চাইনি। সে সময় গণচাঁদা উঠানো শিখলাম। এবার সোজা হকারি। কী আর করা, পার্টির নির্দেশ। সাপ্তাহিক একতা পত্রিকা..
বিস্তারিত
ইতিহাস
কমিউনিস্ট দৈনিক ‘স্বাধীনতা’
স্বর্ণেন্দু দত্ত

অবিভক্ত ভারতে উনিশশো ছেচল্লিশের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ওই নির্বাচনের প্রাক্কালে কমিউনিস্ট পার্টি দৈনিক সংবাদপত্র প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয় ‘স্বাধীনতা’। মাস্ট হেডের তলায় লেখা হতো- কমিউনিস্ট পার্টির দৈনিক পত্রিকা। কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের সূচনালগ্ন থেকেই বাংলায় বারে বারে পার্টির পত্রিকা প্রকাশের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু দৈনিক সংবাদপত্র এই প্রথম। একটি পূর্ণাঙ্গ দৈনিক পত্রিকা চালাতে যে বিপুল মূলধন, পরিকাঠামো প্রয়োজন- তার কোনোটাই কমিউনিস্ট পার্টির ছিল না। বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি সেদিন দৈনিক প্রকাশের দুঃসাহসিক কাজের জন্য আস্থা রেখেছিল কেবলমাত্র..
বিস্তারিত
পত্রিকা
একতা পড়ো, শ্রমিক শ্রেণির একতা গড়ো, শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করো
এস এ রশীদ
একতা এদেশের গণমানুষের সংবাদ দর্পণ। একতা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন-যুদ্ধ, উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন বিরোধী ও লুটেরা ধনিক গোষ্ঠীর লুটপাটের বিপরীতে শোষণ-বৈষম্যবিরোধী গণতন্ত্র -সমাজতন্ত্রের লড়াই সংগ্রামের পক্ষে মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর। ১৯৭০ সালের ৩১ জুলাই সাপ্তাহিক একতার আনুষ্ঠানিক জন্ম। তারও অনেক অনেক দিন আগে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর কাজী নজরুল ইসলাম প্রকাশ করেছিলেন “সাপ্তাহিক লাঙ্গল” পত্রিকা। প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল কাজী নজরুলের সাম্যবাদী কবিতা। সেখানে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো ম্যাক্সিম গোর্কির বিখ্যাত উপন্যাস “মা’ এর অনুবাদ, মহামতি কার্ল মার্কসের ধারাবাহিক জীবনী,..
বিস্তারিত
সাম্রাজ্যবাদ
যুদ্ধ ও করণীয়
হারুন-অর-রশিদ

বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে একটা চাপিয়ে দেওয়া একটা যুদ্ধের বিরোধিতার মাধ্যমে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে যোগদান করে, সেটিও যুদ্ধ বিরোধিতা।
১৯৭১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার উপায় হিসেবেই ২৫ মার্চ ঢাকায় গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানি সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান।নিরস্ত্র জনতার উপরে এই ঘৃণ্য আক্রমণ রুখে দেয় বাংলাদেশের শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও আপামর জনগণ। চাপিয়ে দেয়া এই যুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে বাঙালি তার বিজয়গাঁথা রচনা করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে উপনিবেশ বিরোধী জাতীয়তাবাদী লড়াইয়ে এশিয়া-আফ্রিকার যে দেশগুলোর..
বিস্তারিত
শ্রেণি সংগ্রাম
কমিউনিস্ট পার্টি ও কার্ল মার্কসের প্রাসঙ্গিকতা
মিজানুর রহমান সেলিম
কার্ল মার্কসের জীবনে প্রথম কমিউনিস্ট সংগঠন ছিল কমিউনিস্ট লীগ। কমিউনিস্ট লীগ ঊনবিংশ দশকের মধ্যভাগে পশ্চিম ইউরোপের গড়ে ওঠা তীব্র শ্রমিক আন্দোলনের ফসল, এর সদস্যদের বেশির ভাগই ছিলেন শ্রমিক। সুতরাং বুর্জোয়া ইতিহাস বহন করে আসা মার্কস-এঙ্গেলসকে শ্রমিক আন্দোলনের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে অনেক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কমিউনিস্ট লীগে প্রবেশ করতে হয়েছিল।
তখন সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন প্রকৃতপক্ষে একমাত্র শ্রমিক শ্রেণি আশ্রয়ী ছিল। কিন্তু কমিউনিস্ট ইশতেহার রচনায় মার্কস-এঙ্গেলস নিজেরাই সাধারণ শ্রমিক শ্রেণির সদস্য এবং অগ্রণী শ্রমিক অর্থাৎ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সম্পর্কে ধারণাকে সুস্পষ্টভাবে আলাদা..
বিস্তারিত
অভ্যুত্থান
চব্বিশের কাঠগড়ায় বুর্জোয়া রাজনীতি এবং শ্রমিক শ্রেণির শিক্ষা
কল্লোল বনিক
অভ্যুত্থান হচ্ছে শোষিতের উৎসব। কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তায় থাকা তরুণ সমাজ, দীর্ঘদিন ভোট প্রদানে অপারগ নাগরিক সমাজ, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপর্যস্ত মেহনতি মানুষ এমনকি আওয়ামী লীগের অনেক নেতৃবৃন্দের পরিবারের সদস্যরা চব্বিশের অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলো। আন্দোলনকারীদের নির্বিচারে হত্যা নির্যাতন সাধারণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। সরকারি হিসাব মতে, আট শতাধিক মানুষ চব্বিশের অভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে কয়েক হাজার মানুষ। সরকার যখন একে একে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দিলো তখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও সাংস্কৃতিক..
বিস্তারিত