সিপিবির পথ পরিক্রমণের তথ্য-কণিকা
একতা ডেস্ক :
এই কলামটি সাপ্তাহিক একতার ৫৬ বর্ষের
সংখ্যা-৩২ থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। আজ মুদ্রিত হচ্ছে
তার ১৭তম কিস্তি।
(১৭)
গেরিলা যোদ্ধাদের অবশ্য পালনীয় নীতিমালা
(১) জনগণের উপর আস্থা রাখতে হবে। তাদের উপর নির্ভর করেই সমস্ত লড়াই চালাতে হবে। কিন্তু প্রত্যেক লোক সম্পর্কে সর্বক্ষণ সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
(২) জনগণের নিরাপত্তার প্রতি লক্ষ্য রেখে লোকালয় বা বসতি এলাকার ভিতরে কোন আক্রমণ বা সংঘর্ষ সংঘটন পরিহার করাই উচিত। তবে অনিবার্য প্রয়োজন হলে জনগণকে জানিয়ে ও তাদের সাথে পরামর্শ করে ড়ঢ়বৎধঃরড়হ চালানো যাবে।
(৩) সমস্ত চলাচল ও action সাধারণতঃ রাত্রেই করতে হবে। বিশেষ অবস্থা বা প্রয়োজন হলে দিনে চলাচল বা ধপঃরড়হ করা চলবে।
(৪) প্রত্যেকটা ড়ঢ়বৎধঃরড়হ এর পূর্বে সমস্ত খবর ও তথ্যাদি নিখুঁতভাবে জানতে হবে। পূর্ণাঙ্গ ও যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক যোদ্ধার কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে এবং পরীক্ষা (check up) করে দেখতে হবে।
(৫) শত্রুর শক্তির উপর পূর্ণ প্রাধান্য না হলে, অন্ততঃ শতকরা ৭৫ ভাগ সাফল্য নিশ্চিত না হলে কোন ধপঃরড়হ এ যাওয়া চলবে না। সব সময় সর্বনিম্ন ক্ষতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ধপঃরড়হ এ যাওয়া দরকার।
(৬) আহত সহযোদ্ধাকে ফেলে আসা চলবে না।
(৭) সম্পূর্ণ নিরাপদে যাওয়ার ও ফিরে আসার এক বা একাধিক পথ এবং পরে একত্রিত হওয়ার নিরাপদ স্থান পূর্বে নির্ধারণ না করে কোন operation এ যাওয়া উচিত হবে না।
(৮) যেখানে থাকবে সেখানে সব সময় নিজেদের আত্মরক্ষা ও আক্রমণ শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
(৯) মূল আশ্রয়স্থল থেকে action এর স্থান ন্যূনতম ১০ মাইল দূরে নির্ধারণ করতে হবে। action এর স্থান থেকে মাঝপথের (ফিরতি পথের) মিলন কেন্দ্রের দূরত্ব কমপক্ষে ৫ মাইল হওয়া দরকার। নিজেদের বিকল্প আশ্রয়স্থল না থাকলে বর্তমান আশ্রয়স্থলে আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত operation চালানো যাবে না।
(১০) বিশ্বস্ত লোক ছাড়া পথ প্রদর্শক নিয়োগ করা চলবে না।
(১১) সাধারণ লোকের কোন রিপোর্ট পরীক্ষা না করে গ্রহণ করবে না। নিজের লোক দিয়েই পরীক্ষা করতে হবে।
(১২) শুধুমাত্র সংশ্লিষ্টরা ছাড়া কারুর কাছে গোপন বিষয় প্রকাশ করা চলবে না।
(১৩) কেহ অবস্থান ঘাঁটি ত্যাগ করলে বা গ্রেফতার হয়ে গেলে, তখুনি সকলকে অবস্থানস্থল ছেড়ে অন্য নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে।
(১৪) গুরুত্ব অনুসারে আক্রমণের লক্ষ্য হবে-
(ক) অস্ত্র সংগ্রহ। (খ) যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যয় করা। (গ) শত্রুর সর্বপ্রকার যুদ্ধ সহায়ক ও বিদেশী মুদ্রা অর্জনের সম্পদ। (ঘ) শত্রুর সহযোগী শাসনযন্ত্র থানা স্টাফ।
(ঙ) শত্রু সেনার অতর্কিত দল, দালাল ও রাজাকার বাহিনীর নেতৃবর্গ। সৎ ও বন্ধু রাজাকার বা পুলিশদের স্বপক্ষে আনতে হবে।
শহর এলাকায় লক্ষ্য ও কাজ হবে: ধ্বংসাত্মক কাজ, অনুপ্রবেশ, সংবাদ ও তথ্য সংগ্রহ।
(১৬) শত্রু যখন ছোট ছোট দলে চলাচল করে এবং যখন কোন প্রকার আক্রমণের আশঙ্কা করে না তখনই শত্রুকে আক্রমণ করতে হবে।
(১৭) Action গ্রুপের বেশীর ভাগ লোককে বিশেষতঃ অনভিজ্ঞ nervous লোকদের ambush ও raid এর সময় action এর সমাপ্তি আগ-পর্যন্ত cocking থেকে বিরত রাখবে।
(১৮) অসত্য খবর প্রচার করা, পরাজয়ের খবর গোপন করা, বিজয়কে বাড়িয়ে দেওয়া কখনো চলবে না।
(১৯) শত্রুর চলাচলের অবস্থায় অগ্রগামী শত্রু দলের প্রথম ব্যক্তিকে হত্যা করার নিশ্চিত ব্যবস্থা করতে হবে।
(২০) হঠাৎ আক্রমণের সুযোগ শত্রুর আগে নিজেকে নিতে হবে। শত্রুকে একটা নির্দিষ্ট এলাকায়, একটা নির্দিষ্ট ধরণের action এ অভ্যস্ত করে নেবার পর ক্ষিপ্রগতি ও নির্মমভাবে একই জায়গায় অন্য ধরণের action করতে হবে।
(২১) শত্রু যাতে ব্যাপক ও বিপুলভাবে গুলীবর্ষণ করে গোলাগুলি নষ্ট করে এবং অবশেষে নিজের অবস্থান ছেড়ে দেয় তার চেষ্টা করতে হবে। অন্যদিকে, সবসময় গোলাগুলি বাঁচানোর দিকে নিজেদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
(২২) স্মরণ রাখতে হবে যে শত্রুকে বিভ্রান্ত না করে বিস্মিত ও বোকা না বানিয়ে তাকে ঘায়েল করা যাবে না। তার জন্য দরকার নিজেদের বিচক্ষণতা প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং উদ্ভাবনী শক্তি।
(২৩) শত্রু সৈন্য কোন নতুন এলাকায় আসলে তাকে পথঘাট চিনে নেয়ার আগেই আক্রমণ করা বাঞ্চনীয়।
(২৪) কখনো শত্রুর ঘেরাওর মধ্যে পড়বে না।
(২৫) লড়াই এর কৌশল সব সময়ই নমনীয় ও পরিবর্তনযোগ্য রাখতে হবে। কষ্ট সহিজ্ঞুতা, নমনীয়তা বিচক্ষণতা ও গোপনীয়তার নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
(২৬) উপরে উল্লেখিত সমস্ত নিয়মাবলী সাধারণ নীতি হিসাবেই (guide line only) দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অবস্থায় গেরিলা নেতা নিজ বুদ্ধি ও বিবেচনা খাটিয়ে তাহার নেতৃত্ব পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিচালকণ্ডলী
৬-৮-১৯৭১
চলবে
প্রথম পাতা
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে সিপিবির শোক
‘কৌশলবিদ’
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান, অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি ও বামপন্থিদের দায়
সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ
সারা বছর কাজের নিশ্চয়তা ও রেশনিং চালুর দাবি
ডেঙ্গু, হাম ও উপসর্গে প্রাণহানি বাড়ছেই
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পসম্পদ বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেয়ার উদ্যোগ বন্ধ কর
দেশকে মার্কিন ‘করদ রাজ্যে’ পরিণত করার চক্রান্ত রুখতে হবে
ফুটবলকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ইনফান্তিনো?
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন