বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলার সময় মারাত্মক ফাউল করায় লাল কার্ড দেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনএকতা ক্রীড়া প্রতিবেদক :
যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছেন ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইচ্ছা হলো তো, নতুন একটা শান্তি পুরস্কার প্রচলন করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে দিলেন। ইচ্ছা হলো তো, ইরানের বেইস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নিলেন। এশিয়ার দেশটির যাওয়া-আসার পথে হাজার ঝামেলার কোনোটাই মেটালেন না। ইচ্ছা হলো যুক্তরাষ্ট্রের একজন খেলোয়াড়ের লাল কার্ডের শাস্তি এক বছর ‘স্থগিত’ করে দিলেন।
এতো দিন তার ইচ্ছাগুলো ইউরোপকে ঠিক ছুঁতে পারছিল না। তাই সেগুলো ছিল ‘স্বাভাবিক।’ কিন্তু ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফোলারিন বালোগনের ‘শাস্তি মওকুফে’ যেন ভ্রমরের চাকে ঢিল পড়ল!
সঙ্গে সঙ্গে গর্জে উঠল বেলজিয়াম, উয়েফা। ফিফার উপর চড়াও হলেন ইউরোপের রাজনীতিকরা। এতোদিন ইরানের সঙ্গে যা হয়েছে তা নিয়ে একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি তারা।
একজন খেলোয়াড়কে পেছন থেকে লাথি দেওয়ায় লাল কার্ড দেখেন বালোগন। সরাসরি তাকে কার্ড দেখাননি রেফারি। ভিএআরের পরামর্শে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি। লাল কার্ড দেখায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল না বালোগনের।
এই কার্ড পর্যালোচনার জন্য ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোকে ফোন দেন ট্রাম্প। তিনি নিজেই সেই কথা পরে স্বীকার করেন। ফোন পাওয়ার পর বালোগনের শাস্তি স্থগিত করে ফিফা। কোন যুক্তিতে এবং কীসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এর ব্যাখ্যাও দেয়নি তারা।
এদিকে, বালোগনের কার্ড নিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ওটা ফাউল ছিলই না। এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেনি ফিফা। তবে ওই রেফারির পাশে দাঁড়ানোর ভান করে তারা। দুয়েকটা বিবৃতি দিয়ে রেফারির সততা, পেশাদারিত্বসহ নানা বিষয় বোঝানোর চেষ্টা করে।
এতে অবশ্য কোনো কাজ হয়নি। ফিফা যে ট্রাম্পের কথা মতো চলছে তা সবার কাছেই স্পষ্ট হয়ে যায়। এর আগেও ক্ষমতা ও অর্থের পাশাপাশি চলেছে ফিফা। খুব বড় রদবদল না হলেও সামনের দিনেও হয়তো পরিস্থিতি একই থাকবে।
বিভিন্ন আসর আয়োজনে ফ্যাসিস্টদের অতীতেও সাহায্য করেছে ফিফা। তবে এতো স্পষ্টভাবে কখনও কারো আজ্ঞাবহ ছিল না তারা। এবার যেন সব সীমানা ছাড়িয়ে গেছে তারা।
ফিফার কড়া নিন্দা জানিয়ে উয়েফা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, এই সিদ্ধান্ত খেলার সততার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। উয়েফা তাদের অবিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেছে স্পষ্ট ভাষায়, “এমন নজিরবিহীন, অবাধ্য এবং অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমরা আমাদের অবিশ্বাস প্রকাশ করছি।”
কিন্তু এই উয়েফাই কিছু দিন আগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করায় চুপ ছিল। একজন খেলোয়াড়কে কনুই মারায় তিন ম্যাাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক। কেবল আর্মেনিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচে শাস্তি কাটান তিনি। পরের দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আর কাটাতে হয়নি তার। শাস্তি বহাল থাকলে বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারতেন না তিনি।
খেলার সুযোগ পেয়ে যে তিনি অনেক কিছু করতে পেরেছেন এমন না। বরং নিজের ছায়া হয়েছিলেন রোনালদো। সতীর্থদের কাছ থেকে পাস পাননি তিনি। নিজেদের সেরা ছন্দের ধারে কাছেও ছিলেন, বয়স হয়ে গেছে ৪১। তাকে গুরুত্বপূর্ণ কেউ মনে করেননি সতীর্থরা, দেখেছেন স্কোয়াডের আরেকজন সদস্য হিসেবে। স্পেনের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে বদল করার ‘সাহস’ করতে পারেননি কোচ রবের্তো মার্তিনেস। আগের ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেওয়া গসালো রামোসকে মাঠেই নামাননি!
পর্তুগালের মতো শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কার্লো আনচেলত্তির কোচিংয়ে উন্নতির কোনো আভাস দেখা যায়নি তাদের খেলায়। চোট কাটিয়ে কিছুক্ষণ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন নেইমার। এই ব্যর্থতার পরও চার বছরের জন্য টিকে গেছেন আনচেলত্তি। ২০৩০ পর্যন্ত তাকে কোচ হিসেবে রাখার কথা বলেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন।
গত দুই আসরের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স জায়গা করে নিয়েছে সেমিফাইনালে। ইউরোপের বাইরে একমাত্র দল হিসেবে এখনও টুর্নামেন্টে টিকে আছে কেবল আর্জেন্টিনা।