পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে ক্ষেতমজুর সমিতি ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির বর্ধিত সভাএকতা প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির বর্ধিত সভায় বক্তারা অবিলম্বে পল্লী রেশনিং চালু করে চাল, ডাল, তেল সহ নিত্যপণ্য প্রদান, ষাটোর্ধ্ব মজুরদের বিনা জমায় মাসে ১০ হাজার টাকা পেনশন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
গত ১০ জুলাই সকালে রাজধানীর মুক্তিভবনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা। সভায় বক্তারা ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের সারা বছর কাজ, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও নেতৃবৃন্দ, বাজেটে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত পৃথক বরাদ্দ না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সভায় বলা হয় পানিতে তলিতে ফসল নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বর্গাচাষীদের যথাযথ ক্ষতিপুরণের দাবি করেছিল ক্ষেতমজুর সমিতি। কিন্তু দেখা গেছে এক্ষেত্রে বিশাল অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। যারা কৃষক নয় এবং ফসলও করেনি তারাও প্রণোদনার তালিকায় নাম আছে। অথচ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বেশিরভাগেরই নাম তালিকায় নেই। আবার প্রণোদনার জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি চাল তিন মাস দেওয়ার সিদ্ধান্তও হাস্যকর। নেতৃবৃন্দ বলেন, একেকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বর্গাচাষী যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার অর্ধেক ক্ষতিপুরণ দিলেও মানা যেত। নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে যথাযথ ক্ষতিপুরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় আরও বলা হয়, গরিবের টাকায় বাজেট হলেও তাদের জন্য বরাদ্দ থাকে নামমাত্র। আবার যা বরাদ্দ থাকে তার বড় অংশ লুটপাট হয়ে যায়। সভা থেকে আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় সমাবেশ সফল করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় আলোচনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক কল্লোল বনিক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতা লোকনাথ বর্মন, কেন্দ্রীয় সদস্য ও গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিরোজ আলম মামুন, গোপালগঞ্জের নেতা অধ্যাপক নীরদ মজুমদার, রাজবাড়ী জেলার নেতা সন্তোষ কুমার দাস, ঢাকার নেতা মনিরুজ্জামান মিলন প্রমুখ।
এদিকে, একই দিনে সংগঠনের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির বর্ধিত সভা মালগুদামস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক, কেন্দ্রীয় নেতা মোজাহারুল হক। সভায় অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতালেব হোসেন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা নলিনী সরকার, শেরপুর জেলার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নেতা মাসুম ইবনে শফিক, জামালপুর জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল করিম, ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য সুশান্ত দেবনাথ খোকন, ময়মনসিংহ জেলার সাধারণ সম্পাদক গোলাম হক, ময়মনসিংহে জেলা কমিটির নেতা দিলীপ দাস, ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আব্দুল কাদের মাস্টার, নেত্রকোনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ক্ষেতমজুর নেতা ইসমাইল হোসেন ও বদরুল ইসলাম।
সভায় ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের অধিকার আদায়ে লড়াই জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। সভায় সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ, গ্রাম কমিটি গঠন, উপজেলা ও জেলা সম্মেলন সমাপ্ত করা এবং জাতীয় সমাবেশ সফল করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান, মেম্বার প্রার্থী চূড়ান্ত করে নির্বাচন করার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।