ডেঙ্গু, হাম ও উপসর্গে প্রাণহানি বাড়ছেই

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বাড়তেই আছে। এছাড়া, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ৭৫০ আর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সংখ্যা ২৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ নিয়ে দেশে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া এবং সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে। গত ১০ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৩ হাজার ৩২৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ জনের। এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২ হাজার ৮৩২ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮৯ হাজার ২৩৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ৭ হাজার ৮১৫ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে জুনে, এই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৯০৭ জন। চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৭১১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী আর মৃতদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। এর আগে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত ছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন। শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ১৪২ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬৪৯ জন। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দেয়ামাত্রই কোনো ধরনের অবহেলা না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে প্রচণ্ড জ্বর ও শরীরে গুটি বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করে, হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা কার্যত হামেই মৃত্যু। রোগ শনাক্তের সীমাবদ্ধতার কারণে নিশ্চিত হামে মৃত্যু বলা যাচ্ছে না। হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশব্যাপী চলছে টিকাদান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি, শতভাগের বেশি শিশু টিকার আওতায় এসেছে। তাহলে এখন প্রশ্ন- টিকা দেয়ার দুই মাস হতে চললেও কেন কমছে না সংক্রমণ? টিকা সব শিশু পাচ্ছে কি-না তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..