সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। এক বিবৃতিতে জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি, গত ৪ জুলাই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। সে অনুষ্ঠানে সংসদের ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও সরকারি দলের চিফ হুইপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করে বক্তব্য রেখেছেন। আমরা মনে করি, এ ঘটনা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশবাসীর অনুভূতির প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের শামিল।’ নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবন আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতম গণহত্যাকে তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে এড়িয়ে গিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিক্সন-কিসিঞ্জার প্রশাসন গোপনে পাকিস্তানকে সামরিক ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছিল। ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় যখন প্রায় দ্বারপ্রান্তে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে পরমাণুশক্তিচালিত সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ভূমিকা আমাদের দেশবাসী আজও তীব্র ঘৃণার সাথে স্মরণ করে।’ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহতভাবে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের উপর সামরিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসন পরিচালনা করছে। তারা ৮০ বছর ধরে ফিলিস্তিনে গণহত্যাকারী যুদ্ধবাজ ইসরায়েলকে প্রত্যক্ষ মদদ দিচ্ছে। সম্প্রতি ইরানে হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। ভেনিজুয়েলায় হামলা চালিয়ে সেদেশের প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক অপহরণ করেছে। বছরের পর বছর কিউবাকে অবরুদ্ধ করে রেখে সেদেশের জনগণের জীবনে সীমাহীন দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির নামে বাংলাদেশের উপর গোলামি-চুক্তি চাপিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী ভূরাজনৈতিক কৌশলের সাথে জড়িয়ে ফেলার জন্য অব্যাহত ষড়যন্ত্র চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবাদ-প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘এ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আমরা উদ্বেগজনক মনে করি। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নতজানু নীতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান তাদের দূতাবাসে না করে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের অনুমতি পেয়েছে। আমরা সরকারের নতজানু নীতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধ বিরোধী জোটের কেন্দ্রীয় নেতা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্কাফী রতন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূইয়া, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসিরউদ্দীন নাসু, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..