গণসংগঠন

পার্টি ও গণসংগঠনের মিথস্ক্রিয়া

জুলফিকার আহমেদ গোলাপ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচে না, তেমনি গণসংগঠন ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টি বিকশিত হবে না। তবে পার্টি ও গণসংগঠনের মিথস্ক্রিয়া বা আন্তঃসম্পর্ক যথাযথভাবে কার্যকর করার ওপর পার্টি ও গণসংগঠন উভয়েরই বিকাশ নির্ভরশীল। গণসংগঠন নেহাতই ‘ক্লাব’,‘চক্র’ নয় কিংবা কোনো ‘গল্পের আসর’ বা ‘অলস আড্ডা’ নয়। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার অমানবিকতা, নির্মম শোষণ, পরস্পর বিচ্ছিন্নতার বিপরীতে দেশপ্রেম, মানবপ্রেমের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৈপ্লবিক উজ্জীবন ঘটানোর যোগ্য সহায়ক শক্তি হয়ে উঠতে হবে গণসংগঠনকে। সেই গণসংগঠনের অভ্যন্তরীণ জীবন হবে প্রাণবন্ত আলোচনা, তত্ত্বচর্চা আর নিরবচ্ছিন্ন কাজের আয়োজন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্র। গণসংগঠন স্বাধীন সংগঠন। কিন্তু গণসংগঠনের পার্টি কমরেডরা পার্টির গঠনতন্ত্র, পরিচালনা পদ্ধতি ও শৃঙ্খলা থেকে স্বাধীন নন। আবার তারা গণসংগঠনের গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র কর্মসূচি অনুসরণ করেই কাজ করেন। তবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অথবা কায়দাকানুন করে পার্টি কর্তৃক গণসংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ বা আরোপের চেষ্টা করা অগ্রহণযোগ্য। সৃজনশীল বা যান্ত্রিক যেভাবেই হোক গণসংগঠনে জোরপূর্বক পার্টির মতামত কার্যকর করার চেষ্টা পার্টি এবং গণসংগঠনকে স্থবির এমনকি দেউলিয়া করে দেয়। পার্টি কোনোভাবেই গণসংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণের বা নির্বাচনের কর্তৃপক্ষ বা যন্ত্র হতে পারে না। গণসংগঠনের যেকোনো কমিটি বা শাখাতে পার্টি সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে একটা সময়ে সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করতে না পারার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কিংবা কোনো না কোনোভাবে স্বার্থগত বিঘ্ন সৃষ্টি হলে গণসংগঠনের নেতৃত্বের, প্রকারান্তরে পার্টি সদস্যদের মধ্যেই অন্তঃকলহ সৃষ্টি করে। এই অন্তঃকলহই গণসংগঠনকে ভাঙনের দিকে ঠেলে দেয়। গণসংগঠনকে সত্যিকারের আদর্শস্থানীয় ও গণভিত্তিক করে গড়তে হলে পার্টির প্রধান মনোযোগ থাকবে গণসংগঠনে কর্মরত পার্টি সদস্যদের যোগ্য করে গড়ে তোলা। তারা গুনে ও মানে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য হবেন। তারা গণসংগঠনের বিপুলসংখ্যক অনুসারীর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবেন। গণসংগঠনের আদর্শগত বিচ্যুতির বিরুদ্ধে সেই অনুসারীদের নিয়েই তারা সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করবেন। গণসংগঠনে পার্টি সদস্যরা পার্টি বহির্ভূতদের আস্থায় নিয়ে একীভূত হয়ে থাকবে। যারা মনে করেন পার্টিই গণসংগঠনে নেতৃত্বে পার্টি সদস্যদের বসিয়ে দেবেন, তারা নেতৃত্বের অযোগ্যতো বটেই, তারা গণসংগঠনের যেকোনো পর্যায়েই থাকার অযোগ্য। পার্টি সদস্যদের কারণে গণসংগঠনের যেকোনো ক্ষতি হলে তার দায় পার্টিকেই এবং গণসংগঠনের পার্টি সদস্যদের বহন করতে হয়। পার্টি সদস্যরা নিজ গণসংগঠনের ঐক্য সংহত ও দৃঢ় করা, গণসংগঠনের গণভিত্তি প্রসারিত করা, কর্মদক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং গণসংগঠনের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক কর্মধারা বিশ্বস্ততার সঙ্গে সমুন্নত রাখার জন্য সদা সচেষ্ট থাকবেন। গণসংগঠনের অভ্যন্তরে কোনো সঙ্কট দেখা দিলে তা সমাধানের জন্য পার্টি ও গণসংগঠনে থাকা পার্টি কমরেডরা দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে নিরসন করবেন। গণসংগঠনের ঘোষিত নীতি ও আদর্শের পরিপন্থি যেকোনো বয়ান গণসংগঠনের ভিতরে কিংবা বাইরে প্রচার, কোনো অংশের নৈরাশ্যবাদী তৎপরতা ও বুর্জোয়া দলীয় অসুস্থ সংস্কৃতির প্রভাব বা অনুপ্রবেশ রুখতে গণসংগঠনের কর্মীরা নিরলস সংগ্রাম অব্যাহত রাখবেন। এক্ষেত্রে পার্টি কমরেডরা অগ্রণী ও নেতৃত্বের ভূমিকা নেবেন। গণসংগঠনে পার্টি কমরেডদের নিজেদের মধ্যে কিংবা পার্টি সদস্য ও পার্টি বহির্ভূতদের মধ্যে কোনো বিভাজন বা রেখাচিত্র গ্রহণীয় নয়। গণসংগঠনের নিয়ম নীতি প্রয়োগে শৈথিল্যের কারণে ভিতরে বা বাইরের অপতৎপরতার কারণে এরকম অবৈরী দ্বন্দ্ব ধৈর্যের সঙ্গে নিরসন করতে হবে এবং বৈরী দ্বন্দ্ব কঠোর ও সাহসের সাথে মোকাবিলা করতে হবে। নচেৎ পার্টি ও গণসংগঠন বিতর্কিত হবে, জনসমর্থন ও গণভিত্তি প্রসারে বিঘ্ন ঘটবে। সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে শ্রেণিসংগ্রাম, গণসংগ্রামসহ বহুমুখী বিপ্লবী কাজকে মূল কাজ গণ্য করা, স্থানীয়, জাতীয়, আংশিক আন্দোলন, আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে উপযুক্ত কৌশল নিয়ে গণসংগ্রাম তীব্র করা এবং এজন্য লেনিনীয় নীতিমালা অনুযায়ী সময়োপযোগী পার্টি ও বিপ্লবী ধারার গণসংগঠনে গড়ে তোলার কাজে মনোনিবেশ করতে পারলে এহেন বহুমুখী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পার্টি ও গণসংগঠনের গণভিত্তি বিস্তৃত হবে এবং নানা পর্যায়ে বিরাজিত বাধাসমূহ অপসৃত হতে থাকবে। গণসংগঠনে পার্টি সদস্যরা গুণে, মানে, আচার-ব্যবহারে গণসংগঠনের নেতৃত্ব, কর্মী ও সমর্থকদের আপন মানুষ হয়ে উঠবেন ও আদর্শস্থানীয়, অনুকরণীয় এবং কার্যত আত্মত্যাগী ব্যক্তিত্ব হবেন। তাদের দেখে, বুঝে অন্যরা পার্টির প্রতি আকৃষ্ট হবেন, পার্টি করতে আগ্রহ প্রকাশ করবেন। এইভাবে এবং এই পথেই পার্টি ও গণসংগঠনের বিস্তীর্ণ প্রভাব বলয় গড়ে উঠবে, যা বিপ্লবের ক্ষণকে ক্রমাগত নিকটবর্তী করবে। পার্টি ও গণসংগঠনের এই মিথস্ক্রিয়াটি সবার উপলব্ধি করা খুবই জরুরি। লেখক : সভাপতি, সিপিবি, রাজশাহী জেলা কমিটি।
বিশেষ রচনা
শাসকদের ‘উন্নয়ন’ থেকে জনগণের অভ্যুত্থান এবং তারপর
একতার জন্য প্রত্যয়
বাংলাদেশে নয়া উদারবাদ উৎপত্তি-বিকাশ ও সংকট
একতা পড়ো, শ্রমিক শ্রেণির একতা গড়ো, শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করো
ইতিহাস কাউকেই ছাড় দেয় না
কমিউনিস্ট পার্টি ও কার্ল মার্কসের প্রাসঙ্গিকতা
একতার অবিচল পথচলা শেষ হয় না
গণমাধ্যমের গলায় দড়ি
সকল বাধা মোকাবিলা করে একতা এগিয়ে যাবেই
একতার লড়াই চলছে, চলবে
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি কি ঔপনিবেশিক অর্থনীতির নতুন রূপ?
ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের শ্রেণি চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি
কমিউনিস্ট দৈনিক ‘স্বাধীনতা’
সত্যেনদার দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে
যুদ্ধ ও করণীয়
অধিকারের সংগ্রামে অদম্য ‘একতা’
চব্বিশের কাঠগড়ায় বুর্জোয়া রাজনীতি এবং শ্রমিক শ্রেণির শিক্ষা
সংবাদপত্র ও রাজনীতি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..