একতা

অধিকারের সংগ্রামে অদম্য ‘একতা’

আরিফুল ইসলাম নাদিম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
আরেকটি বছর পেরিয়ে সাপ্তাহিক একতা এসে দাঁড়িয়েছে তার আরেক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রান্তে। কাগজে-কলমে এটি একটি সংখ্যার হিসাব মাত্র, কিন্তু ইতিহাসের চোখে এটি একটি অবিরাম সংগ্রামের রক্তাক্ত, অথচ অটুট ধারাবাহিকতা। ১৯৭০ সালে যখন এই পত্রিকার জন্ম হয়েছিল, তখন এই ভূখণ্ড পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের নিগড়ে বন্দি, মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের নিচে চাপা। সেই অন্ধকার সময়ে জন্ম নেওয়া একতা আজ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, স্বপ্ন ও প্রতিরোধের অগ্নিসাক্ষী হয়ে টিকে আছে-কোনো নরম আপসে নয়, কঠোর অবিচলতায়। সাপ্তাহিক একতাকে অনেকে কেবল একটি রাজনৈতিক দলের মুখপত্র হিসেবে দেখেন। কিন্তু যাঁরা এই পত্রিকার পাতায় পাতায় হেঁটেছেন, তাঁরা জানেন-এটি কোনো দলীয় প্রচারপত্র নয়, এটি একটি অঙ্গীকার, সংগ্রামের হাতিয়ার। এই অঙ্গীকার শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দামের, নারীর সমান মর্যাদার, সংখ্যালঘুর নিরাপদ বসবাসের, এবং সর্বোপরি একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার। যখন মূলধারার সংবাদমাধ্যম পুঁজির স্বার্থে নীরব থাকে, নতজানু থাকে ক্ষমতার সামনে, তখন একতা কথা বলে ওঠে সেই মানুষদের হয়ে, যাদের ঘাম আর রক্তে এই দেশের ভিত্তি গড়া। এই দায়বদ্ধতা কোনো নতুন কথা নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী দিনগুলোতে, যখন লাখো মানুষ জীবন দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন, শোষণমুক্ত রাষ্ট্রের স্বপ্নে, তখন এই পত্রিকা সেই স্বপ্নের পক্ষে নির্ভয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্বাধীনতার সেই চেতনা কেবল একটি পতাকা বদলের চেতনা ছিল না–তা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আগুন-চেতনা। আজ স্বাধীনতার এত বছর পরও প্রশ্ন জাগে-সেই চেতনা কি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে? উত্তরটা আমাদের সবারই নখদর্পণে। শ্রমিক আজও ন্যায্য মজুরি পায় না, কৃষক আজও ফড়িয়া আর মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে জিম্মি, নারী আজও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। এই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একতার ভূমিকা আজ আরও বেশি জরুরি, আরও বেশি প্রখর হয়ে ওঠে। কমিউনিস্ট রাজনৈতিক তত্ত্বে পার্টি-পত্রিকাকে কখনোই নিছক তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়নি। লেনিন তাঁর বিখ্যাত রচনা “কী করিতে হইবে” গ্রন্থে পত্রিকাকে বর্ণনা করেছিলেন “সম্মিলিত প্রচারক, সম্মিলিত আন্দোলক এবং সম্মিলিত সংগঠক” হিসেবে। এই তিনটি ভূমিকা একসাথে মিলেই একটি বিপ্লবী পত্রিকার প্রকৃত চরিত্র নির্ধারণ করে। প্রচারক হিসেবে পত্রিকা শ্রেণিসংগ্রামের বৈজ্ঞানিক সমাজতান্ত্রিক তত্ত্ব, ইতিহাসের বস্তুবাদী ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক অর্থনীতির বিশ্লেষণ জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়-একটি সুসংগত বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণের হাতিয়ার হিসেবে, বিক্ষিপ্ত ঘটনার নিছক প্রতিবেদন হিসেবে নয়। আন্দোলক হিসেবে পত্রিকা তাৎক্ষণিক অন্যায়, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষুব্ধ ও সক্রিয় করে তোলে-একটি মজুরি বৈষম্য থেকে শুরু করে একটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত, প্রতিটি ঘটনাকে শ্রেণিসংগ্রামের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে স্থাপন করে জনমতকে জ্বালিয়ে তোলে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, সংগঠক হিসেবে পত্রিকা বিক্ষিপ্ত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে একটি কাঠামোর মধ্যে সংযুক্ত করে। লেনিনের ভাষায়, নিয়মিত প্রকাশিত একটি সর্বজাতীয় পত্রিকা বিতরণ, লেখা, সম্পাদনা ও অর্থ সংগ্রহের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা কর্মীদের এক অদৃশ্য কিন্তু দৃঢ় সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে বেঁধে ফেলে-তিনি এই ভূমিকাকে তুলনা করেছিলেন নির্মীয়মাণ ভবনের চারপাশে দাঁড় করানো “লোহার কাঠামোর” সাথে, যা ইট গাঁথার আগেই ভবনের রূপরেখা নির্ধারণ করে দেয়। এই তত্ত্ব আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিকাশ কোনো স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া নয়, কোনো আপনাআপনি ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণ নয়। শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রতিবাদ যদি সমাজতান্ত্রিক চেতনার সাথে যুক্ত না হয়, তবে তা বিচ্ছিন্ন, ক্ষণস্থায়ী বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়-কখনো তা সংগঠিত, দিকনির্দেশনাযুক্ত আন্দোলনে রূপান্তরিত হয় না, নিভে যায় নিজের আগুনেই। এই বাইরে থেকে চেতনা সঞ্চারের প্রক্রিয়াতেই পত্রিকার ভূমিকা কেন্দ্রীয়-এটি শ্রেণি-অনুভূতিকে শ্রেণি-চেতনায়, আর বিক্ষিপ্ত ক্ষোভকে সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সেতুবন্ধন রচনা করে। এ কারণেই ইতিহাসে প্রতিটি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সূচনা হয়েছে একটি পত্রিকাকে কেন্দ্র করে–রুশ বিপ্লবের আগে ইস্ক্রা, ইজভেস্তিয়া, প্রাভদা যেমন বিচ্ছিন্ন কমিউনিস্ট গোষ্ঠীগুলোকে এক সুতোয় গেঁথেছিল, বাংলাদেশেও একতা সেই একই ঐতিহাসিক ধারার জীবন্ত উত্তরাধিকার বহন করে। এই প্রেক্ষাপট থেকে দেখলেই স্পষ্ট হয়-একতাকে শক্তিশালী করা কোনো বিচ্ছিন্ন সাংবাদিক-প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, এটি সরাসরি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাংগঠনিক শক্তি বিকাশের প্রশ্ন। যে পার্টি তার পত্রিকাকে অবহেলা করে, সে নিজের সাংগঠনিক মেরুদণ্ডকেই দুর্বল করে ফেলে। বিপরীতে, একতার পাঠক-গ্রাহক-বিতরণ নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা মানেই সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রগতিশীল কর্মী, সহানুভূতিশীল মানুষ ও সম্ভাব্য সংগঠকদের একটি অদৃশ্য সাংগঠনিক জালে একসূত্রে বাঁধা। প্রতিটি নতুন গ্রাহক, প্রতিটি নতুন এজেন্ট, প্রতিটি নতুন পাঠক-চক্র আসলে পার্টি সংগঠনের একটি নতুন কোষ তৈরি করে। একতার বিকাশ আর কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিকাশ তাই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রক্রিয়া নয়-উভয়ে একই সংগ্রামের দুটি অবিচ্ছেদ্য প্রাণশক্তি। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি যাঁদের শ্রমে গড়ে উঠেছে-পোশাকশিল্পের নারী শ্রমিক, পাটকলের মেহনতি হাত, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চালক, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক–তাঁদের কথা কয়টি সংবাদমাধ্যম নিয়মিত তুলে ধরে? রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ করে দেওয়ার পর হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, অথচ জাতীয় বাজেট বা নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তাঁদের কণ্ঠ প্রায় অনুপস্থিত। একতা সেই শূন্যস্থান পূরণ করে, নির্ভীকভাবে। পাটকল রক্ষার দাবিতে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিটি সংগ্রাম, প্রতিটি স্মারকলিপি, প্রতিটি সমাবেশের খবর একতার পাতায় স্থান পায়-কারণ আমরা বিশ্বাস করি, একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি মাপা হয় তার শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান দিয়ে, কোনো জিডিপির চাকচিক্য দিয়ে নয়। শুধু কলকারখানার শ্রমিক নয়, অসংগঠিত খাতের বিশাল জনগোষ্ঠী-রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চালক, দিনমজুর, গৃহকর্মী-যাঁরা কোনো শ্রম আইনের সুরক্ষা পান না, তাঁদের কথাও একতা তুলে ধরে সমান গুরুত্বে। এই মানুষগুলোর সংগঠিত হওয়ার অধিকার, ন্যূনতম মজুরির অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশের অধিকার-এসব দাবি কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো বেঁচে থাকার মৌলিক শর্ত। যতদিন এই মানুষগুলোর অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে–এই সত্য একতা কখনো ভুলে যায় না। একতার ইতিহাস বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, প্রতিটি পর্বেই বামপন্থি রাজনীতি ও শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম একসূত্রে গাঁথা ছিল। সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানেও সামাজিক বৈষম্যের প্রশ্ন যেভাবে সামনে এসেছিল, তা প্রমাণ করে–বাংলাদেশের মানুষ আজও একটি সাম্যভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন লালন করে, সেই স্বপ্ন কখনো নিভে যায়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার পালাবদল হলেও কি সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটেছে? ইতিহাস আমাদের বারবার শিখিয়েছে যে, কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে পরিচালিত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রকৃত বৈষম্যবিরোধী সমাজ গড়ে তুলতে পারে না। প্রয়োজন এমন এক রাজনৈতিক শক্তির, যা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মেহনতি মানুষের পক্ষে অবিচল দাঁড়ায়, যাদের রাজনীতির কেন্দ্রে থাকে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তের স্বার্থ, পুঁজি বা ক্ষমতার স্বার্থ নয়। এই বিশ্বাস থেকেই একতা তার সাংবাদিকতাকে কেবল তথ্য পরিবেশনের কাজ মনে করে না, একে দেখে একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা হিসেবে, একটি সংগ্রামের অস্ত্র হিসেবে। বাংলাদেশের বহুত্ববাদী, ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষা করা একতার আরেকটি অটুট অঙ্গীকার। যখনই সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, যখনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন নেমে আসে, তখন একতা নীরব থাকেনি-থাকবেও না। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে জনগণকে বিভক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে এই পত্রিকা সবসময় সোচ্চার থেকেছে, কারণ সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ শেষ পর্যন্ত শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। একজন হিন্দু কৃষক আর একজন মুসলিম কৃষকের শ্রেণিস্বার্থ একই জায়গায়-উভয়েই ফড়িয়া, মহাজন আর অসম বাজারব্যবস্থার শিকার। ধর্মের নামে এই মানুষগুলোকে বিভক্ত করা আসলে তাদের প্রকৃত শত্রুকে আড়াল করার এক নিখুঁত কৌশল, যা একতা প্রতিটি সংখ্যায় উন্মোচন করার চেষ্টা করে। নারী আন্দোলনের প্রতিটি অর্জন ও সংগ্রামের ধারাবিবরণীও একতার পাতায় বরাবরই সমান গুরুত্ব পেয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমান মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণ-এসব দাবি কোনো বিচ্ছিন্ন ইস্যু নয়, বরং সামগ্রিক মুক্তি সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যে সমাজে নারী মুক্ত নয়, সেই সমাজ প্রকৃত অর্থে মুক্ত হতে পারে না। এই দীর্ঘ পথচলা সহজ ছিল না, কখনোই ছিল না। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী একতার কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করেছে–কখনো বিজ্ঞাপন বন্ধ করে, কখনো প্রত্যক্ষ হয়রানির মাধ্যমে। কিন্তু প্রতিবারই এই পত্রিকা আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে টিকে থেকেছে, প্রমাণ করেছে যে সত্য কথা বলার সংকল্পকে দমিয়ে রাখা যায় না। এই টিকে থাকা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক কৃতিত্ব নয়-এটি হাজারো পাঠক, গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী ও কর্মীর সম্মিলিত সংগ্রামের ফসল, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে এই কাগজকে বাঁচিয়ে রেখেছেন নিজেদের সাধ্যমতো অবদান দিয়ে, প্রতিকূলতার সামনে মাথা নত না করে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কেবল অতীতকে স্মরণ করার উপলক্ষ নয়, বরং আগামীর প্রতি নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার মুহূর্ত। বাংলাদেশ আজ এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জও এসেছে। এই মুহূর্তে প্রয়োজন এমন এক সাংবাদিকতার, যা ক্ষমতার তোষামোদ নয়, বরং জনগণের প্রকৃত অবস্থার নির্ভীক প্রতিফলন ঘটায়। প্রয়োজন এমন এক কণ্ঠস্বরের, যা শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের পক্ষে অবিচল থাকে, যতই প্রতিকূলতা আসুক না কেন। আর তত্ত্ব যেমন শেখায়, এই কণ্ঠস্বরকে কেবল টিকিয়ে রাখলেই চলবে না–একে বিকশিত, বিস্তৃত ও শক্তিশালী করাই হলো আন্দোলনকে সাংগঠনিকভাবে বিকশিত করার পূর্বশর্ত। একতা এই অঙ্গীকার নিয়েই পথ চলতে চায়। আমরা জানি, এই পথ মসৃণ নয়। আর্থিক সংকট, রাষ্ট্রীয় বৈরিতা, পাঠকসংখ্যার সীমাবদ্ধতা-নানা প্রতিবন্ধকতা প্রতিনিয়ত সামনে আসে। কিন্তু যে সংগ্রামের সাথী হয়ে এই পত্রিকার জন্ম, সেই সংগ্রাম আজও শেষ হয়নি। যতদিন এই দেশে একজন শ্রমিক ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত থাকবেন, একজন কৃষক তাঁর ফসলের ন্যায্য দাম না পাবেন, একজন নারী সমান মর্যাদা থেকে বঞ্চিত থাকবেন-ততদিন একতার কলম থামবে না, থামতে পারে না। অধিকারের এই দীর্ঘ সংগ্রামে একতা একটি হাতিয়ার, জনগণের হাতিয়ার-যা দিয়ে তাঁরা নিজেদের কথা বলতে পারেন, নিজেদের সংগ্রামকে সংগঠিত করতে পারেন। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার হোক-আরও দৃঢ়ভাবে, আরও নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব পালন করে যাওয়া, একতাকে বিকশিত করে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বিকশিত করা। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, অধিকারের সংগ্রামে একতাই একমাত্র পথ, আর সেই সংগ্রামে সাপ্তাহিক একতা থাকবে অদম্য, অক্ষয়, অবিচল-আজও, আগামীতেও। লেখক : সংগঠক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, কেন্দ্রীয় কমিটি ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন
বিশেষ রচনা
শাসকদের ‘উন্নয়ন’ থেকে জনগণের অভ্যুত্থান এবং তারপর
একতার জন্য প্রত্যয়
বাংলাদেশে নয়া উদারবাদ উৎপত্তি-বিকাশ ও সংকট
একতা পড়ো, শ্রমিক শ্রেণির একতা গড়ো, শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করো
ইতিহাস কাউকেই ছাড় দেয় না
কমিউনিস্ট পার্টি ও কার্ল মার্কসের প্রাসঙ্গিকতা
সংবাদপত্র ও রাজনীতি
গণমাধ্যমের গলায় দড়ি
পার্টি ও গণসংগঠনের মিথস্ক্রিয়া
একতার লড়াই চলছে, চলবে
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি কি ঔপনিবেশিক অর্থনীতির নতুন রূপ?
ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের শ্রেণি চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি
কমিউনিস্ট দৈনিক ‘স্বাধীনতা’
সত্যেনদার দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে
যুদ্ধ ও করণীয়
একতার অবিচল পথচলা শেষ হয় না
চব্বিশের কাঠগড়ায় বুর্জোয়া রাজনীতি এবং শ্রমিক শ্রেণির শিক্ষা
সকল বাধা মোকাবিলা করে একতা এগিয়ে যাবেই

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..