
একতা প্রতিবেদক :
অবিলম্বে শ্রমিকদের সকল পাওনা দেনা পরিশোধ করে লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলস চালু করার দাবি জানিয়েছে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা।
লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলসসহ সব বন্ধ পাটকল আধুনিকায়ন করে পাটগুলো চালুর দাবিতে গত ১০ জুলাই বিকাল ৩.৩০টায় ডেমরার মালা মার্কেটের সামনে লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলের প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক একত্রিত হয়ে সমাবেশ করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের শ্রমিক ও লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলস রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ডেমরা অঞ্চলের এই দুটি জুট মিলস বিশেষত লতিফ বাওয়ানী জুট মিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে অতপ্রতভাবে জড়িত। বিগত সরকার করোনাকালে এক নোটিশে রাতের অন্ধকারে এই দুইটি পাটকলসহ বাংলাদেশের ২৪টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে। এখনও পর্যন্ত শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দেনা দেনা পরিশোধ করা হয়নি। মিল বন্ধ হলো। শ্রমিকরা তাদের তাদের কাজ হারালো। মিলের সাইরেন বাজা বন্ধ হলো, বন্ধ হলো মিলের চিমনির ধোয়া উড়া। কিন্তু বহাল থাকলো মিলের বড় কর্তারা। উৎপাদন বন্ধ হলেও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতার কোন কমতি হলো না। বহাল তবিয়তে তারা এখনও চাকুরী করে যাচ্ছে। পাটকলগুলো পুনরায় চালু করার জন্য শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করল। কিন্তু শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন-পীড়ন করে নসাৎ করে দেওয়া হল।
তিনি আরও বলেন, পাটকলগুলো চালু করার জন্য আমরা বিকল্প প্রস্তাব দিলাম। আমরা সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বললাম আমাদেরকে ১২শ কোটি টাকা দিলে আমরা পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের কথা কেউ কর্ণপাত করলেন না। অথচ বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে ডেমরা এলাকা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শ্রমিক রোগে শোকে বিনা চিকিৎসায় অর্ধাহার অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছে। তিনি সরকারকে দ্রুত মিল দুটি চালু করার জন্য জোর দাবী জানান।
শ্রমিক নেতা সুলতান মাঝি বলেন, সরকার যায় সরকার আসে কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। রাজনৈতিক দলগুলো শ্রমিকদের ব্যবহার করেন শুধু তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসাবে। একটি অভিনব গণঅভূত্থান সংগঠিত হলো, সেখানে সর্বাধিক প্রাণ দিলো শ্রমিকরা। কিন্তু শ্রমিকরা কি পেল, তাদের নিয়ে কোন আলোচনা হলো না। বন্ধ কলকারখানা চালু করা হলো না। শ্রমিকদের পাওনা দেনা মেটানো হলো না। যদিও বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা ক্ষমতায় গেলে বন্ধ কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করবেন। বাজেটে বন্ধ কলকারখানা চালু করার জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলো। আমরা আশান্বিত হলাম। এবার বোধ হয় আমাদের কষ্টের দিন শেষ হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম সরকার ১৪ জুন ২০২৬ দরপত্র ঘোষণার জন্য মিলের কর্মকর্তাদের বরাবর চিঠি দিয়েছেন। রক্তের দাগ শুকানোর আগেই সরকার তার প্রতিশ্রুতিে কথা ভুলে গেলেন! এটাই কি শ্রমিকদের ভবিতব্য।
শ্রমিক সমাবেশে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ঢাকা মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, অবিলম্বে পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যবস্থাপনায় চালু করতে হবে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা এই ৬০ হাজার কোটি টাকা সব বন্ধ কলকারখানা চালু করার করার জন্য ব্যয় করতে হবে। ডেমরার লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলস সচিবালয়ের খুবই সন্নিকটে অবস্থিত। ফলে শুরুতেই পরীক্ষামূলকভাবে লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলস দ্রুত আধুনিকায়ন কওে চালু করতে হবে। জনগণের টাকা প্রণোদনার নামে বিএনপির ব্যবসায়ীদেও খুশী করার পায়তারা জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি শ্রমিকদের সকল পাওনা দেনা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান। সমাবেশে তিনি আরো বলেন, সরকার ইতোমধ্যে একের পর এক শ্রমিকবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে যা আমাদের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নতুন করে সংকটগ্রস্থ করবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৪৪টি প্রতিষ্ঠান ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আলাপ আলোচনা ছাড়া এমনকি সংসদকে পাশ কাটিয়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত সরকারের ফ্যাসিবাদী মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসীবাদী কায়দায় বেশী দিন টিকে থাকা যায় না। তিনি সরকারকে শ্রমিকবান্ধন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ঢাকা মহানগরের নেতা শংকর আচার্য্য, ডেমরা অঞ্চলের সিপিবি নেতা টিএইচ মোস্তফা দিপু, শ্রমিক নেতা আয়াত আলী, আক্তার হোসেন, সাইদুল ইসলাম, নূর ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।