‘অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার কারণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রামে সমাবেশ করে সিপিবি
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় পাহাড়ধস ও বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় তাদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন ও আহতদের চিকিৎসার দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে গত ১০ জুলাই বিকাল ৫টায় নগরীর চেরাগী চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহার সভাপতিত্বে এবং সিপিবি সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং কোতোয়ালী থানার সভাপতি প্রদীপ ভট্ট্যাচার্যের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহ আলম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর, সহকারী সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া, শ্রমিক নেতা ফজলুল কবির মিন্টু, যুব নেতা রুপন কান্তি ধর প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের অদক্ষতা, সমন্বয়হীনতা, অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে কিছু উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বছরের বাকি সময়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম থাকে না। প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিন্তু দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায় না নগরবাসী। বক্তারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। গত ১৩ বছরে পাহাড়ধসে দুই শতাধিকের বেশি মানুষের মৃত্যু হলেও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস বন্ধ এবং স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। টানা বর্ষণে পাহাড়-সংলগ্ন বসতিগুলো যে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজানা ছিল না। সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলে অনেক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো। অনতিবিলম্বে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রতি উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন এবং চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধস সমস্যা সমাধানে সমন্বিত, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..