দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আবিষ্কৃত হলো সবচেয়ে বড় ডাইনোসর

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিজ্ঞান ডেস্ক : গবেষকেরা সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন। থাইল্যান্ডের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা কোটি বছরের পুরোনো এক বিস্ময় আবারও নাড়া দিয়েছে বিজ্ঞান জগতকে। বিশালাকৃতির এই তৃণভোজী ডাইনোসর শুধু আকারেই নয়, বরং প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর পরিবেশ ও প্রাণিজগত সম্পর্কে নতুন তথ্যও সামনে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের মতে, নতুন আবিষ্কৃত এই ডাইনোসর ছিল দীর্ঘ গলাবিশিষ্ট এক বিশাল তৃণভোজী প্রাণী। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৭ মিটার, যা পাশাপাশি দাঁড় করানো দুটি লন্ডনের দোতলা বাসের সমান। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এটি “সোরোপড” শ্রেণির ডাইনোসর, যাদের বিশাল দেহ, লম্বা গলা ও শক্তিশালী লেজ ছিল। ডাইনোসরটির জীবাশ্ম থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রাচীন শিলাস্তর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে ওই এলাকায় অনুসন্ধান চালানোর পর তারা বিশাল আকারের হাড় ও মেরুদণ্ডের অংশ খুঁজে পান। পরে বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি সম্পূর্ণ নতুন এক প্রজাতির ডাইনোসর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এত দিন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আবিষ্কৃত ডাইনোসরগুলোর বেশিরভাগই তুলনামূলক ছোট আকারের ছিল। কিন্তু নতুন এই প্রজাতি প্রমাণ করছে, কোটি কোটি বছর আগে এই অঞ্চলও পৃথিবীর বিশালাকার ডাইনোসরদের আবাসস্থল ছিল। গবেষকদের ধারণা, প্রায় ১০ কোটি বছর আগে এই ডাইনোসর পৃথিবীতে বিচরণ করত। সে সময় বর্তমান থাইল্যান্ড অঞ্চল ছিল সবুজ বন, নদী ও জলাভূমিতে ভরপুর। সেখানে প্রচুর উদ্ভিদ জন্মাত, যা এই বিশাল তৃণভোজী প্রাণীর খাদ্যের জোগান দিত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডাইনোসরটির বিশাল দেহ তাকে শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করত। দীর্ঘ গলার কারণে এটি উঁচু গাছের পাতা সহজে খেতে পারত। একই সঙ্গে শক্তিশালী পা ও বিশাল শরীর দীর্ঘ পথ চলার উপযোগী ছিল। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রাগৈতিহাসিক প্রাণিজগত নিয়ে এখনও অনেক তথ্য অজানা রয়ে গেছে। কারণ এই অঞ্চলের বহু স্থান এখনো পুরোপুরি অনুসন্ধান করা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় বা অজানা প্রজাতির ডাইনোসরের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাইনোসরের জীবাশ্ম শুধু অতীতের প্রাণীদের গল্পই বলে না; বরং পৃথিবীর জলবায়ু, ভূতত্ত্ব ও পরিবেশগত পরিবর্তনের ইতিহাসও তুলে ধরে। তাই প্রতিটি নতুন আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। গবেষকেরা এখন ডাইনোসরটির সম্পূর্ণ কঙ্কাল পুনর্গঠন এবং এর জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশ নিয়ে আরও বিশদ গবেষণা করছেন। তাদের আশা, এই আবিষ্কার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে ভবিষ্যতে ডাইনোসর গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোটি বছরের পুরোনো এই বিশাল প্রাণীর জীবাশ্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয়–পৃথিবীর ইতিহাস এখনও রহস্যে ভরা, আর সেই রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত নতুন দরজা খুলে দিচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..