আমাজনের জঙ্গলে প্রাচীন মানবসভ্যতার চিহ্ন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিজ্ঞান ডেস্ক : দক্ষিণ আমেরিকার বিশাল আমাজন অরণ্যকে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় জনশূন্য ও বিচ্ছিন্ন অঞ্চল হিসেবে কল্পনা করা হতো। অনেক গবেষকের ধারণা ছিল, ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের আগে এই অঞ্চলে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী ছাড়া বড় কোনো সংগঠিত মানবসমাজ ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান সেই ধারণাকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ব্রাজিলের আমাপা অঞ্চলে নতুন নতুন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কারের ফলে বিজ্ঞানীরা এখন মনে করছেন, আমাজন ছিল অত্যন্ত সক্রিয়, সংযুক্ত এবং জটিল মানবসভ্যতার আবাসস্থল। ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলে নির্মাণাধীন বিআর ১৫৬ মহাসড়কের পাশে সাম্প্রতিক খননকাজে উঠে এসেছে বহু প্রাচীন নিদর্শন। প্রত্নতত্ত্ববিদরা সেখানে মাটির তৈরি পাত্র, মানবমুখের মতো ক্ষুদ্র ভাস্কর্য, সমাধি-কলস এবং বিভিন্ন ধরনের মৃৎশিল্পের সন্ধান পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন শুধু শিল্পরুচির পরিচয় নয়; বরং প্রাচীন জনগোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্কেরও প্রমাণ বহন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মৃৎপাত্রের নকশা ও নির্মাণ পদ্ধতিতে ব্রাজিলের পারা অঞ্চল থেকে শুরু করে ক্যারিবীয় দ্বীপাঞ্চলের প্রভাব রয়েছে। অর্থাৎ হাজার বছর আগেই এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দীর্ঘ দূরত্বের যোগাযোগ ও বিনিময় ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। আমাপার বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রত্নতত্ত্ববিদ লুসিও ফ্লাভিও কস্তা লেইতের মতে, এই আবিষ্কারগুলো প্রমাণ করছে যে আমাজন কোনো “মানবশূন্য বনভূমি” ছিল না। বরং এটি ছিল সুসংগঠিত সমাজ ও জটিল সংস্কৃতির অঞ্চল। খননকাজে যুক্ত প্রত্নতত্ত্ববিদ মানোয়েল ফাবিয়ানো দা সিলভা সান্তোস জানিয়েছেন, মাটির বিভিন্ন স্তর যেন ইতিহাসের আলাদা অধ্যায়। উপরের স্তরে পাওয়া গেছে পর্তুগিজ আমলের চীনামাটির বাসন ও লোহার পেরেক, যা ইউরোপীয় উপনিবেশের চিহ্ন বহন করে। আর গভীর স্তরে পাওয়া গেছে প্রাচীন আদিবাসী সমাজের মৃৎশিল্প ও ব্যবহার্য বস্তু। গবেষকদের তথ্যমতে, আমাপা অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ ত্রিশ হাজার প্রত্নবস্তু তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো নিদর্শনের বয়স প্রায় ছয় হাজার একশ চল্লিশ বছর। অর্থাৎ হাজার হাজার বছর ধরেই মানুষ এই অঞ্চলে বসবাস করছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রত্নবস্তুগুলো শুধু অতীতের ইতিহাস নয়, বরং প্রাচীন জনগোষ্ঠীর প্রযুক্তিগত জ্ঞান সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। কারণ সে সময়ের মানুষ বন, নদী, মাটি ও পরিবেশ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ব্যবহার করেই টেকসই জীবনব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..