‘আঁধার’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ২০২৩ সালের শুরুতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতের ঘটনাটি স্মরণে আছে তো? সেসময় বিষয়টি সারাদেশে খুব আলোচনা তুলেছিল। সেদিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ফারুককে এজলাসে গিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন সরকারপন্থি আইনজীবীরা। সরকারপন্থি মানে, পূর্ণ দাপটে ক্রিয়াশীল তখনকার আওয়ামী লীগপন্থিরা। এজলাস চলাকালে বার সভাপতি মো. তানভীর ভূঞা, সম্পাদক মো. আক্কাস আলী, জুবায়ের ইসলামসহ প্রায় আনুমানিক ১০-১৫ জন আইনজীবী আসেন এবং তারা অশালীন ও অসৌজন্যমূলকভাবে বিচারককে এজলাস থেকে নেমে যাওয়ার জন্য বলেন। বারের সভাপতি আদালতকে উদ্দেশ্য করে উচ্চস্বরে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেই ঘটনার ভিডিও তখন ছড়িয়ে পড়ে। বিচারকরা বিচারকাজ বন্ধ করে দেন। তখন আইনমন্ত্রী ছিলেন আনিসুল হক। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোক। স্বাবাভিকভাবেই আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা ছিলেন তার ‘প্রিয়পাত্র’। ফলে দুদিন শোরগোলের পর বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। বিজয়ের হাসি হাসেন আদালতে হামলাকারীরা। এরপর তিন বছর চলে গেছে। সেই আওয়ামী লীগ আর নেই। তবে ইতিহাস বলে, শূন্যস্থান নাকি খালি থাকে না। তাই বোধ হয় ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে সেই ঘটনা আবার ভিন্ন রূপে ফিরে এসেছে। তবে কুশীলবরা সেই আগের মতই রাজনীতিবিদ। এখনো গেল না আঁধার.... তবে এবারকার ঘটনা বরিশালে। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতার জামিনের প্রতিবাদে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা দুটি আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ করছিলেন। তার পরই এজলাসে বিচারককে হুমকি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। সেখানে দেখা যায়, অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে কোতোয়ালি মডেল থানার জিআরও এসআই শম্ভু নথি উপস্থাপন করেন। এ সময় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনের নেতৃত্বে আইনজীবীরা আদালতে প্রবেশ করেন। সভাপতি লিংকন বিচারককে উদ্দেশ করে এজলাস ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেন। এ সময় হৈ-হুল্লোড় করে এজলাসের বেঞ্চসহ আইনজীবীদের ডায়াস ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন। পরের দিন অবশ্য লিংকনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..