
একতা প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক সভাপতি লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ড. সফিউদ্দিন আহমদ আর নেই।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিনিটে ঢাকায় নিজ বাসায় উনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধ্যক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন। বেশ কয়েক দফা হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে তাঁকে। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে রেখে গিয়েছেন।
এই সাংস্কৃতিক সংগঠকের মৃত্যুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
অধ্যাপক সফিউদ্দিন আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক সংবাদ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্রাবস্থায় তিনি সংগ্রাম করেছেন দেশকে স্বাধীন করতে। আজীবন লড়েছেন দেশের মেহনতি মানুষের শোষণমুক্তির জন্য। পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন শিক্ষা বিস্তার ও শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ড. সফিউদ্দিন তাঁর ছাত্র ও সংগ্রামের কর্মীদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামের জন্য আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।
অপর এক শোকবার্তায় অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন।
শোক বিবৃতিতে তারা বলেন, অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ ১৯৪১ সালে ১৯ অক্টোবর নরসিংদী জেলার রায়পুরায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা ভাষা ও সাহিত্য গবেষক। শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, বিশ্বসাহিত্যেও তিনি ছিলেন একজন পণ্ডিত ব্যক্তি। তিনি ছিলেন তথ্যসন্ধানী, সমাজমনস্ক এবং প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার একজন মৌলিক গবেষক।
ছাত্রজীবনে অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি দুইবার জেল খেটেছেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় ২০০৫ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত দুই মেয়াদে উদীচীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে উদীচী নেতৃবৃন্দ বলেন, ড. সফিউদ্দিনের মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা পূরণ হবার নয়। তাঁর মৃত্যুতে উদীচী একজন অভিভাবক হারা হল। অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদের মৃত্যুতে উদীচী নেতৃবৃন্দ তাঁর পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
আরেকটি শোক বিবৃতিতে দেশবরেণ্য লেখক, প্রাজ্ঞ রবীন্দ্রগবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক, উদীচীর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এক শোক বার্তায় উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে জানান, ড. সফিউদ্দিন আহমেদ-এর প্রয়াণে একজন প্রকৃত অভিভাবক হারালো উদীচী পরিবার।
উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সত্যেন সেন চত্বরে সংক্ষিপ্ত শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব আয়োজন করে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ।
সেখানে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম-এর নেতৃত্বে প্রয়াত সভাপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শাখা সংসদের শিল্পী-কর্মীরা।
সেখানে উদীচীর নেতৃবৃন্দ বলেন, অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ কর্মজীবনের শুরুতে নেত্রকোণা কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। পরে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সরকারি চাকরি লাভ করেন এবং বরিশালের বিএম কলেজ, ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ ও সিলেটের এমসি কলেজে অধ্যাপনা করেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্তব্যরত থেকে ২০০৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ২০তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন ড. সফিউদ্দিন আহমেদ। টানা দুই মেয়াদে সফলভাবে এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ড. সফিউদ্দিন আহমেদ-এর অনন্য প্রজ্ঞা, মানবিক বোধ এবং সংস্কৃতি-নির্ভর প্রগতিশীল চিন্তা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। উনার আদর্শ ও সাংস্কৃতিক সংগ্রাম উদীচীর পথচলায় প্রেরণা হয়ে থাকবে।