বিরামপুরে উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী হাটসভা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

দিনাজপুর সংবাদদাতা : দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার রতনপুর বাজারে উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী হাটসভা স্থানীয় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে জনসভায় রূপ নিয়েছে। সভা শেষে বিক্ষোভ মিছিল ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা। গত ১ অক্টোবর বিকেল ৪টায় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে রতনপুর বাজারে এ হাটসভার আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগের পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, পুলিশ সদস্যরা কর্মসূচির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং আয়োজকদের বিষয়ে তথ্য নেন। বিষয়টি স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে এবং একপর্যায়ে আরও অনেক মানুষ হাটসভায় এসে যোগ দেন। শুরুতে আধা ঘণ্টার মধ্যে সভা শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়তে থাকায় তা প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে। পরে সভা শেষে একটি প্রতিবাদী মিছিল বের করা হয়। আগামী দিনে রতনপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী মতবিনিময় ও প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিরামপুর ও আশপাশের এলাকায় কয়লা উত্তোলনের কোনো প্রকল্প নেওয়া হলে কৃষিজমি, বসতভিটা, পানি, পরিবেশ ও স্থানীয় জনজীবনের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। তাদের দাবি, স্থানীয় জনগণের মতামত ও সম্মতি ছাড়া উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত নয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির বিরামপুর উপজেলা আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শাহ নেওয়াজ শুভ, রতনপুর অঞ্চলের উন্মুক্ত খনি বিরোধী নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম, আদিবাসী নেতা রামাই সরেন, ছাত্রনেতা নাসিম। এসময় আলোচনা করেন ফুলবাড়ী আন্দোলনের নেতা আব্দুল মজিদ চৌধুরী, এসএম নুরুজ্জামান জামান, সঞ্জিত প্রসাদ জিতু, একরামুল হক, হিমেল মণ্ডল, কমল চক্রবর্তী ও শাহরিয়ার সানি। বক্তারা ২০০৬ সালের ফুলবাড়ী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ওই সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের যে ছয় দফা সমঝোতা হয়েছিল, সেটির বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে আন্দোলনকারীরা। ২০০৬ সালের ওই সমঝোতায় দেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে কয়লা উত্তোলন নিয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের ভিত্তিতে হতে হবে। একই সঙ্গে তারা ফুলবাড়ী চুক্তির দাবিগুলো পুনরায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে আয়োজকেরা জানান, রতনপুর ও আশপাশের এলাকায় গ্রামভিত্তিক মতবিনিময় এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠনের কার্যক্রম চালানো হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি, পানি, বসতভিটা ও পরিবেশ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..