সাজেক কলেজে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বাধা প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : রাঙামাটির এলাকাবাসীর নির্মিত সাজেক কলেজে বনবিভাগসহ সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন কর্তৃক পাঠদানে বাধা প্রদান করায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতৃবৃন্দ। গত ১৩ আগস্ট সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, বনবিভাগসহ সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের নানা বাধার কারণে রাঙামাটির সাজেকে এলাকাবাসীর নির্মিত সাজেক কলেজে শিক্ষকরা ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের এতদিন কলেজ ভবনের বাইরে পাঠদান করে আসছিলেন। কিন্তু এতে নানা সমস্যা হওয়ায় গত ১০ আগস্ট সকাল ১০টায় শিক্ষকরা কলেজের রুমে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানতে পেরে বনবিভাগ ও সেনাবাহিনী তাতে বাধা প্রদান করেন। জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উজোবাজারে গিয়ে সাজেক কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বাবু ধন চাকমাকে বাঘাইহাট জোনের সাথে সমন্বয় না করে পাঠদান করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। যথাসময়ে শিক্ষকরা কলেজ রুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে গেলে দুপুর ১২টার দিকে ক্লাস চলাকালীন সময়ে আবারো বনবিভাগ ও সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা সেখানে যান এবং কলেজ নির্মাণ করায় বনবিভাগ কর্তৃক করা ৫০ লক্ষ টাকার মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে, কলেজের বৈধতার প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বাধা সৃষ্টি করেন। এই সমস্যা এখনও চলমান আছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মৌলিক অধিকার হিসেবে শিক্ষা গ্রহণের অধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির রয়েছে। সাজেক পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি দুর্গম এলাকা। এখানে চাকচিক্যময় পর্যটন কেন্দ্র, বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণ করা হলেও হাসপাতাল, কলেজ নেই। একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাবে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত, অন্যদিকে হাসপাতাল না থাকায় এলাকাবাসী নানা ধরণের ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর অর্থায়নে নির্মিত সাজেক কলেজটি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাজেক কলেজে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বনবিভাগ ও সেনাবাহিনী কর্তৃক বাধা প্রদান জবরদস্তিমূলক ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থী উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, নাগরিকদের শিক্ষা প্রদানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র এ দায়িত্ব প্রায় অস্বীকার করছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছরে রাষ্ট্র যেখানে কলেজ নির্মাণে ব্যর্থ সেখানে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে কলেজ নির্মাণ করেছে, হাজারো শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছে। এখানে বাধাপ্রদান অন্যায় ও বৈষম্যমুলক আচরণ। অবিলম্বে কলেজটিকে শিক্ষা প্রদানের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। বিবৃতিতে সাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায়, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সভাপতি তাওফিকা প্রিয়া ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..