মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র [ ছবি: রতন কুমার দাস ]একতা প্রতিবেদক :
গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করার লক্ষ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।
গত ২০ আগস্ট সকাল ১১টায় স্মারকলিপি প্রদানের পূর্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা-১৩৯(৬) অনুযায়ী তিন বছর অন্তর মজুরি পুনর্নির্ধারণ করার বিধান রয়েছে। এর পূর্বে মজুরি নির্ধারণ হয়েছিল ২০২৩ সালে। আইন এবং শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে গত এপ্রিল মাসে ‘গার্মেন্ট শিল্প সেক্টর’-এ মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করা উচিত ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সরকার তা না করে অতীতের মতোই মালিকদের পক্ষপাতিত্ব করছেন। চলতি আগষ্ট মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন না করলে শ্রমিক-কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের সভাপতি ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, খাইরুল মামুন মিন্টু, এম. এ শাহীন, আমিনুল ইসলাম, জাহানারা বেগম প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, পোশাক শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো সস্তা শ্রমে দেশের জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। শ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে এদেশের গার্মেন্টস মালিকরা সম্পদের পাহাড় গড়ে নব্য ধনীক গোষ্ঠীতে পরিণত হলেও উৎপাদনের মুল চালিকাশক্তি শ্রমিকরা এখনো চরম শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে যে সম্পদ সৃষ্টি হয়, তার সামান্য একটি অংশই মজুরি হিসেবে তাদের হাতে পৌঁছায়। ফলে মজুরি বৃদ্ধি কোনো দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়। এটি শ্রমিকদের নিজেদের উৎপাদিত সম্পদের ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করার প্রশ্ন।
বাংলাদেশের সংবিধান, শ্রম আইন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড অনুসারে এই ন্যায্যতা নিশ্চিত করা সরকারের আইনানুগ ও নৈতিক দায়িত্ব। জীবনযাত্রার ব্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নতুন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনে কোনো বাস্তব বা আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই। সমাবেশ শেষে লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।