
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা :
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বন্ধ জলিল টেক্সটাইল মিলের ১ হাজার ৭৩ শ্রমিকের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার দাবিতে সমাবেশ করেছে শ্রমিকরা।
এসময় শ্রমিক নেতৃবন্দ মিল হস্তান্তরে পূর্বে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। শ্রমিকদের পাওনা না দিয়ে মিল হস্তান্তর করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতৃবন্দ।
১৯৯৬ সালে মিলটি বন্ধের পর নানা ঘাট পেরিয়ে গত ১ জুলাই বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের জন্য প্রতীকী মূল্যে সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর অনুমতি দিয়েছে সরকার।
জলিল টেক্সটাইল মিলস্ ওয়ার্কাস ইউনিয়ন (সিবিএ) উদ্যোগে গত ৭ আগস্ট বিকেলে মিল গেইটে জলিল টেক্সটাইল মিল তৃতীয় কোনপক্ষের নিকট হস্তান্তরের পূর্বে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরিক্ষিত প্রাপ্য বকেয়া মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্যাজুয়েটিসহ সার্ভিস বেনিফিটের টাকা প্রদানের দাবিতে সমাবেশ করে।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ মছিউদ-দৌলার সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ জামশেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ফৌজদারহাট- বাড়বকুণ্ড অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জহির উদ্দিন মাহামুদ, মিল সিবিএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম আজাদ ও দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ।
১৯৭২ সালের জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২৭-এ রাষ্ট্রায়ত্ত সুতা ও বস্ত্রকল ছিল। ১৯৮২ সালের নতুন শিল্পনীতি/বিরাষ্ট্রীকরণ নীতিমালার আলোকে সরকার মিলটি শেয়ার হোল্ডারে মালিকদের নিকট শ্রমিক-কর্মচারী চাকরির শর্তসহ সব দায়-দেনা বিগত ১৯৮২ সালের ১৫ নভেম্বর তারিখে দ্বি-পাক্ষিক ও ত্রি-পাক্ষিক চুক্তিমূলে শতভাগ শেয়ার হস্তান্তর করে। দীর্ঘ আইনি পক্রিয়া শেষে ১৯৯৯ সালে ৩০ ডিসেম্বর তারিখে সরকার মিলটি অধিগ্রহণ করেন। একই তারিখে সম্পাদিত দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির শর্ত ও সব দায় দেনাসহ উক্ত মিলের ৫০% শেয়ারের মালিক এম.এ সেলিম চৌধুরী গংদের নিকট মিলটি হস্তান্তর করে।
শ্রমিক নেতৃবন্দ বলেন, ২০১২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের অডিট ফামস নিরিক্ষানুযায়ী ১০৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী কর্মকর্তার পাওনা ২০ কোটি ৫৭ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০৮ টাকা।
ওই সময় সম্পাদিত ত্রি-পাক্ষিক সমঝোতা চুক্তির “খ” বা শর্তানুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পাওনা পরিশোষ না করা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা প্রদানের শর্ত বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু তা উপেক্ষিত।
গত ৩০ এপ্রিল সর্বশের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নিকট আবেদন করেও এ পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন যাবত মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা পাওনা না পেয়ে চিকিৎসাসহ নানা অভাব অনটনে দিন পর করছে। অনেক শ্রমিক-কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেছেন। ওই সব শ্রমিক পরিবার পরিজন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানান বক্তারা।
গত ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে ৫৪.৯৯ একর এ জলিল টেক্সটাইল মিলটি চট্টগ্রাম এরিয়ায় বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) বা বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের জন্য প্রতীকী মূল্যেই বন্ধ থাকা চট্টগ্রামের জলিল টেক্সটাইল মিলস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলের নিয়ন্ত্রণাধীন টেক্সটাইল মিলটি চট্টগ্রাম জেলার ফৌজদারহাট এলাকায় অবস্থিত।
পরে, এই সংবাদ দৈনিক সমকালে প্রকাশিত হওয়ার পর গত ৩০ জুলাই পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কাছে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবি জানিয়ে লিখিতভাবে মিলের সিবিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে জানান সিবিএর নেতৃবৃন্দ।