
ভূমিকা
শিল্পবিপ্লব (প্রধানত ১৮শ শতকের শেষভাগ থেকে ১৯শ শতক) এবং আধুনিক ফুটবলের জন্ম পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আধুনিক ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়; এটি শিল্প-পুঁজিবাদী সমাজের একটি ঐতিহাসিক উৎপাদন। তবে এটি স্বীকার না করে উপায় নেই যে, পুঁজির প্রভাবে অবকাঠামো উন্নত হয়েছে, খেলোয়াড়দের আয় বেড়েছে, ক্রীড়া বিজ্ঞান এগিয়েছে, নারী ফুটবলে বিনিয়োগ বেড়েছে, বিশ্বব্যাপী সম্প্রচার সহজ হয়েছে। ফুটবলের বিশ্বায়নের মাধ্যমে এটা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হয়েছে।
কিন্তু একবিংশ শতাব্দিতে ফুটবল আর শুধু একটি খেলা নয়; এটি বিশ্ব পুঁজিবাদের অন্যতম লাভজনক শিল্পেও পরিণত হয়েছে। ইউরোপীয় শীর্ষ লিগ, বিশ্বকাপ, খেলোয়াড় স্থানান্তর, টেলিভিশন সম্প্রচার, স্পনসরশিপ, বেটিং শিল্প এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম–সব মিলিয়ে ফুটবল আজ বৈশ্বিক পুঁজিবাদী নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। মার্কসবাদ অনুসারে, ফুটবলের এই রূপান্তর আকস্মিক নয়; এটি পুঁজিবাদের স্বাভাবিক বিকাশের ফল। কার্ল মার্কস দেখিয়েছিলেন, পুঁজি এমন কোনো ক্ষেত্র ছাড়ে না যেখানে উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টি সম্ভব। ফুটবল আজ উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টির বৃহৎ কারখানায় পরিণত হয়েছে।
মার্কসবাদী দৃষ্টিতে খেলাধুলা মানুষের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের অংশ হওয়া উচিত, পণ্যে পরিণত হওয়ার নয়। ফুটবল সাংস্কৃতিক আধিপত্যের ক্ষেত্র যেমন হতে পারে, তেমনই গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের ক্ষেত্রও হতে পারে। তাই বিকল্প ফুটবল ভাবনার লক্ষ্য হবে–মুনাফার পরিবর্তে সামাজিক কল্যাণ, কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, বাজারের পরিবর্তে কমিউনিটির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
ফুটবলে পণ্যায়ন ও উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টি
পুঁজিবাদের প্রথম কাজ হলো সবকিছুকে বাজারে বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত করা। মার্কসের পণ্যায়ন এবং পণ্য-ফেটিশিজম ধারণা অনুযায়ী, ফুটবলের পণ্যায়ন এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে ফুটবল কেবল একটি খেলা বা সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড না থেকে বাজারে বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। পুঁজিবাদের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলের প্রায় সব উপাদানই, যেমন খেলোয়াড়, ক্লাব, লীগ, বিশ্বকাপ, সম্প্রচার অধিকার, দর্শকের মনোযোগ, সমর্থকের আবেগ, জার্সি এমনকি ক্লাবের ইতিহাসও পণ্যে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে ফুটবল আর ‘খেলা’ নয়; এটি একটি ব্রান্ড। মার্কসের ভাষায় ‘শ্রমিক তার শ্রমশক্তি বিক্রি করে’। আর এখানে ফুটবলে–খেলোয়াড় বিক্রি করছে তার শ্রমশক্তি। ক্লাব সেই শ্রম থেকে উদ্বৃত্ত মূল্য অর্জন করছে। খেলোয়াড়ের বাজার মূল্য নির্ধারিত হয় তার মুনাফা তৈরির সম্ভাবনার ভিত্তিতে। একজন খেলোয়াড়ের ট্রান্সফার ফি শত শত মিলিয়ন ইউরো হওয়া তার মানবিক মূল্য নয়; এটি তার সম্ভাব্য পুঁজিগত আয়ের মূল্যায়ন।
ফুটবল আজ যেন এক শেয়ারমার্কেট
ফুটবলের বর্তমান ট্রান্সফার ব্যবস্থা অনেকটা আর্থিক বাজারের মতো। খেলোয়াড়দের–কেনা হয়, বিক্রি করা হয়, ঋণে পাঠানো হয় এবং ভবিষ্যৎ লাভের আশায় বিনিয়োগ করা হয়। এখনকার ফুটবলে খেলোয়াড় একটি আর্থিক সম্পদে রূপান্তরিত হন।
ফুটবলে সম্প্রচার পুঁজির আধিপত্য
ফুটবলে ‘সম্প্রচার পুঁজি’ পুঁজির এমন একটি রূপ হিসেবে বিকশিত হয়েছে, যেখানে উদ্বৃত্ত মূল্য আহরণের জন্য খেলোয়াড়ের শ্রম, ক্লাবের ঐতিহ্য এবং দর্শকের আবেগ–সবকিছুকেই পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে। ফুটবলে এখন সম্প্রচার স্বত্বই প্রধান আয়ের উৎস। বর্তমানে শীর্ষ ইউরোপীয় লীগ ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি থেকে। ক্লাবগুলো দর্শকের টিকিটের চেয়ে টিভি ও ডিজিটাল সম্প্রচার চুক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল। এখন ম্যাচের সময় নির্ধারণ করে দেয় সম্প্রচার কোম্পানি। ম্যাচ কখন হবে, কোন দিনে হবে–এসব অনেক কিছুই নির্ধারিত হয় বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যা ও বিজ্ঞাপনী আয়ের হিসাব অনুযায়ী, খেলোয়াড় বা মাঠে উপস্থিত সমর্থকদের সুবিধা অনুযায়ী নয়।
এমনকি ফিফার সহযোগিতায় ‘সম্প্রচার পুঁজি’ স্পন্সরশিপ ও ব্র্যান্ড পুঁজির সাথে একত্রে মিলে খেলার ফিকচার তৈরি ও ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখার সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টায় লিপ্ত থাকে, ছোটো দলগুলিকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়, বিশেষ বিশেষ খেলোয়াড়কে সুবিধা দেয়ার কাজে গোপন তদবির করে। অনেক সময় এসব প্রচেষ্টা সফলও হয়। মার্কসবাদী দৃষ্টিতে দর্শকও এখানে এক ধরনের পণ্যে পরিণত হয়। সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান দর্শকদের মনোযোগ বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করে। ফলে দর্শক কেবল খেলা দেখেন না; তার মনোযোগও বাজারে বিক্রি হয়। এর মধ্য দিয়ে অসমতা ও বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। ধনী লীগ ও বড় ক্লাবগুলো বিপুল সম্প্রচার আয় পায়, কিন্তু ছোট ক্লাবগুলো তুলনামূলকভাবে কম আয় করে। ফলে ফুটবলে অর্থনৈতিক বৈষম্য ক্রমশ বাড়তে থাকে। এভাবে খেলার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য পণ্যায়নের মাধ্যমে ফুটবল ধীরে ধীরে একটি সাংস্কৃতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে বৈশ্বিক বিনোদন-বাজার শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে।
ফুটবলে স্পনসরশিপ ও ব্র্যান্ড পুঁজির থাবা
ফুটবলে স্পনসরশিপ ও ব্র্যান্ড পুঁজি এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যেখানে বহুজাতিক কর্পোরেশন ও ব্রান্ডগুলো ফুটবলকে তাদের পণ্য ও পরিচিতি বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। এর ফলে ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং বৈশ্বিক বিপণন ও মুনাফা অর্জনের একটি ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাব, লীগ, টুর্নামেন্ট এবং খেলোয়াড়দের অর্থায়ন করে। বিনিময়ে তারা পায় জার্সিতে লোগো প্রদর্শনের অধিকার, স্টেডিয়ামের নামকরণ, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার একচেটিয়া সুযোগ, বিশ্বব্যাপী কোটি দর্শকের কাছে ব্র্যান্ড প্রচারের সুযোগ। বর্তমান ফুটবলে একটি ক্লাব বা খেলোয়াড়ের মূল্য কেবল তার ক্রীড়া-সাফল্যে নয়; তার ব্র্যান্ড মূল্যতেও নির্ধারিত হয়। তাই মার্কসবাদী দৃষ্টিতে ব্র্যান্ড হলো প্রতীকী পুঁজি, যা ব্যবহারের চেয়ে বিনিময়মূল্য ও বাজারমূল্য বৃদ্ধি করে। এখানে খেলোয়াড়ের শ্রম ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত হয়; ক্লাবের ইতিহাস ও সমর্থকদের আবেগ পণ্যে পরিণত হয়; ফুটবল সংস্কৃতি কর্পোরেট বিপণনের অংশে পরিণত হয়। এজন্য মার্কসবাদী বিশ্লেষণ অনুযায়ী স্পনসরশিপ ও ব্র্যান্ড পুঁজি হলো উন্নত পুঁজিবাদের আদর্শিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের একটি রূপ। এখানে কর্পোরেট পুঁজি খেলোয়াড়ের শ্রম, ক্লাবের ঐতিহ্য এবং সমর্থকের আবেগ–সবকিছুকেই বিনিময় মূল্য ও মুনাফা সৃষ্টির উপকরণে রূপান্তরিত করে। ফলে ফুটবল ক্রমশ একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক খেলা থেকে বৈশ্বিক ব্রান্ড-শিল্পে পরিণত হয়েছে।
সমর্থকেরাও এখানে পণ্যায়নের শিকার
আগে সমর্থক ছিল ক্লাবের সামাজিক শক্তি। এখন সমর্থক হলো–গ্রাহক, সাবস্ক্রাইবার, ডেটা উৎপাদক, মার্চেন্ডাইজ ক্রেতা, অর্থাৎ এখন সমর্থকের আবেগও বাজারজাত করা হয়েছে। সমর্থকের ওপর সাংস্কৃতিক-মনোজাগতিক আধিপত্যের মাধ্যমে পুঁজি প্রতিনিয়ত তার অস্তিত্বের বৈধতা প্রতিপাদন করার মধ্য দিয়ে পুঁজির শাসনকে দীর্ঘায়িত করার শর্ত উৎপাদন করে। তাই ফুটবলের মাধ্যমে পুঁজি কেবল অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক নেতৃত্বও প্রতিষ্ঠা করে। ফুটবল জাতীয়তাবাদ ও আঞ্চলিকতাকে উৎসাহিত করা, কর্পোরেট ব্র্যান্ডকে জনপ্রিয় করা এবং ভোগবাদকে স্বাভাবিক করার মাধ্যমে অনেক সময় শ্রেণি ও সামাজিক বৈষম্যের প্রশ্ন থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে দেয়।
ফুটবল বিচ্ছিন্নতা (Alienation)-এর জন্ম দেয়
ফুটবলে পুঁজির আধিপত্য খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ওপর চার ধরনের অভিঘাতের জন্ম দেয়। প্রথমত, ফুটবলে খেলোয়াড় তার শ্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পেশাদার ফুটবলার তার প্রতিভা ও শ্রম প্রয়োগ করলেও তার শ্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রায়শই থাকে না। ক্লাব, এজেন্ট, স্পনসর এবং বাজারের চাহিদা তার ক্যারিয়ার, স্থানান্তর, এমনকি খেলার ধরনকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফলে খেলা একটি সৃজনশীল আনন্দের পরিবর্তে অনেক সময় শ্রমবাজারের পেশায় পরিণত হয়। দ্বিতীয়ত, খেলোয়ার তার শ্রমের ফল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। খেলোয়াড় মাঠে সাফল্য অর্জন করলেও সেই সাফল্যের অর্থনৈতিক লাভের বড় অংশ যায় ক্লাব মালিকদের কাছে, সম্প্রচার কোম্পানির কাছে, স্পনসরদের কাছে, বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছে। অর্থাৎ খেলোয়াড় তার শ্রমের পূর্ণ ফলের অধিকারী হতে পারেন না। তৃতীয়ত, খেলোয়াড় তার মানবিক সৃজনশীলতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মার্কস মানুষের সৃজনশীল ক্ষমতাকে তার species-being বা মানবিক সত্তার অংশ হিসেবে দেখেছেন। ফুটবলে কৌশল, নৈপুণ্য ও সৃজনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপ, ফলাফলের চাপ এবং বাজারের প্রত্যাশা অনেক সময় সেই স্বতঃস্ফূর্ত সৃজনশীলতাকে সীমিত করে দেয়। চতুর্থত, ফুটবলে সমর্থকরাও বিচ্ছিন্নতার শিকার হতে পারেন। ক্লাবের টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি, অতিরিক্ত সম্প্রচার সাবস্ক্রিপশন, মার্চেন্ডাইজের বাণিজ্যিকীকরণ (ক্লাব-খেলোয়ার ও সাংস্কৃতিক প্রতীককে পণ্যে রূপান্তর) এবং ক্লাব পরিচালনায় সমর্থকদের সীমিত ভূমিকার ফলে সমর্থকরা ধীরে ধীরে ক্লাবের অংশীদার না থেকে কেবল একজন ভোক্তাতে পরিণত হন।
পুঁজির আধিপত্য এড়িয়ে ফুটবলের বিকল্প মডেল ভাবনা
যতদিন পর্যন্ত বড় দেশগুলিতে, বা অধিকাংশ দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না, ততদিন ফুটবল থেকে পুঁজিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার ভাবনা বাস্তবসম্মত নয়। তবে পুঁজির আধিপত্য সীমিত করে ফুটবলকে সামাজিক সম্পদ হিসেবে পুনর্গঠন করা সম্ভব। এর জন্য কয়েকটি বিকল্প মডেল নিয়ে ভাবা যেতে পারে। (১) সমর্থক-মালিকানাধীন ক্লাব: এখানে ক্লাবের মালিক কোনো ধনী ব্যক্তি বা কর্পোরেশন নয়; সদস্য ও সমর্থকরাই প্রকৃত মালিক হবে। (২) ৫০+১ নীতি: এই নীতি অনুযায়ী, ক্লাবের ভোটাধিকার সদস্যদের হাতেই থাকবে। বাইরের বিনিয়োগকারী অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন, কিন্তু ক্লাবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন না। এতে কর্পোরেট দখল সীমিত হয়। (৩) অলাভজনক ফুটবল মডেল: ক্লাবের মূল লক্ষ্য মুনাফা নয়; বরং খেলোয়াড় তৈরি, স্থানীয় সমাজের উন্নয়ন, যুব ফুটবলের প্রসার, নারী ফুটবলের বিকাশ। এখানে উদ্বৃত্ত অর্থ পুনরায় ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা যায়। (৪) রাষ্ট্র ও কমিউনিটির যৌথ পৃষ্ঠপোষকতা: রাষ্ট্র অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও গ্রাসরুট ফুটবলে বিনিয়োগ করবে, কিন্তু ক্লাব পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবে না। স্থানীয় সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি ক্লাব যৌথভাবে ফুটবল পরিচালনা করতে পারে। (৫) খেলোয়াড় ও শ্রমিকের অংশগ্রহণ: ক্লাব পরিচালনায় কেবল মালিক নয়, খেলোয়াড়, কোচ, কর্মচারী ও সমর্থকদেরও প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও গণতান্ত্রিক হয়। (৬) বেতন ও ট্রান্সফারে নিয়ন্ত্রণ: খেলোয়াড়দের বেতনের যুক্তিসঙ্গত সীমা, আর্থিক স্বচ্ছতা, যুব একাডেমিতে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগ, অতিরিক্ত ঋণ ও ট্রান্সফার ফি নিয়ন্ত্রণ। এতে ফুটবল বাজারনির্ভর জুয়াখেলা না হয়ে প্রতিযোগিতামূলক খেলায় পরিণত হতে পারে। (৭) ফুটবলকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত করা। এবারের বিশ্বকাপে ট্রাম্পের অশুভ তৎপরতা এটাকে আরো প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
উপসংহার: ফুটবলের বর্তমান অবস্থার এই সমালোচনামূলক মার্কসবাদী বিশ্লেষণের লক্ষ্য হলো–ফুটবলে ফিফা, সম্প্রচার, স্পনসরশিপ ও ব্র্যান্ড পুঁজির অশুভ মিলন ও আধিপত্য উন্মোচন করা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের পাশাপাশি ফুটবলের ভেতরে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক, সামষ্টিক ও প্রতিরোধী সম্ভাবনাগুলিকেও চিহ্নিত করা। পুঁজির আধিপত্যমুক্ত বা পুঁজি-নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের বিকল্প মডেল কেবল অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রশ্ন নয়; এটি ফুটবলের সামাজিক চরিত্র পুনরুদ্ধারের প্রকল্প। সমর্থক-মালিকানা, গণতান্ত্রিকভাবে ক্লাব পরিচালনা, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, গ্রাসরুট ফুটবল উন্নয়ন এবং রাষ্ট্র ও কমিউনিটির জবাবদিহিমূলক সহযোগিতা মিলিয়ে এমন একটি ফুটবল ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে ফুটবল হবে মানুষের জন্য, মুনাফার জন্য নয়।
লেখক : সদস্য, সিপিবি, কেন্দ্রীয় কমিটি