জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি

আইএমএফ-এর বেলআউট কর্মসূচি সরকারকে দেউলিয়া করবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমাবেশ [ ছবি: রতন কুমার দাস ]
একতা প্রতিবেদক : গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেছেন, আইএমএফ নির্দেশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বহুদেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে, অনেক দেশে ক্ষুব্ধ জনতার দ্বারা সরকার উৎখাত হয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে আইএমএফ-এর সংস্কার সরকারকে জনসমর্থনহীন দেউলিয়া অবস্থায় নিয়ে যাবে। জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট-এর আহ্বানে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রতন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু পাম্পে তেলের দাম বাড়ায় না। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়ে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন, কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর। ফলে এই সিদ্ধান্তের বোঝা শেষ পর্যন্ত শ্রমজীবী, নিম্নআয় ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপরই চাপবে। তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, জ্বালানি মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, জ্বালানি খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করা এবং জনগণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ’র সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, বাসদ (মাহবুব)’র কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী লিটন, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সরকার কোনো ধরনের জনসম্পৃক্ত ও কার্যকর জনস্বার্থ যাচাই ছাড়াই একসঙ্গে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত দামে ডিজেলের লিটার ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা হয়েছে। তারা বলেন, জনগণের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা যখন মূল্যস্ফীতির চাপে ইতোমধ্যে সংকুচিত, তখন জ্বালানি তেলের দাম এভাবে বাড়ানো জনজীবনে নতুন করে সংকট তৈরি করবে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষি ও পরিবহন খাতে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বাজারে পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা বলেন, সরকার অযুহাত হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বললেও; জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পথ গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, শ্রমজীবী মানুষের আয় এবং দেশের উৎপাদনব্যবস্থার স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সমাবেশ থেকে বলা হয়, জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার না করা হলে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তারা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..