কেন আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন চাইছে নেপাল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা ডেস্ক : নেপালের হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি জোরালো করেছে নেপাল। দেশটির যুক্তি, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে নেপালের অবদান খুবই সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাবগুলোর একটি তাদেরই বহন করতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ হিসেবে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দায়িত্বের কথাও সামনে এনেছে নেপাল। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে বরফ, শিলা ও মাটির বিশাল ধসের পর আকস্মিক বন্যা নেমে আসে। ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিভিন্ন জনপদে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ভেসে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় এবং কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। পরবর্তী প্রাথমিক হিসাবে পুনর্গঠন ব্যয় প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে বলে জানায় নেপাল সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল শুরুতে বলেন, দুর্যোগের পর আন্তর্জাতিক সহায়তাকে শুধু দয়া বা মানবিক অনুদান হিসেবে দেখলে চলবে না। নেপাল এখন ‘সহায়তা’ থেকে ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ’-এর দিকে কূটনৈতিক অবস্থান সরাতে চায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বড় শিল্পোন্নত ও অধিক নিঃসরণকারী দেশগুলোর জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে ঐতিহাসিক দায় রয়েছে; বিপরীতে নেপালের নিঃসরণ প্রায় নগণ্য। শিশির বিশেষভাবে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে গেলে বিপদ কেবল নেপালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। গঙ্গা ও ত্রিশূলীসহ হিমালয়নির্ভর নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল জনগোষ্ঠীর পানিনিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে নেপাল সরকার স্পষ্ট করেছে, চীন, ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আলাদাভাবে সরাসরি ক্ষতিপূরণ দাবি করাই তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। বরং জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাঠামো ও প্যারিস চুক্তির অধীনে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা তহবিলের মাধ্যমে সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে দেশটি। নেপাল ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে পুনর্গঠনের জন্য সহায়তা চেয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও জলবায়ু ন্যায়বিচার, অভিযোজন অর্থায়ন এবং হিমালয় অঞ্চলের সুরক্ষা জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে। নেপালের এই উদ্যোগ জলবায়ু সংকটের একটি পুরোনো প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে-যেসব দেশ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী, অথচ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক দায় কে বহন করবে। হিমালয়ের সাম্প্রতিক বিপর্যয় সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..