যমুনা নদীর ভাঙন আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
আমিনুল ইসলাম হিরু, বগুড়া : প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনটে যমুনার ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সারিয়াকান্দির হাট শেরপুর, হাসনাপাড়া, ধলিরকান্দি, শেখপাড়ারা, কামালপুর, ইছামারা, গোদাখালি, তালতলা ও ধুনটের শহরাবাড়ি, ভান্ডারবাড়ী, শিমুলবাড়ি এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। শেখপাড়া তীররক্ষা বাঁধ ধসে গেছে। শহরাবাড়ি স্পারের ৭০ মিটার অংশ প্রায় ধসে গেছে। ভাঙন রোধে নির্মিত বানিয়াজান স্পারটি হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে ঐসব পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং করে চলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদাররা। সম্প্রতি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার আজিম আহমেদের নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি টিম নদী ভাঙন ও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দির কামালপুর থেকে ধুনটের বানিযান পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার যমুনার ডানতীর অরক্ষিত রয়েছে। নদীতীর অরক্ষিত থাকায় ভাঙনে উল্লেখিত ৭ কিলোমিটারে বিভিন্ন পয়েন্ট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থেকে নদী ১০০ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে রয়েছে। উল্লেখিত এলাকায় বর্ষা মৌসুমে যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি প্রবল বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করে জনপদের জানমাল এবং ফসলের ব্যপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে তীরবর্তী এলাকার মানুষ। গত এক বছরে নদীর ভাঙনে কামালপুর, ইছামারা, গোদাখালি, দরিপড়া, শহরাবাড়ী, ভান্ডারবাড়ী ও বানিয়াযান এলাকায় ভাঙনে ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘর এবং ৩ শতাধিক বিঘা আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয় বলে জানিয়েছেন যমুনা পাড়ের মানুষ। ভাঙনের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা জানান, ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ না করে বন্যা মৌসুমে তড়িঘড়ি করে বালুভর্তি জিও বস্তা ডাম্পিং করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে কাজের কাজ কিছু হয়না। অথচ সরকারের কাড়ি কাড়ি টাকা অপচয় হয়। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, স্থায়ী কাজ করার জন্য ইতিপূর্বে বোর্ডে একাধিকবার ডিপিপি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদন না হওয়ায় বাঁধ রক্ষা ও জনপদের বৃহৎ স্বার্থে ইমার্জেন্সি ভিত্তিতে কাজ করতে হয়। একাধিকবার নদী ভাঙনের শিকার চন্দনবাইশা গ্রামের বাসিন্দা সাদত হোসেন জানান, কামালপুর, ইছামারা পয়েন্টে বাঁধ ঝুকির মধ্যে রয়েছে। ঐ পয়েন্টে বাঁধ ভাঙলে শুধু আবাদি ফসলের ক্ষতি হবে না। নদীর পানি ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাকফ্ল হয়ে উজানে কয়েক শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর সংরক্ষণ বাঁধও (রৌহাদহ থেকে মথুরাপাড়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার) হুমকির মুখে পড়বে। আর ঐ বাঁধ ধসে গেলে বগুড়ার পূর্ব জনপদের ব্যাপক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হবে। ভান্ডাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বাবু বলেন, শহরাবাড়ী, ভান্ডারবাড়ীতে বাঁধ ভঙলে বগুড়ার ৫/৬টি উপজেলা ছাড়াও ভাটিতে সিরাজগঞ্জ জেললার কয়েটি উপজেলার শত শত বিঘা জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, বগুড়া জেলার যমুনা নদীর ডানতীর সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প নামে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাব (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষাায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে ভাঙন রোধে তীররক্ষা কাজ শুরু করা হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..