বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীতে মিছিলএকতা প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শিক্ষা-কাজ-জাতীয় সম্পদ-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত যুব সমাবেশে তারা এ প্রত্যয়ের কথা জানান। এদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাবেশ শুরু হয় এবং সমাবেশের শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক যুবনেতা জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইরান মোল্লা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবনেতা রফিজুল ইসলাম রফিক।
সংহতি বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি ছাত্রনেতা মাহির শাহরিয়ার রেজা। সমাবেশের সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক যুবনেতা শাহিন ভূইয়া।
বক্তারা বলেন, যুবসমাজের সমস্যা সমাধান, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং দেশ-জাতির প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যুবসমাজের নিজস্ব সংগঠন হিসেবে ১৯৭৬ সালের ২৮ আগস্ট জন্মলাভ করেছিল বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি যুবসমাজের স্বার্থের প্রতি বিশ্বস্ত ও অবিচল থেকে যুবকদের প্রকৃত আন্দোলনের নিরলস সংগ্রাম করে আসছে। বেকার সমস্যা সমাধানে, বেকার ভাতা, শূন্যপদে নিয়োগদান, কর্মসংস্থানসহ যুবসমাজের বিভিন্ন দাবি ও অধিকার আদায়ের নিরলস সংগ্রামে যুব ইউনিয়নের অর্জন মূলত যুব সমাজের অর্জন।
এই অর্জন আত্মতুষ্টির নয়, তবে অনুপ্রেরণার বিষয় তো বটেই। যুবসমাজের ভেতর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, জাতীয় স্বাধীনতা সংহতকরণ ও মেহনতি মানুষের স্বার্থের পক্ষের সংগ্রামে যুব ইউনিয়ন জন্মলগ্ন থেকেই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে।
সুবর্ণজয়ন্তীর এই দীর্ঘ যাত্রায় এদেশের অসংখ্য অর্জনের একক কৃতিত্ব যেমন যুব ইউনিয়নের, তেমনি দেশ, দেশের সম্পদ, প্রাণ-প্রকৃতি, মানুষ ও মানবতা রক্ষার বাংলাদেশের সকল আন্দোলন সংগ্রাম- প্রতিরোধে সংগঠকের ভূমিকায় ছিলো যুব ইউনিয়ন।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলন, কর্মসংস্থানের দাবিতে যুব কনভেনশন, জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্টি, নারী যুব ক্যাম্প, করোনাকালীন হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, অক্সিজেন পুল ইত্যাদি বহুবিধ কাজে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন এক সাহসী-উদ্যোগী ভূমিকা রেখেছে।
সংগঠনটি সব সময় চেয়েছে যুবকদের অংশগ্রহণে সমাজতান্ত্রিক ধারায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক বিকাশ, প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার গণ-আন্দোলন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ লক্ষ্যে দেশের যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুব ইউনিয়নের উজ্জ্বল ভূমিকা ছিলো। রাজপথের সাহসী ভূমিকাসহ ছাত্র জনতার হত্যার প্রতিবাদে ছাত্র-যুবকদের মশাল মিছিল, ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে মশাল মিছিল, মিছিলে ছাত্র যুব লীগের হামলায় ছাত্র যুব নেতারা আহত ও ১১ জন যুব নেতা গ্রেপ্তার হন।
গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন দেশবিরোধী নানা চুক্তি করছিল তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে। বন্দর রক্ষায় ঢাকা চট্টগ্রাম লংমার্চের সংগঠকের ভূমিকা পালন করে যুব ইউনিয়ন।
সমাবেশে বক্তরা আরও বলেন, সংগঠনের এই দীর্ঘ পথচলায় যাঁদের শ্রমে ও মেধায় যুব ইউনিয়ন তার গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রাম ও সৃজনশীল যুব আন্দেলনের পথে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে, তাঁদের সকলের অবদানকে শ্যদ্ধা ভরে স্মরণ করছে। সংগঠনের লড়াই সংগ্রামে যাঁরা জীবনকে উৎসর্গ করেছেন, তাঁদেরকে স্মরণ করছে।
সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ শিক্ষা-কাজ-জাতীয় সম্পদ-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের আহ্বান জানান।