অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল আধুনিকায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ ও রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালুর দাবিতে রাজধানীতে জাতীয় কমিটির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান [ ছবি: রতন কুমার দাস ]একতা প্রতিবেদক :
অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল আধুনিকায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ ও রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালুর দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, বিনিয়োগের অভাব ও নীতিগত অবহেলার দায় জনগণের নয়, এ লোকসানের দায় আমলাতন্ত্র ও সরকারের। কিন্তু সরকার তা শ্রমিক-চাষির ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের পেটে লাথি মারার উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ১০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সমাবেশে সারাদেশ থেকে আগত চিনিকল শ্রমিক ও আখচাষীরা অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। পরবর্তীতে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে।
প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান ফিরোজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, জাতীয় গণফ্রন্টের আহ্বায়ক টিপু বিশ্বাস, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়জুল হাকিম, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন, শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক শামীম ইমাম, আখচাষী ও কৃষক নেতা আলতাফ হোসেন, কৃষক নেতা আব্দুস শুকুরসহ জাতীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন চিনিকলের শ্রমিক প্রতিনিধিবৃন্দ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বদরুদ্দোজা বাপন ও কাইয়ুম হোসেন।
সমাবেশে জাতীয় ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের অর্থ ও শ্রমে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মুনাফার জন্য ছেড়ে দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলোকে পরিকল্পিতভাবে পুনরুজ্জীবিত ও আধুনিকায়ন করতে হবে। চিনিকল বন্ধের ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মহীন হয়েছেন, আখচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং দেশের কৃষি ও শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দুর্বল হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, উৎপাদন ব্যবস্থার সংস্কার, আখচাষীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বহুমুখী উৎপাদনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় চিনিশিল্পকে লাভজনক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের শিল্প ও কৃষির স্বার্থবিরোধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। তারা বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির চাপ বা স্বার্থের কাছে দেশের শিল্প, কৃষি, শ্রমিক ও জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া যাবে না। জাতীয় অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থার স্বার্থে স্বাধীন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিতে- বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আধুনিকায়ন ও পুনরায় চালু; চিনিকলগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি; আখচাষীদের উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, স্বল্পসুদে কৃষিঋণ, উন্নতমানের আখবীজ, সার, সেচ ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা; মোলাসেস, ইথানল, বিদ্যুৎ, জৈবসারসহ চিনির উপজাতের বহুমুখী ব্যবহার ও উৎপাদনের মাধ্যমে চিনিকলগুলোকে লাভজনক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্পে পরিণত করা; শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া মজুরি-বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আইনানুগ পাওনা দ্রুত পরিশোধ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি; চিনিকলগুলোতে আখের পাশাপাশি সার, বীজ, সেচ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা; ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পসম্পদ ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর বা বেসরকারিকরণের চক্রান্ত বন্ধ; রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিল্পনীতি গ্রহণ; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত দেশের শিল্প ও কৃষির স্বার্থবিরোধী বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করার ৯ দফা দাবি প্রদান করা হয়।