হাসপাতাল থেকে বিদেশে, পাকিস্তানে গর্ভফুলের গোপন বাণিজ্য

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : বাড়িটির বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না ভেতরে কী চলছে! দেখতে সাধারণ আবাসিক ভবন মনে হলেও ভেতরে ট্রলির ওপর সারি সারি ট্রেতে সাজানো সন্তান ভূমিষ্ঠের পর প্রসূতিদের গর্ভফুল (প্লাসেন্টা)। হাসপাতাল থেকে সংগ্রহের পর এসব গর্ভফুল শুকিয়ে রাখা হয়েছে। বাড়িটিতে চলছিল প্লাসেন্টা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার কাজ। পাকিস্তানের তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, এখান থেকেই বিদেশে পাচার করা হতো এ মানব গর্ভফুল। পরে সেগুলো ব্যবহার করে তৈরি করা হতো উচ্চ মূল্যের অ্যান্টি-এজিং (বার্ধক্যরোধী) ইনজেকশন। এমন অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)। এফআইএর ভাষ্য, বিদেশে পাঠানোর পর এসব গর্ভফুল দিয়ে বার্ধক্যরোধী ইনজেকশন তৈরি করা হতো। প্রতিটি ইনজেকশনের বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ রুপি (২ হাজার ৫৩০ ডলার)। গত সপ্তাহে রাজধানী ইসলামাবাদে অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৫০০ কেজি গর্ভফুল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচজনকে। এফআইএর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, বাড়িটিকে গর্ভফুল সংরক্ষণ ও শুকানোর একটি অস্থায়ী কারখানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এফআইএ বিবিসি উর্দুকে জানিয়েছে, চক্রটি প্রতি মাসে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রায় ২০০ কেজি (৪৪০ পাউন্ড) গর্ভফুল সংগ্রহ করত। সেগুলো শুকিয়ে এবং প্রক্রিয়াজাত করার পর বিদেশে পাঠাত। ইসলামাবাদের ওই বাড়িতে অভিযানের পর ১ জুলাই ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে আরও একটি চালান জব্দ করেছে এফআইএ। প্রায় ১০০ কেজি মানবদেহের এই টিস্যু ভিয়েতনামে পাঠানো হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পাকিস্তানের হিউম্যান অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট অথরিটির কর্মকর্তা হিনা কানওয়াল বলেন, পাঁচ সন্দেহভাজন ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রতিটি গর্ভফুল প্রায় ৮০০ রুপিতে (২ দশমিক ৯০ মার্কিন ডলার) কিনতেন। এফআইএর ভাষ্য, বিদেশে পাঠানোর পর এসব গর্ভফুল দিয়ে বার্ধক্যরোধী ইনজেকশন তৈরি করা হতো। প্রতিটি ইনজেকশনের বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ রুপি (২ হাজার ৫৩০ ডলার)। তদন্ত সংস্থাটির ধারণা, এ নেটওয়ার্ক শুধু ইসলামাবাদে সীমাবদ্ধ নয়; লাহোর, পেশোয়ার, রাওয়ালপিন্ডিসহ আরও কয়েকটি বড় শহরে এর কার্যক্রম বিস্তৃত। সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে হাসপাতাল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ও অভিবাসন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..