যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আবার কেন যুদ্ধ শুরু হলো

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে তেহরানের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর ব্যাপক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন হামলার পর তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মনে করেন, ইরানের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক ‘শেষ’ হয়ে গেছে। তিনি আপাতত শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেও ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন, এগুলো ‘সময়ের অপচয়’। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মেজাজে তিনি ইরানের নেতৃত্বকে ‘আবর্জনা’ বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে ১ দশমিক ৬ শতাংশ পতন লক্ষ করা গেছে। মুদ্রাবাজারে ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং সরকারি বন্ডের মুনাফা বেড়েছে। কারণ, এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির কথা বিবেচনা করছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগ্রাসন শুরুর প্রথম দিনে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। বর্তমানে এই সর্বোচ্চ নেতার শেষবিদায় ঘিরে কয়েক দিন ধরে নানা আয়োজন চলছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনাও চলছিল। এর মধ্যেই পরপর দুই দিন ইরানে বড় হামলা চালানো হলো। গত এপ্রিলে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সম্মত হয়েছিল। সেই সময়ের পর থেকে এটিই সবচেয়ে বড় আক্রমণ। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মাধ্যমে এর জবাব দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘শত্রুর ড্রোন’ হামলায় তাদের একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তিন সপ্তাহ আগে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে ৬০ দিনের শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আলোচনার মধ্যেই ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান বলেছে, এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার আস্থার জায়গাটি ভেঙে গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের হরমুজ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, আবু মুসাসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইরানের খুব বিপজ্জনক মানুষকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে হামলা চালিয়েছি। তারা অসুস্থ, তাদের সমস্যা আছে।’ সেন্টকম জানিয়েছে, ইরান তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে-মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী এম/টি আল রেক্কায়াত, সৌদি আরবের পতাকাবাহী এম/টি ওয়েদিয়ান এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এম/টি সাইপ্রাস প্রসপারিটি। জাহাজগুলো ওমান উপকূলের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরান সব জাহাজ চলাচলের জন্য তাদের নির্ধারিত ‘নিরাপদ রুট’ ম্যাপ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছিল। রুটটি অনুসরণ করলে জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূলের খুব কাছ দিয়ে যেতে হবে। এ নির্দেশনায় ওমানের জলসীমার একটি অংশকে ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করে। স্থানীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, জাহাজগুলো ইরানি বাহিনীর দিক পরিবর্তনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। ট্যাংকারে ওই হামলার জবাবে সেন্টকম বলেছে, ‘মার্কিন বাহিনী ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, কোস্টাল রাডার সাইট, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালির কাছে থাকা আইআরজিসির ৬০টির বেশি ছোট নৌকায় হামলা চালিয়েছে। এর উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যের ওপর ইরানের হামলার সক্ষমতা ধ্বংস করা।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..