সন্তান বিক্রি করে দিচ্ছেন আফগান বাবারা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ভোর হতেই আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশের রাজধানী চাঘচারানে একটি ধুলোময় চত্বরে শত শত মানুষ জড়ো হন। তাঁরা ক্লান্ত মুখে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন এ আশায়- কেউ এসে তাঁদের কোনো কাজে নেবেন। কাজ পাবেন কি না, তার ওপর নির্ভর করে তাঁদের পরিবারের সেদিন খাবার জুটবে কি না। ওই স্থানে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রত্যেকে প্রতিদিন কাজ পান না। তাঁদের একজন ৪৫ বছর বয়সী জুমা খান। গত ছয় সপ্তাহে মাত্র তিন দিন কাজ পেয়েছেন তিনি। তা-ও এক দিন কাজের জন্য মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ আফগানি মজুরি পান। মার্কিন ডলারে যা আড়াই থেকে তিন ডলার বা এর কিছু বেশি। জুমা খান বলেন, ‘আমার সন্তানেরা টানা তিন রাত না খেয়ে ঘুমিয়েছে। স্ত্রী কাঁদছিল। সন্তানেরাও। গমের আটা কেনার জন্য আমি এক প্রতিবেশীর কাছে কিছু টাকা ধার চেয়েছিলাম। আমি সব সময় এ আতঙ্কে থাকি, সন্তানেরা না খেতে পেরে মরে যায় কি না।’ এ গল্প শুধু একজন আফগান বাবার নয়; আফগানিস্তানের প্রায় প্রতিটি ঘরে এ চিত্র দেখা যায়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফগানিস্তানে প্রতি চারজনের তিনজনই মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষম নন। আফগানিস্তানে বেকারত্ব অনেক বেশি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা সংকটে। আবার একসময় লাখ লাখ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে যে বৈদেশিক সহায়তা ছিল, তা এখন অতি সামান্যতে নেমে এসেছে। বিবিসির প্রতিনিধি যোগিতা লিমায়ে এমন আফগান বাবাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাঁরা বাধ্য হয়ে অসম্ভব এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আফগানিস্তান এখন রেকর্ড মাত্রার খাদ্যসংকটের মুখোমুখি। প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি। দেশের যেসব এলাকায় খাদ্যসংকট সবচেয়ে তীব্র, তার একটি ঘোর প্রদেশ। সেখানে পুরুষেরা এখন মরিয়া। ছেলেসন্তানের তুলনায় মেয়েসন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ, সামাজিকভাবে ছেলেদের ভবিষ্যৎ উপার্জনকারী হিসেবে দেখা হয়। তালেবান ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে নারী ও মেয়েদের শিক্ষা ও কাজের সুযোগের ওপর বিধিনিষেধের কারণে এ ধারণা আরও তীব্র হয়েছে। রব্বানি নামের একজন বলেন, ‘একদিন আমাকে ফোন করে বলা হয়, আমার সন্তানেরা দুই দিন ধরে না খেয়ে আছে।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..