শ্রমিকের রক্ত শোষণ করে বোয়িং বিমান কেনা চলবে না : সিপিবি
একতা প্রতিবেদক :
মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে গত ১ মে বিকাল ৩টায় মিরপুরের সেনপাড়ার ভিশন মোড়ে “মে দিবসের সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান” অনুষ্ঠিত হয়। “শ্রমিকের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার”–এই স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা শ্রমিক-কৃষকসহ মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানান।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাজেদুল হক রুবেল, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, লাকী আক্তার, জেলা কমিটির সদস্য জামাল হায়দার মুকুল, কল্লোল বণিক, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা সেকেন্দার হায়াত, সিপিবি মিরপুর থানা কমিটির সহ-সম্পাদক জামাল হোসেন, গার্মেন্ট শ্রমিকনেতা মো. রাজা। সভা পরিচালনা করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের জেলা কমিটির সদস্য রাসেল ইসলাম সুজন।
সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। শ্রমিকের কাজের ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা এবং শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য নিজেদের শিল্প-কারখানার বিকাশ ঘটিয়ে জাতীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। অবিলম্বে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে সে অর্থ দিয়ে দেশের শিল্প ও কৃষিতে ভর্তুকি দিতে হবে। শ্রমিকের রক্ত শোষণ করে বোয়িং বিমান কেনা চলবে না। অবিলম্বে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে। শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করো।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর বলেন, পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা ছাড়া কোনো হকার উচ্ছেদ চলবে না। বাংলাদেশের নগর অর্থনীতিতে হকারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের জীবিকা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত পুনর্বাসনের মাধ্যমেই যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশের কলকারখানা, গার্মেন্টস, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য সেবা খাতের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস অবিলম্বে পরিশোধ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করার সব অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। সমাবেশের সাংস্কৃতিক পর্বে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গণসংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন।
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন