ছোট যমুনা নদী যেন ডাস্টবিন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা পরিবেশ ডেস্ক : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা ছোট যমুনা নদী এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। উপজেলার নতুন বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা ও থানার একদম কোল ঘেঁষে অবাধে ফেলা হচ্ছে বাজারের বর্জ্য। এতে একদিকে যেমন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে উৎকট দুর্গন্ধে বিষিয়ে উঠছে চারপাশের পরিবেশ। সরেজমিনে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী হাটখোলা বাজারের হোটেল, মাছ-মাংসের দোকান ও কাঁচাবাজারের যাবতীয় বর্জ্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সরাসরি নদীতে ফেলছেন। নদীর যে অংশে ময়লা ফেলা হচ্ছে, সেখান থেকে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) আবাসিক ভবনের দূরত্ব মাত্র ২০ গজ। বর্জ্যের স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে নদীর পাড় দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রজত ও মুকুল জানান, একসময় বিকেলে নদীর পাড়ে নির্মল বাতাসে মানুষ বিশ্রাম নিতে আসত। অনেকে নিয়মিত প্রাতর্ভ্রমণ করতেন। কিন্তু এখন দুর্গন্ধে এই এলাকা দিয়ে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কেন নদীতে ময়লা ফেলা হচ্ছে; এমন প্রশ্নে বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দাবি, বর্জ্য ফেলার জন্য প্রশাসন থেকে তাদের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা দেওয়া হয়নি। বদলগাছী হাটখোলা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এখলাছুর রহমান বলেন, ‘নদীতে ময়লা ফেলা কোনোভাবেই ঠিক নয়। তবে প্রশাসন থেকে নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ না করে দেওয়ায় এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।’ বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এখানে ময়লা ফেলতে নিষেধ করেছি, কিন্তু তারা শুনছে না।’ বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কারণে এই উপজেলায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত বেশি। তাই উপজেলা পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ময়লা ফেলার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছি। জায়গা পেলেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।’ তবে উপজেলার সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে কেবল ‘জায়গা খোঁজার’ আশ্বাসই দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে নদী রক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..