
একতা স্বাস্থ্য ডেস্ক :
সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাসপাতালে ভিড় করছে হামে আক্রান্ত শিশুরা। হাম মূলত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং একজন থেকে অন্যজনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
হাম কেন বাড়ছে?
প্রধান কারণ হলো টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি। অনেক শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বাদ পড়ায় তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, অপুষ্টি এবং অসম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ার কারণে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
টিকা কেন জরুরি?
হাম কেবল জ্বর বা ফুসকুড়ি নয়; এটি বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ (যা থেকে বধিরতা হতে পারে) এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) হাম থেকে হতে পারে। সঠিক সময়ে টিকা নিলে এসব ঝুঁকি থেকে প্রায় শতভাগ সুরক্ষা পাওয়া যায়।
টিকা নেওয়ার সুযোগ
সরকারি ইপিআই কর্মসূচির বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকেও হামের টিকা পাওয়া যায়। সাধারণত এমএমআর (মিজেলস, মাম্পস, রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়, যা হাম, মাম্পস ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেয়।
টিকার ডোজ ও নিয়ম : শিশুদের জন্য দুই ডোজ টিকা প্রয়োজন। প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে। যারা শৈশবে টিকা নেয়নি, তারা অন্তত ২৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ নিতে পারে।
বড়দের জন্য টিকা
বড়দেরও টিকা দেওয়ার সুযোগ আছে, বিশেষ করে যাঁরা প্রজননক্ষম নারী বা শৈশবে টিকা পাননি। গর্ভাবস্থায় টিকা দেওয়া নিষেধ; টিকা নেওয়ার অন্তত এক মাস পর গর্ভধারণ করা উচিত।
পার্শ্বপ্রতক্রিয়া
হামের টিকা সাধারণত নিরাপদ। ইনজেকশনের জায়গায় সামান্য ব্যথা, হালকা জ্বর বা লালচে ভাব দুই-তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে চলে যায়। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বিরল।