উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : দেশে ভাইরাসজনিত রোগ হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে গত ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জন এবং সন্দেহজনক আরও ১৭৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জন এবং সন্দেহজনক আরও ২১ হাজার ৪৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। গত ১৭ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মারা যায় ঢাকা বিভাগে এবং মৃত্যু হয় বরিশাল বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ বলেন, জ্বর বা কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে আসা অধিকাংশ রোগীকেই সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ ও আশঙ্কাজনক রোগীদেরই মূলত হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে এবং পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। দেশে হামের সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম পরিচালিত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহায়তায় এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) অধীনে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে নমুনা সংগ্রহ ও তথ্য যাচাই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক রোগী নিশ্চিত শনাক্ত না হয়ে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, কোনো এলাকায় একাধিক রোগী একই উপসর্গ নিয়ে এলে সবার পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। একজনের পরীক্ষার ফল দিয়েই পরিস্থিতি বোঝা যায়। মৃত্যুর পর পরীক্ষা না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তা ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’ হিসেবেই থেকে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একজন আক্রান্ত শিশু থেকে প্রায় ৭০ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। র্যাশ ওঠার আগে-পরে মিলিয়ে সাত থেকে ৯ দিন রোগী সংক্রমণ ছড়াতে পারে। হামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা না থাকায় লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই প্রধান ভরসা। জটিলতা দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা হাম আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি। ১২ মাসের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, টিকা না নেওয়া ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ১৯৯০ সালের পর টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসা ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত। যারা আগে হামে আক্রান্ত হয়েছেন, তারাও প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির কারণে বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও এটি মহামারিতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..