বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে ক্যাবের ধারণাপত্র
(কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর উদ্যোগে গত ৩১ মার্চ রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে জ্বালানি খাত সংস্কার ও ক্যাবের ১৩ দফা দাবি নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত গোলটেবিল আলোচনায় উত্থাপিত ক্যাবের ধারণাপত্র নিচে দেওয়া হলো)
ভূমিকা
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত গত তিন দশকে এক গভীর কাঠামোগত সংকটে উপনীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা, উচ্চ ব্যয়, ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি–এই সমগ্র পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রায় গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
কিন্তু এই সংকট কেবল প্রযুক্তিগত বা আর্থিক সমস্যা নয়; বরং এটি একটি নীতি, শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অর্থনীতির সংকট। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করা হয়েছে, তা অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাহীন বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়বহুল চুক্তি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা এবং সীমিত জবাবদিহির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।
ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানি ন্যায়বিচার এবং ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত হয়নি। বরং ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, ভর্তুকি সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চাপ দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জ্বালানি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এই দাবিগুলো কেবল তাৎক্ষণিক সংকট সমাধানের প্রস্তাব নয়; বরং একটি কাঠামোগত জ্বালানি সংস্কারের রূপরেখা।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সংকটকে কয়েকটি মূল কারণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়।
১. আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামো
গত দুই দশকে দেশের জ্বালানি নীতি ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর হয়ে উঠেছে। এলএনজি, কয়লা, তেল ও বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বেড়েছে।
২. প্রতিযোগিতাহীন বিনিয়োগ ও ব্যয় বৃদ্ধি
বিদ্যুৎ খাতে বহু প্রকল্প প্রতিযোগিতাহীনভাবে অনুমোদিত হয়েছে। বিশেষ করে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কিছু বড় বিদ্যুৎ চুক্তি উচ্চ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় তৈরি করেছে।
৩. বিশেষ আইন ও জবাবদিহির সংকট
২০১০ সালের দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত প্রকল্প অনুমোদনের সুযোগ সৃষ্টি করে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা দেয়।
৪. জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি
গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম একাধিকবার বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
৫. প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা
নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, যেমন- বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত স্বাধীনতা ও সক্ষমতার অভাবে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও জনঅংশগ্রহণ ছাড়াই গ্রহণ করা হয়েছে।
জ্বালানি ন্যায়বিচার: একটি তাত্ত্বিক কাঠামো
ক্যাবের প্রস্তাবিত ১৩ দফা দাবি মূলত এনার্জি জাস্টিস বা জ্বালানি সুবিচার ধারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত। জ্বালানি ন্যায়বিচারের তিনটি প্রধান স্তম্ভ রয়েছে।
১. বণ্টনমূলক ন্যায়বিচার
জ্বালানির ব্যয় ও সুবিধা সমাজে ন্যায্যভাবে বণ্টিত হওয়া।
২. প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার
নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
৩. স্বীকৃতিমূলক ন্যায়বিচার
ভোক্তা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং নাগরিক সমাজের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া।
বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি ব্যবস্থায় এই তিনটি স্তম্ভই দুর্বল। ফলে জ্বালানি খাত এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
ক্যাবের ১৩ দফা দাবি: একটি বিশ্লেষণ
১. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সেবাখাত হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা
প্রথম দাবিটি অগ্রগণ্য ও মৌলিক। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাত নয়, বরং জনসেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর উদ্দেশ্য হলো: মুনাফাভিত্তিক কাঠামো কমানো; জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া; জ্বালানি সরবরাহের ব্যয় কমানো
২. জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি কমানো
বর্তমান জ্বালানি কাঠামোতে আমদানিনির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। এই দাবির মাধ্যমে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি; স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার; বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় কমানো- এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব।
৩. সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের জন্য সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবেশগত সুবিধা, জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও স্থানীয় শিল্পের বিকাশ সম্ভব হবে।
৪. এলএনজি ও কয়লা নির্ভরতা সীমিত করা
এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় কমাবে, কার্বন নির্গমন কমাবে ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথ প্রশস্ত করবে।
৫. দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান
গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
৬. অব্যবহৃত গ্যাস সম্পদ ব্যবহার
ভোলা ও অন্যান্য অঞ্চলের গ্যাস সম্পদ ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
৭. আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি পুনর্বিবেচনা
এই দাবিটি বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আর্থিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
৮. স্পিডি অ্যাক্ট বাতিল
বিশেষ আইন বাতিল করে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৯. আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ
জনস্বার্থবিরোধী চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারের দাবি করা হয়েছে।
১০. জ্বালানি অপরাধের বিচার
জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
১১. বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য হ্রাস
অযৌক্তিক ব্যয় কমিয়ে বিদ্যমান মূল্যহার পুনর্বিবেচনার দাবি করা হয়েছে।
১২. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর সংস্কার
নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, ভোক্তাস্বার্থমূলক ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
১৩. আন্তর্জাতিক জ্বালানি চুক্তি বিষয়ে সতর্কতা
Energy Charter Treat- এর মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি দেশের নীতি স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে-এই আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানের জন্য শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আইনি সংস্কার, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা, নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, এই প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
উপসংহার
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট একটি গভীর কাঠামোগত সমস্যা। এই সংকটের সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত নীতি পরিবর্তন, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানি ন্যায়বিচার এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বকে একসঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
ক্যাবের ১৩ দফা দাবি এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ভিত্তি প্রদান করে। এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ব্যয় হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের জন্য একটি নতুন পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
অতএব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য ক্যাবের প্রস্তাবিত নীতিগত সংস্কারগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আজ জ্বালানি খাতে বৈশ্বিক যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে সেটা একদিকে আমাদের এক গভীর সংকটের মধ্যে ফেলেছে অন্যদিকে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা পরিহার করে জাতীয় সমক্ষমতা অর্জনের সুযোগকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিলে এই সংকট আমাদের জন্য শাপে বর হতে পারে। ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি-২০২৪ এর আলোকে ক্যাবের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়িত হলে আজকের সংকট সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারে। এই জনপ্রত্যাশা পূরণের সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব সরকার সহ সকল রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ক্যাব যুব সংসদ উত্থাপিত ১৩ দফা দাবি:-
দাবিসমূহ
(১) বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাত হতে পুনরায় সেবাখাত হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সরকারি সেবা মুনাফামুক্ত নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ কস্ট প্লাস নয় কস্টভিত্তিক নিশ্চিত করা;
(২) জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানের তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি গড়ে বর্তমান সরকারের ৫ বছর মেয়াদে কমপক্ষে ৫% কমানো নিশ্চিত করা;
(৩) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত বৃদ্ধি দ্বারা ওই ৫ বছরে গড়ে ১৫% বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং ছোট শিল্প হিসাবে এ-বিদ্যুৎ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া;
(৪) এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ৫ বছরের জন্য রহিত করা এবং কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করা;
(৫) গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে গণশুনানির ভিত্তিতে স্থলভাগের শতভাগ গ্যাস বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানি দ্বারা শতভাগ অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা;
(৬) গণশুনানির ভিত্তিতে ছাতক (পূর্ব) ও ভোলা/দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত মজুদ গ্যাস ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ণ নিশ্চিত করা;
(৭) আদানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করানো এবং আদানির বিদ্যুৎ আমদানি রদ নিশ্চিত করা;
(৮) স্পিডি অ্যাক্ট ২০১০ রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৪’-এর অন্তর্ভুক্ত ২(ক) এবং ২(খ) অনুচ্ছেদ বাতিলের জন্য ক্যাবের দায়েরকৃত রিট দ্রুত নিস্পত্তি করে এই আইনের আওতায় সম্পাদিত সকল চুক্তি রিভিউক্রমে লাইসেন্স বাতিলসহ সকল ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা;
(৯) ওইসকল চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে আদায় নিশ্চিত করা;
(১০) জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের ‘জ্বালানি অপরাধি’ হিসেবে বিচার নিশ্চিত করা;
(১১) (ক) লুণ্ঠনমূলক ‘ব্যয় ও মুনাফা’ মুক্ত করে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে বিদ্যমান মূল্যহার কমানো এবং (খ) এলপিজি’র বাজার ওলিগোপলি থেকে মুক্ত করার জন্য এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর কর্তৃত্ব রদ করা, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আমদানিকারকদের প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির লাইসেন্স প্রদান করা, সরকারি মালিকানায় এলপিজি টারমিনাল ও ওয়েল রিফাইনারি করা এবং সরকারি মালিকানায় এলপিজির ৫০% আমদানি ও স্টোরেজ ক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত। করা;
(১২) বিইআরসি’র জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিইআরসি’র বিরুদ্ধে আনীত ক্যাব-এর অভিযোগ দ্রুত নিস্পত্তি করা, ক্যাব প্রস্তাবিত বিইআরসি আইন সংশোধনী প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা ও সেই সাথে ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি, ২০২৪ এর আলোকে গণবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং
(১৩) আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা সুরক্ষায় প্রণীত জ্বালানি সনদ চুক্তি ১৯৯২ স্বাক্ষরে সরকারকে বিরত রাখা।
ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি-২০২৪-এর আলোকে জাতীয় স্বার্থে উল্লিখিত ১৩ দফা দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার জ্বালানি সুবিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন এই প্রত্যাশা আমাদের।
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন