একাত্তরে প্রথম মৃত্যুর ২৮ বছর পর দ্বিতীয় মৃত্যু যার : কালীরঞ্জন শীল

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

কালীরঞ্জন শীল। আমাদের সকলের অতিপ্রিয় কালী দা’। তিনি ছিলেন আমার স্বপ্ন-সাধনা-আদর্শের অন্তরঙ্গ সাথী। তিনি ছিলেন সর্বজনের সব কাজে সর্বত্র ও সর্বদা বিরাজমান বন্ধু। ২৬ বছর আগে তিনি আমাদের থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। তাকে দেখেছে, তার সাথে সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে কাজ করেছে আমার মতোই এমন অনেকে আজও জীবিত থাকলেও, এ যুগের বেশিরভাগ মানুষই তাকে দেখেননি, অনেকে তার নাম পর্যন্ত শুনেননি। তাদের কাছে কালী দা’কে তুলে ধরার জন্য, কিছুটা আবেগঘন স্মৃতি মন্থন করে আজ দু’কথা লিখতে বসেছি। কমরেড কালীরঞ্জন শীল ১৯৪২ সালে বরিশালের উজিরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে বিএম কলেজ থেকে বিএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এমএসসি শেষ করে তিনি এমএড-এ পড়াশোনা করেন। ১৯৭০ সালে তিনি তার শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের একজন সক্রিয় কর্মী এবং আন্ডারগ্রাইন্ডে থাকা কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী হিসেবে সংগঠিত হন। ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ তার নাম ‘শহীদের তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত হলেও তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নানা ধরনের ‘নন্কমব্যাট’ কাজে অংশগ্রহণ করেন। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম লগ্নেই হানাদার বাহিনীর ব্রাশ ফায়ারে শহীদ হয়েছেন বলে আমরা জেনেছিলাম। জেনেছিলাম যে অনেকেই তাদের নিজ চোখে জগন্নাথ হলের বধ্যভূমিতে কালীরঞ্জন শীলকে হানাদার বাহিনীর গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে এবং পরে অন্যদের মৃতদেহের সঙ্গে তাঁর মৃতদেহকে পড়ে থাকতে দেখেছে। কালীরঞ্জন শীল হয়ে উঠেছিলেন ‘শহীদ কালীরঞ্জন শীল’; ‘শহীদ’ বলে পরিগণিত সেই কমরেডই নিজের নামকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লিপিবদ্ধ করেন। স্বাধীনতার পর কালীরঞ্জন শীল বাংলাদেশ-সোভিয়েত মৈত্রী সমিতির কাজের সাথে যুক্ত হন। পার্টি থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে তিনি বিভিন্ন দেশের সাথে মৈত্রী-সংহতি আন্দোলন ও সংগঠনের কাজে একজন প্রধান সংগঠন হয়ে ওঠেন। একই সাথে তিনি বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের কাজে জড়িত হন এবং সেসব সংগঠনের একজন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হয়ে ওঠেন। এসব সংগঠনের কাজে তিনি মো. নবী ও আলী আকসাদের অনেকটা সেকেন্ড ম্যান হয়ে ওঠেন। তাছাড়াও, পার্টির হেডকোয়ার্টারকে কেন্দ্র করে যেসব নানা ধরনের কাজকর্ম হতো, সেসবের অনেক কাজের সাথেই কালীরঞ্জন শীল জড়িত থাকতেন। সেসব অনেক কাজ তাঁকে ছাড়াই করা যে সম্ভব হতে পারে, তেমন কথা মাথায় আসতো না। কালী দা’ এবং আমি আমরা দু’জনাই ছাত্র ইউনিয়ন করতাম। সেই সূত্রেই পরিচয় ও পরে ঘনিষ্ঠতা। কালীদা’ ছাত্র ইউনিয়নের জগন্নাথ হলের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা ছিলেন। আমি ঢাকা মহানগরের ও কেন্দ্রীয় কমিটির কাজের সাথে যুক্ত ছিলাম। সে সময় আমরা তৃণমূলের কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দিতাম। কেন্দ্রের বা মহানগরের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও আমার বেশিরভাগ সময় ব্যবহৃত হতো হল, হোস্টেল, ডিপার্টমেন্ট, ক্লাস, কলেজ-স্কুল, ইত্যাদি তৃণমূল পর্যায়ের কাজে। ঘুরতাম হলে-হলে বা প্রতিষ্ঠানে-প্রতিষ্ঠানে, আড্ডা মারতাম ক্যান্টিনে, যোগ দিতাম কর্মী সভায়, রাতে কোনো হল-হোস্টেল-মেসে রাত কাটিয়ে আসতাম। কালীদা’ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের আবাসিক ছাত্র এবং জগন্নাথ হল ছিল ছাত্র ইউনিয়নের একটি শক্ত ঘাঁটি। তাই জগন্নাথ হলে আমার যাওয়া-আসা-থাকা হতো বেশি। কালীদা’র সাথে আমার সম্পর্ক বিশেষভাবে অন্তরঙ্গ হয়ে ওঠার পেছনে এটি ছিল একটি স্বাভাবিক কারণ। এ কারণেই এই সম্পর্কটি ক্রমেই সাংগঠনিক সম্পর্কের গণ্ডি অতিক্রম করে আন্তরিক ব্যক্তিগত সম্পর্কে উন্নীত হয়েছিল। কালীরঞ্জন শীলের সাথে বিশেষভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠার অপর আরেকটা কারণ ছিল, অপরকে বন্ধু করে নেয়ার ক্ষেত্রে তার অসাধারণ ক্ষমতা ও দক্ষতা। তাঁর চলাফেরা, কথা-বার্তা, আচার-আচরণ–সব কিছুতেই ছিল তাঁর এই অসাধারণ সামর্থ্যরে স্বাভাবিক প্রকাশ ও বিস্তার। কেউ কালীদা’র সংস্পর্শে এলে তাকে তাঁর ঘনিষ্ট হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকতো না। দু’জনার এভাবে ঘনিষ্ট হয়ে ওঠাটা ছিল যেমন স্বাভাবিক তেমনই অবধারিত। কমরেড কালীরঞ্জন শীল কখনোই সচরাচর উঁচু কণ্ঠে কথা বলতেন না। বলতেন কোমল কণ্ঠে, অনেকটা কানে কানে অন্তরঙ্গ আলাপচারিতার ঢংয়ে। কিছুটা বাচ্চা ছেলের আহ্লাদি ঢংয়ে কথা বলার মতো করে। তাঁর আলাপচারিতায় থাকতো হৃদয়ের অনুভূতির ছোঁয়া, কূটনীতিকের হিসেব করে ‘মাথা খাটিয়ে’ কথা বলার কুটিলতা তাতে থাকতো না। যারা তাঁর সংস্পর্শে আসতেন তাদের সাথে কালীদা’ নিবিড় ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতেন ও তা সযত্নে লালন করতেন। রাজনীতির গন্ডিকে অতিক্রম করে তা প্রসারিত হতো সামাজিক, পারিবারিক, ব্যক্তিগত পরিমণ্ডলে। রাজনীতির সম্পর্কগুলোও তাঁর কাছে রূপ নিতো, গ্রহণ করতো মানুষে-মানুষে সম্পর্কের একান্ত নিবিড় রূপ। কালী দা যে কতো মানুষের, কতো কমরেডের ব্যক্তিগত-পারিবারিক কতো কাজ আগ্রহের সাথে করে দিয়েছেন, তার হিসেব দিয়ে শেষ করা যাবে না। কালীরঞ্জন শীল নেতা ছিলেন। কিন্তু সেই নেতৃত্বের চেহারা ও পদ্ধতি গতানুগতিক ছিল না। তিনি ‘এ্যাজিটেটর’ ছিলেন না। চমক লাগানো বক্তৃতা তিনি করতেন না। মাইকের সামনে, মিছিলের অগ্রভাগে তাঁর উপস্থিতি তেমন থাকতো না। তাঁর ভূমিকা ছিল প্রধানত আয়োজকের। সে আয়োজন যতোটা না টেকনিক্যাল বিষয়ে, তার চেয়ে সেটি বেশি ছিল প্রপাগান্ডিস্ট রূপে। মানুষকে জনে-জনে বুঝিয়ে বুঝিয়ে পথে নিয়ে আসতে পারাতেই ছিল তাঁর বিশেষ দক্ষতা। কালীরঞ্জন শীল ছিলেন প্রতিভাবান ও মেধাবী। ছাত্র পড়াতেন, টিউশনি করতেন। এ কাজে তার ছিল অসাধারণ সাফল্য। অসাধারণ ধৈর্য না থাকলে এ কাজ ভালোভাবে করাটা সম্ভব হয় না। রাজনীতির ক্ষেত্রে যেমন, তেমনই অন্যান্য সব ক্ষেত্রে, তিনি ছিলেন প্রচণ্ড ধৈর্যশীল। রাজনীতির কোনো প্রসঙ্গ অথবা পাঠ্যসূচির কোনো বিষয়কে বুঝানোর জন্য ধৈর্যের সাথে তিনি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করতেন। বুঝিয়ে উঠতে না পারা পর্যন্ত নিবিষ্ট হয়ে সে প্রচেষ্টায় লেগে থাকতেন। তার এই স্বভাবের জন্য কেউ কেউ কখনো কখনো তাঁর ওপর বিরক্ত হতেন। কিন্তু কালীদা’ সেসবের পরোয়া করতেন না। লজ্জা-অপমানে আঢ়ষ্ট হয়ে ‘হাল ছেড়ে’ না দিয়ে শেষতক্ সে কাজে তিনি ‘লেগে থাকতেন’। কমরেড কালী রঞ্জনশীল ছিলেন প্রচণ্ডভাবে জীবন্ত। তিনি ছিলেন মৃত্যুর বদলে জীবনের প্রতিচ্ছবি। তাই তাকে স্মরণ করে দু’কথা লিখতে গিয়ে তার ‘দু বার মৃত্যুর’ অলৌকিক ঘটনার অবতারণা করা অনেকটাই বেমানান। কিন্তু এ ঘটনাও তাঁর অক্ষয় জীবনীশক্তির অনন্যতার প্রতীক। সকলের কাছে কালীদা’ ছিলেন মৃত্যু থেকে আবার বেঁচে ওঠা একজন মানুষ। একাত্তরের ২৫ মার্চের পর থেকে বহুদিন পর্যন্ত এ কথা সকলেই জানতেন যে হানাদার বাহিনীর ক্র্যাক ডাউনের সেই ভয়াল রাতে অন্যান্যদের সাথে তাকেও ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়েছে। জগন্নাথ হলের মাঠে যাদেরকে সেদিন লাইন করে দাঁড় করানোর পর গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে একজন ছিলেন আমাদের কালী দা’। তার লাশ পাওয়ার কোনো উপায় ছিল না। কারণ ব্রাশ ফায়ার করার আগে তাদেরকে দিয়েই খেলার মাঠে কবর খুঁড়িয়ে নিয়ে, তাদেরকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে সবগুলো মৃতদেহ সেখানেই মাটিচাপা দেয়া হয়েছিল। কালীদা’ ২৫ মার্চ কালোরাতে এভাবে শহীদ হয়েছেন। একথা জেনেই আমরা দেশকে হানাদার মুক্ত করতে অস্ত্র হাতে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। সেসময় ‘শহীদ কালীরঞ্জন শীলের’ নাম করে অনেক বক্তৃতা হয়েছে, অনেক লেখা হয়েছে। দেশ হানাদারমুক্ত হওয়ার পরেই কেবল জানতে পেরেছিলাম যে ‘শহীদ হওয়া’ কালী দা’ আসলে বেঁচে আছেন। শহীদ কালীরঞ্জন শীল আমাদের সকলকে চমকে দিয়ে জীবন্ত কালীদা’র রূপ নিয়ে সশরীরে মর্তে পুনঃআবির্ভূত হয়েছিলেন। তাকে লাইনে দাঁড় করিয়ে লাইন বরাবর ব্রাশ ফায়ার করার যে ঘটনার বিবরণ আমরা কালী দা’র মুখ থেকেই শুনেছিলাম তা সর্বাংশে সত্য। কিন্তু তিনি একটু নিচু হয়ে দাঁড়াবার কারণে গুলি তার গায়ে লাগেনি। অন্যরা প্রায় সবাই মৃত্যুবরণ করলেও তিনি সকলের লাশের নিচে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। যারা আহত হয়ে নড়াচড়া করছিলেন তাদের বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। কালী দা’ শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে নিশ্চুপ থেকে, কোনো এক সময় ক্রলিং করে নিজেকে বধ্যভূমি থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। অলৌকিকভাবে তার এই বেঁচে যাওয়ার কাহিনী শুনেছিলাম তাঁর নিজের মুখ থেকেই। স্বাধীন দেশে আমরা ২৮ বছর ধরে একসাথে যে কমরেড কালীরঞ্জন শীলের সাথে কাজ করেছি, তিনি মৃত্যুকে জয় করে বেঁচে রয়েছেন। তার যে আবার মৃত্যু হবে এমন ভাবনা প্রায় উধাও হয়ে গিয়েছিল। অথচ এই ঘটনার ২৮ বছর পর তিনি চলে গেলেন। তারিখটি ছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সাল। সেদিন বিএনপি’র ডাকা টানা হরতালের দিন ছিল। সেদিন রাত ভোর হওয়ার আগেই কালীদা’র স্ত্রী রুনু বৌদি’র ফোন এসেছিল। ডুকরে ওঠা কান্নার মাঝে কয়টি মাত্র শব্দ, “আপনাদের কালী দা’ আর নেই।” কথাগুলো বজ্রপাতের মতো প্রচণ্ড আঘাত হেনেছিল। সমস্ত শরীর কাঁটা দিয়ে উঠেছিল। ঠান্ডা অনুভূতিতে শিরশির করে উঠেছিল মেরুদণ্ড। চমকে উঠেছিলাম। এ কি কথা, কালীদা’ নেই! মাত্র আগের দিনই কালীদা’র সাথে পার্টি অফিসে বসে আড্ডা হয়েছে, কথা হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির ৭ম কংগ্রেস অনুষ্ঠানের স্থান হিসেবে ইনস্টিটিউট অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রাঙ্গণ ব্যবহারের অনুমতির জন্য তিনি কর্মকর্তাদের সাথে কথা পাকা করে এসেছেন। পরদিন সকালে যেয়ে তিনি অনুমতিপত্রটি নিয়ে আসবেন বলে জানালেন। দিব্যি কথাবার্তা হলো। সেদিন মুখটা একটু শুকনো দেখাচ্ছিল। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেছিলেন, ওখান থেকে পায়ে হেঁটে এসেছি। তাই ক্লান্ত দেখাচ্ছে। পথে বসে একবার বিশ্রাম নিতে হয়েছিল। পিপাসায় কাতর। পানি দিতে বললেন। এসব কথার পর তিনি সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় বাড়ি চলে গেলেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, আগে থেকে কোনো জোরালো সিগন্যাল না দিয়ে, কালীদা’ চলে গেলেন। হরতালের পিকেটিং শুরু হওয়ার আগেই গিয়ে পৌঁছেছিলাম কালীদা’র শান্তিবাগের বাসায়। বৌদি’কে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম যে মাঝরাতে কালীদা’র বুকে ব্যথা শুরু হয়েছিল। এ্যান্টাসিড খেয়ে ব্যথা কিছুটা সময় বন্ধ রাখা গিয়েছিল। গভীর রাতে সেই ব্যথা আরো বেশি করে চেপে বসেছিল। প্রচণ্ড ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েছিলেন কালী’দা। বৌদি তার বুকে-পিঠে মালিশ করে ব্যথা কমাতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছিল না। অবস্থার আরো অবনতি হচ্ছিল। অবশেষে একটি স্কুটার জোগাড় করে, এলিয়ে পড়া কালীদা’কে তাতে কোনোভাবে উঠিয়ে, তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হাসপাতালে। সম্ভবত, পথেই কালীদা’ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। হাসপাতালের ডাক্তারদের তেমন কিছু করার সুযোগ তখন আর ছিল না। মৃত্যুকালে কমরেড কালীরঞ্জন শীল ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য। ১৯৯৩ সালে বিলোপবাদীরা পার্টি ত্যাগ করার পর সমাজতন্ত্রের পতাকা শক্তভাবে ধারণ করে তিনি পার্টির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে শরিক হয়েছিলেন। এর আগে প্রায় তিন দশক ধরে তিনি এই পার্টির কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই তিনি পার্টির লাল কার্ডধারী পূর্ণ সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। তিনি আমৃত্যু একজন কমিউনিস্ট হিসেবে পার্টি সভ্যপদের সেই দায়িত্ব মর্যাদার সাথে পালন করে গেছেন। হরতালের মাঝেই তাঁর মরদেহ আনা হয়েছিল পার্টি অফিসে। পার্টির রক্তপতাকায় মরদেহ আচ্ছাদিত করে ও ‘ইন্টারন্যাশনাল’ গানটি গেয়ে তাঁকে সম্মানের সাথে শেষ বিদায় জানানো হয়েছিল। কমরেড কালীরঞ্জন শীলকে পার্টির পতাকায় আচ্ছাদিত করে, সমবেত কণ্ঠে ‘ইন্টারন্যাশনাল’ সংগীত গেয়ে শেষ বিদায় দেয়ার পর আড়াই দশকের বেশি সময় পার হয়েছে। কিন্তু আজও অনুভব করি যে, কালীদা’ যেন জীবন্তই আছেন, হয়তো ঘরের এক কোণায় বসে কথা বলছেন! তার মরদেহের ছবিকে ছাপিয়ে সবসময় জেগে ওঠে জীবন্ত কালীরঞ্জন শীলের স্মৃতি। কমরেড কালীরঞ্জন শীল – তুমি চিরঞ্জীব!

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..