ভাষা শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে গাদ্দারির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ডাকসু সংগ্রহশালায় বাংলা ভাষার বিরোধীতাকারী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আ. মালেকের ছবি টাঙিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের প্রতি চরম অবমাননা প্রদর্শন করা হয়েছে। তাই এখনই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের সভা থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ-র সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, আরসিএলবি’র সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব)’র সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, সিপিবি’র রাগিব আহসান মুন্না, বাসদ’র নিখিল দাস, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ, বাসদ (মাহবুব)’র মহিউদ্দিন চৌধুরী লিটন। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে ’৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী, উগ্র ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী জামাত-শিবির ও তাদের সহযোগীরা বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের মদদে মব সৃষ্টি করে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্মারক, স্থাপনা, ভাস্কর্য, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি, মেহেরপুরে মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকারের স্মৃতিস্তম্ভসহ হাজারেরও বেশি মুক্তিযুদ্ধ স্মারক ধ্বংস করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, গত দুই বছরে মুক্তিযুদ্ধের যতগুলো ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে সরকারের উদ্যোগে তা পুনর্নির্মাণ করতে হবে। আর তদন্ত করে ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে যুক্ত দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, তারা জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা পরিবর্তনের দাবি করেছিল। তারা বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার অপচেষ্টা করেছে, তার গ্রাফিতিতে কালি লেপন করেছে। সর্বশেষ বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু জামাত-শিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র-ছাত্রী সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাঙালি জাতির ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেয়ার ঘোষণাকারী ও বাংলা ভাষার বিরোধীতাকারী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী আলবদর বাহিনী গঠনকারী সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আ. মালেকের ছবি টাঙিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও যৌন নিপীড়নের শিকার ২ লাখ নারীর প্রতি চরম অবমাননা প্রদর্শন করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিশোধ স্পৃহার একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক বার্তা। তাই এখনই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এই শক্তিকে প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া নেতৃবৃন্দ হাম ও ডেঙ্গুতে মানুষের মৃত্যুমিছিল থামাতে সরকারের ব্যর্থতায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অবিলম্বে ডেঙ্গুর উৎপত্তিস্থল ধ্বংস ও ডেঙ্গু পরীক্ষার সরঞ্জামাদি নিয়ে বিভিন্ন বস্তি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উপস্থিত হয়ে বিনামূল্যে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ র‌্যাব বিলুপ্ত না করে শুধুমাত্র নাম পরিবর্তন করে পুরোনো কাঠামো বহাল রাখায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এছাড়া সরকারের ৪৪টি কলকারখানা বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ। তারা ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে প্রাচারকৃত টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা ও খেলাপীঋণ উদ্ধার এবং পাচারকারী ও ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি জোর দাবি জানান। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের এ সভা থেকে কয়েকটি কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। সেগুলি হল— ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার-হাম-ডেঙ্গুতে মানুষের মৃত্যু ও প্রশমনে সরকারি ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার-ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, খেলাপীঋণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ ও গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি পেশ। ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার-স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নীতিমালার গণবিরোধী ধারাসমূহ বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রধান নির্বাচন

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..