ব্রাক্ষণবাড়িয়া কলেজে মুক্তিযুদ্ধের চিত্র প্রদর্শনীর ওপরে আক্রমণ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা: মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বুদ্ধিজীবীদের ওপর একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংসদ। কিন্তু চিত্র প্রদর্শনীর উপর কাপুরুষের মতো আক্রমণ করে একটি গোষ্ঠী। সংগঠনটির নেতারা জানান, ২৫ মার্চ কালরাতে প্রদর্শনীর সব আয়োজন সম্পন্ন করে ছাত্র ইউনিয়ন। সকালে প্রদর্শনী স্থলে গিয়ে দেখা যায় শহিদমাতা জাহানারা ইমাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ রুমিসহ কয়েকটি ছবি ছেঁড়া। এরপর পরদিন ২৭ মার্চ ভোরে চিত্র প্রদর্শনীর ছবি ও পর্দাগুলো ছেঁড়া অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী এই কাজ করেছে বলে ধারণা ক্রিয়াশীল ছাত্রনেতাদের। চিত্র প্রদর্শনীর ছবিগুলো নষ্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সংসদের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ছাত্র ইউনিয়ন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের সব জাতীয় ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এদেশের ছাত্রদের শিক্ষা অধিকার নিয়ে রাজপথে লড়াই করেছে। ছাত্র ইউনিয়ন স্বতন্ত্র ও স্বাধীন একটি ছাত্রগণসংগঠন। আমাদের এ সংগঠন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে অনেক নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। কিন্তু শহীদ রুমির ছবিসহ মুক্তিযুদ্ধের চিত্র প্রদর্শনী এভাবে রাতের আঁধারে বা ভোরে ছিঁড়ে ফেলেছে, নষ্ট করে দিছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দ্রুত কলেজ ক্যাম্পাসের সিসি ক্যামেরা দেখে কর্তৃপক্ষকে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। কারণ এদের ছাড় দিলে এমন ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাবে। যারা বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি সংস্কৃতিকে মানে না তারাই এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ করেছে বলে দাবি এই ছাত্রনেতার। ঘটনার পরে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সমীর চক্রবর্তী কলেজ ক্যাম্পাসে ছুটে আসে। এবং এ ঘটনার ঘৃণা ও নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, যারা বাংলাদেশ মানে না, তারাই এমন কাজ করেছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জেলা সিপিবির সভাপতি সাজিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম স্বপন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা কমিটির জেলা আহ্বায়ক সৈয়দ মো. জামাল, উদীচী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি জেলা কমিটির সভাপতি এম এ রকিব ও সাধারণ সম্পাদক আসমা খানম। প্রতিবাদ বিবৃতিতে তারা বলেন, এটা অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার বিষয়। স্বাধীন দেশে ৫৫ বছর পরও একটি মুক্তিযুদ্ধের চিত্র প্রদর্শনীর উপর কাপুরুষের মতো আক্রমণ এ জাতিকে হজম করতে হয়। এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের দাবি এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..