উচ্ছেদ নয়, উত্তরণ চাই

আরিফুল ইসলাম নাদিম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদের অভিযান চলছিল। হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের লোকজনের সংঘর্ষ বাঁধে। এর পর চারটি মামলায় প্রায় দুই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৫ জন। পরদিনই ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক জানান, নিবন্ধন ছাড়া নগরীর কোথাও হকার বসতে পারবে না। উচ্ছেদের সঙ্গে মালামাল জব্দ ও সরাসরি মামলা হবে। ৫ অক্টোবর আরও এক ধাপ এগিয়ে বললেন, ঢাকার কোনো স্থানে হকার বসতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ায় চালকরা প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের চার সাথী এখনো কারাগারে। আরেকটা ছবিও আছে। উচ্ছেদ আর ‘হকারমুক্ত’ ঘোষণার নয় দিন পার না হতেই পল্টন থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত ফুটপাতে হকাররা ফিরে এসেছেন, কোথাও মূল সড়ক পর্যন্ত। উচ্ছেদের সময় জ্যামে আটকে থাকা অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলছেন, ‘ভালোই হলো’। জ্যাম সত্যিই যন্ত্রণার, ভাঙা ফুটপাতে হাঁটাও কষ্টের। তবু একটা প্রশ্ন আমরা এড়াতে পারি না। যাঁর পসরা ছুড়ে ফেলা হলো, যাঁর রিকশা আটক হলো, তিনি সেদিন সন্ধ্যায় কোথায় ফিরবেন? পরদিন তাঁর সংসারে চুলা জ্বলবে কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর ছাড়া যে সমাধান, তা আসলে সমস্যাকে চোখের আড়ালে সরিয়ে দেওয়া। কিছু ধারণা পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। আমরা অনেকে ভাবি, হকার আর রিকশাচালকরা শহরে বাড়তি ভিড় বাড়িয়েছেন। বাস্তবে ব্যাপারটা প্রায় উল্টো। বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ বলছে, দেশের কর্মজীবী মানুষের ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। গ্রামে এ হার ৮৭ দশমিক ৬, শহরেও ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের হিসাবে, জিডিপির ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। একে অর্থনীতির কিনারা বললে ভুল হবে, এটাই মেরুদণ্ড। আর এটা শুধু আমাদের ছবি নয়। আইএলও-র প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২১০ কোটি মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে জীবিকা চালান। অপরিকল্পিত শিল্পায়নের কারণে পিছিয়ে থাকা অর্থনীতিগুলোয় এটা কোনো ব্যতিক্রম নয়, বরং চেনা লক্ষণ। ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইকের সংখ্যা ধরা হয় প্রায় ৭০ লাখ, ২০১৬ সালে যা ছিল দু-তিন লাখের মতো। অবশ্য এটা আনুমানিক। নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেই বলে সরকারের হাতেও সঠিক হিসাব নেই, ঢাকা মহানগর পুলিশ এই আগস্টে এসে মালিক, চালক, গ্যারেজ আর কারখানার তথ্য জোগাড় শুরু করেছে। প্রতিটি যানের ওপর গড়ে চার-পাঁচজন নির্ভর করেন ধরলে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। হকারের হিসাবও এমনই ধোঁয়াশা। কেউ বলছেন ঢাকায় প্রায় তিন লাখ, হকার সংগঠনগুলো বলছে আট-নয় লাখ। ভাবুন একবার, যে রাষ্ট্র লাখ লাখ মানুষকে গুনেই উঠতে পারেনি, সেই রাষ্ট্র তাঁদের সরিয়ে দিতে ব্যস্ত। এই খাতের অর্থনৈতিক ছোঁয়া চালকের আসনেই শেষ হয় না। একটা রিকশা চলতে গেলে লাগে গ্যারেজ, বডি তৈরির কারখানা, ব্যাটারি মেরামতের দোকান, টায়ার-টিউব আর যন্ত্রাংশের দোকান। মাঠপর্যায়ের হিসাবে দেশজুড়ে লাখের ওপর ক্ষুদ্র ব্যবসা এই খাতকে ঘিরে দাঁড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনের ভাড়ার সিংহভাগ ব্যয় হয় স্থানীয় বাজারেই, গ্রামীণ আর উপশহরের অর্থনীতিতে টাকার চলাচল সচল রাখতে প্রধান ভূমিকা এদেরই। তাঁরা এই পেশায় এলেন কেন? কারণটা সোজা। গ্রামে কাজ নেই। নব্বইয়ের দশকে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমশক্তি ছিল কৃষিনির্ভর। তারপর জমি ভাগ হয়ে ছোট হয়েছে, শহর চাষের জমি গিলেছে, কৃষিতে যন্ত্র ঢুকেছে। একটা গবেষণায় দেখা গেছে, চাষ, সেচ, নিড়ানি, মাড়াইয়ের ৬৫ থেকে ৯৫ শতাংশই এখন যন্ত্রনির্ভর। মাঠে শ্রমিকের চাহিদা কমেছে। অথচ শিল্পায়নের গতি এত ধীর যে, ২০২৪ সালের জরিপেও মোট শ্রমশক্তির ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ কৃষিতে, শিল্পে মাত্র ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ। সাধারণত উন্নয়নশীল দেশে মানুষ কৃষি ছেড়ে কারখানায় যায়। আমাদের এখানে ঘটছে প্রায় উল্টো, যা আইএলও-র গবেষণায় এক ধরনের অদ্ভূত কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে ধরা পড়েছে—শিল্প এত ধীরে বাড়ছে যে মানুষ কম আয়ের কৃষি বা নিজে কিছু একটা করে খাওয়ার মতো অনানুষ্ঠানিক কাজেই আটকে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক ছাড়া এমন কোনো বড় খাত দাঁড়ায়নি, যেখানে এই মানুষগুলো ঠাঁই পেতে পারেন। কাজেই তাঁরা শহরে এসেছেন বাঁচার তাগিদে, শখ করে নয়। আর এই ভিড়ে শুধু অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত মানুষ নেই। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩ ও ২০২৪-এর তথ্য ঘাটলে দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ৫৯ শতাংশ বাধ্য হয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী বেকারদের প্রায় ২৯ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী। তার মানে গলদটা মানুষের যোগ্যতায় নয়, অর্থনীতিতে সম্মানজনক কাজের জায়গাটাই কাঠামোগতভাবে সরু। যাঁদের আমরা উচ্ছেদ করতে চাইছি, তাঁরা আসলে সেই ব্যর্থতারই প্রথম শিকার। কার্ল মার্কস ‘ডাস কাপিটাল’-এ পুঁজিবাদের একটা মৌলিক বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন, যাকে তিনি নাম দিয়েছিলেন শ্রমের উদ্বৃত্ত সেনাবাহিনী। পুঁজি বাড়ে, যন্ত্র আসে, মূলধন এক জায়গায় ঘন হয়, আর শ্রমশক্তির একটা অংশ উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়ে। এই উদ্বৃত্ত মানুষগুলো পুঁজির কাছে শুধু বাড়তি বোঝা নয়। তাঁরা আছেন বলেই প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকের মজুরি নিচে ধরে রাখা যায়, কারণ কাজ হারালে বিকল্পের ভিড় বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশে এই উদ্বৃত্ত সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশ আজ ফুটপাতের পসরায় বা রিকশার প্যাডেলে। ব্যাপারটা আরও এক ধাপ এগোয়। যে পোশাকশ্রমিক ভোরে ফুটপাত থেকে সস্তায় নাশতা কেনেন, কম ভাড়ায় রিকশায় চড়ে কারখানায় যান, কাপড়-জুতোও কেনেন হকারের কাছ থেকে, তাঁর বেঁচে থাকার খরচ কম রাখার পেছনে এই খাতের ভূমিকা কম নয়। অর্থাৎ অনানুষ্ঠানিক খাত পরোক্ষভাবে শিল্প খাতের নিম্ন-মজুরির কাঠামোটাকেও টিকিয়ে রেখেছে। একে ‘বাড়তি’ বা ‘অগোছালো’ বলে সরানোর চেষ্টা তাই শুধু কিছু মানুষকে উচ্ছেদ করা নয়, গোটা অর্থনীতির একটা ভিতে হাত দেওয়া। আরেকটা ভুলও এখানে শুধরে নেওয়া দরকার। মার্কস ‘লুম্পেন প্রলেতারিয়েত’ নিয়ে যে সতর্কতার কথা বলেছিলেন, অনেকে হকার-রিকশাচালককে সেই কাতারে ফেলে দেন। অথচ যাঁরা প্রতিদিন নিজের শ্রমে, নিজের পুঁজিতে, নিজের ঘামে আয় করছেন, তাঁরা লুম্পেন নন। তাঁরা শহরের অর্থনীতিকে সচল রাখা শ্রমজীবী মানুষ। উচ্ছেদের পক্ষে সচরাচর তিনটা যুক্তি শোনা যায়—ফুটপাত দখল, যানজট আর দুর্ঘটনা। একটা একটা করে দেখি। হকাররা ফুটপাতে বসেন, এটা ঠিক। কিন্তু কেন বসেন? কারণ ঢাকা আর চট্টগ্রামের পরিকল্পনায় তাঁদের জন্য কোনো জায়গাই রাখা হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার আসার পর বলা হয়েছিল, উচ্ছেদ নয়, পুনর্বাসন আর নিবন্ধনের পথে যাওয়া হবে। দক্ষিণ সিটির প্রশাসক নিজেই বলেছেন, শুধু হুট করে উচ্ছেদ করলে চলবে না, বিকল্প ব্যবস্থাও করতে হবে। তাঁর পরিকল্পনায় আছে আটটি নৈশ বাজার, যেখানে বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হকাররা বসবেন। এবার একটু হিসাব করা যাক, সবচেয়ে কম ধরা তিন লাখ হকারকে আটটা নৈশ বাজারে বসানো কি অঙ্কের হিসাবেই সম্ভব? এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদে হাজারো হকার একদিনে কর্মহীন হয়ে গেছে। ঢাকাতেও বহুবার উচ্ছেদ হয়েছে, আর প্রতিবারই ফুটপাত ফিরে গেছে হকারদের হাতে। কারণ উচ্ছেদ আসলে একটা চক্র-তুলে দাও, ফিরে আসবে, আবার তুলে দাও। এই চক্রে লাভ হয় চাঁদাবাজের, লোকসান হয় গরিবের পুঁজির। সমাজবিজ্ঞানী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘দ্য পলিটিকস অব দ্য গভর্নড’ বইয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শহর নিয়ে এই কথাই ধরিয়ে দিয়েছেন। তিনি দুটো জগৎ আলাদা করেন, পৌর সমাজ আর রাজনৈতিক সমাজ। আইনসম্মত নাগরিক অধিকার ভোগ করেন মধ্যবিত্ত, তাঁরা পৌর সমাজের মানুষ। আর ফুটপাত, বস্তি বা অনানুষ্ঠানিক খাতে থাকা শহুরে গরিব রাষ্ট্রের খাতায় প্রায়ই “অবৈধ”। রাষ্ট্র তাঁদের পুরো নাগরিক স্বীকৃতি দেয় না, অথচ রাজনৈতিক ছত্রছায়া, চাঁদা আর মধ্যস্বত্বভোগীদের সমঝোতার বিনিময়ে তাঁদের থাকতে দেয়। ফলে উচ্ছেদ আর ফিরে আসার এই চক্র প্রশাসন আর স্থানীয় প্রভাবশালীদের জন্য এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক আয়ের পথ হয়ে ওঠে। শহর যেখানে ছিল সেখানেই থাকে। যানজটের কারণ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বহুবার বলেছেন-গণপরিবহনের অভাব, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, আর রাস্তার তুলনায় অতিরিক্ত ব্যক্তিগত গাড়ি। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের হিসাবে ঢাকার সড়কের প্রায় অর্ধেক জায়গা চলে যায় ব্যক্তিগত গাড়ির দখলে, অথচ সেগুলোতে যাত্রী চলাচল করেন মাত্র ৬ থেকে ১২ শতাংশ। সেখানে সড়কের অর্ধেক বড় বাসের জন্য ছেড়ে দিলে প্রায় ৮৮ শতাংশ যাত্রী বহন করা সম্ভব। এই অবস্থায় জ্যামের দায় রিকশার ওপর চাপানো মানে কয়েকটা গাড়ি আর একটা রিকশার ভিড়ে রিকশাটাকে অপরাধী বানানো। অথচ রিকশা দূষণ করে না, ভাড়া কম, অনেক গলিতে এটাই একমাত্র বাহন। আলাদা লেন, ভালো রুট আর ফিডার ব্যবস্থা থাকলে রিকশা গণপরিবহনের সঙ্গে মিলেমিশেই চলতে পারে। ব্যাটারিচালিত রিকশার নকশায় ত্রুটি আছে, সেটা মানতেই হবে। পায়ে-চালানো রিকশার হালকা কাঠামোয় ভারী ব্যাটারি আর মোটর বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই ভারসাম্য নষ্ট হয়, ব্রেক গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না, টায়ারও চাপ সইতে পারে না। কিন্তু এর দায় কার? রাষ্ট্র কোনো মানসম্মত নকশা দেয়নি, নিবন্ধনের ব্যবস্থা করেনি। শ্রমিকরা নিজের টাকায় বাহন বানিয়েছে, অনেকে নিজেরাই ভরকেন্দ্র মাথায় রেখে ভালো চ্যাসিস, ভালো ব্রেক আর মোটা টায়ার ব্যবহার করে ঝুঁকি কমিয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক হিসাবে রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রায় ৪৩ শতাংশই পথচারী। অটোরিকশা, সিএনজি আর লেগুনা মিলিয়ে জড়িত ছিল ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ দুর্ঘটনায়, আর বাস, ট্রাক ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে সেই অংশ কয়েকগুণ বেশি। প্রকৌশলের সমস্যা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মেটে না, মেটে মানসম্মত নকশা, নিবন্ধন আর নিরাপদ অবকাঠামো দিয়ে। নিবন্ধনের চেষ্টাটাও দেখুন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, একটা নিবন্ধন নম্বর দিয়ে দশ-বিশটা যান চালানোর জালিয়াতি ধরা পড়েছে। তাহলে ফাঁকটা কোথায়? ব্যবস্থার দুর্বলতায়, শ্রমিকের খেয়ালে নয়। বুয়েটের নকশায় তিন চাকার ই-রিকশার প্রবিধানও তৈরি হয়েছিল, কিন্তু সেটা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি, ফলে মাঠে নামেনি। এবার বিদ্যুতের কথা, যেটা এখন উচ্ছেদের সবচেয়ে নতুন অজুহাত। ব্যাটারিচালিত রিকশাকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণ বলা হচ্ছে, বিদ্রƒপ করে ডাকা হচ্ছে ‘গরিবের টেসলা’। অথচ পাওয়ার সেলের তথ্য বলছে, জাতীয় বিদ্যুতের দেড় থেকে দুই শতাংশ খরচ হয় এই খাতে। চার্জ হয় মূলত রাতে, যখন চাহিদা কম থাকে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে একটা এসি যে বিদ্যুৎ খায়, তা দিয়ে দশ-পনেরোটা রিকশা চার্জ করা যায়। এর পাশে আরেকটা সংখ্যা রাখুন। বিইআরসির হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও শুধু অলস বসিয়ে রাখা কেন্দ্রগুলোকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ৪৮ হাজার ২৬১ কোটি টাকা দিতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে হবে ৫২ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। এবারের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে লুটপাট হয়েছে। খুলনার খালিশপুরে একটা কেন্দ্র দুই বছর এক ইউনিট বিদ্যুৎ না দিয়েও মাসে সাড়ে ষোলো কোটি টাকার বেশি নিয়েছে। এই হিসাবেই বোঝা যায়, বিদ্যুৎ খাতের আসল সংকট ক্যাপাসিটি চার্জের চুক্তির কাঠামোগত ব্যয়, রিকশার ছোট্ট চার্জিং চাহিদা নয়। এবার রিকশার দিকের অভিযানগুলো মিলিয়ে দেখুন। ১৮ আগস্ট রাতে ডেসকো আর পুলিশ মিলে মিরপুরে ২৫টা সংযোগ কেটেছে, ৭০টা ব্যাটারি জব্দ করেছে। সেপ্টেম্বরে রায়েরবাজারে বিদ্যুৎ বিভাগ, র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে পাঁচটা গ্যারেজের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, বৈধ মিটারও কেটে দেওয়া হচ্ছে। যে গ্যারেজ নিয়ম করে বিল দেয়, সেটাও বাদ যাচ্ছে না। অথচ নগর পরিবহনের বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযানের তুলনায় বৈধ চার্জিং অবকাঠামো নাকি প্রায় নেই বললেই চলে। হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট নিয়ে কথা হয় কম, রিকশার ব্যাটারি নিয়ে কথা হয় বেশি। আঙুল কার দিকে উঠছে আর কার দিক থেকে সরানো হচ্ছে, এটুকু দেখলেই বোঝা যায়। (চলবে) লেখক : যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় কমিটি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..