রাশিয়ার তেল ইস্যুতে আমেরিকার চাপে ভারত

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ভারতের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি দরকার। দেশটি কম দামে সেই জ্বালানি কিনতে চায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কও ধরে রাখতে চায় ভারত। কিন্তু জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা চলছে। তাই এ দুই দিক সামলানো ভারতের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি নিষেধাজ্ঞা আইন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ আইনে সই করেছেন। আইনটি তাঁকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। এতে বলা আছে, যেসব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি কেনে, সেসব দেশের পণ্যে তিনি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসাতে পারবেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে রাশিয়ার বিপুল অর্থ দরকার। তেল ও জ্বালানি পণ্য বিক্রি করে দেশটি সেই অর্থের বড় অংশ আয় করে। মস্কোর এ আয় বন্ধ করাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের লক্ষ্য। শুল্ক কখন ও কীভাবে আরোপ করা হবে, তা অনেকটাই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর কবে শুল্ক বসাবেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তিনি আদৌ এ শুল্ক আরোপ করবেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। শুল্ক আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। ভারত নতুন আইনটিকে হুমকি হিসেবে দেখছে। দিল্লির ভাষ্য, আইনটি ভারতের ওপর ট্রাম্পের চাপ দেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। অথচ একই সময়ে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তির সম্ভাবনা খুঁজছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন কঠিন অবস্থায় পড়েছেন। ভারত তাঁর প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি করে। ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। তাই রুশ জ্বালানি তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা আরও বেড়েছে। কেপলার বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, চলতি গ্রীষ্মে ভারতের আমদানি করা জ্বালানি তেলের প্রায় অর্ধেক এসেছে রাশিয়া থেকে। যুক্তরাষ্ট্র বারবার রুশ তেল নিয়ে নীতি বদলেছে। কাজেই প্রতিবারই ভারতকেও তেল কেনার পরিকল্পনা আর কৌশল বদলাতে হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি বাণিজ্যচুক্তি করেছিল। সেটি ছিল গত ফেব্রুয়ারির ঘটনা। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছিল। বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমাতে রাজি ছিল। এরপর খুব দ্রুত পরিস্থিতি বদলে যায়। চুক্তিটির পেছনে যেসব ধারণা কাজ করেছিল, সেগুলো আর ঠিকঠাক থাকেনি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..