ঝিনাইদহে ভেঙে ফেলা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহের ভূমিপুত্র বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ জনসাধারণ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ভাস্কর্যটিকে কেন্দ্র করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে বানিয়ে ৩২ লাখ প্রকল্পের ফাইল গায়েবের অভিযোগ ওঠেছে। জানা যায়, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের সংযোগস্থলে সড়কের মাঝখানে এই চত্বরটি অবস্থিত ছিল।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান জানান, ২০১৪ সালে এটি উদ্বোধন করেন। ওই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৩২ লাখ টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ শুরু করা হলেও পরে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। বর্তমানে ভাস্কর্য নির্মাণের সেই ফাইলটি পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ খুঁজে পাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
ঝিনাইদহের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, জনদুর্ভোগ লাঘব ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চত্বরটি অপসারণ করার সিদ্ধান্ত হয়। যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টির ফলে আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন হয়তো সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশদ্বারে নির্মিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ ও ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে চত্বরটি অপসারণের কাজ করা হচ্ছে। তবে কারা ভাঙছেন, কী কারণে ভাঙছেন, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গত ১৪ জুলাই দুপুরে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের প্রবেশমুখে অবস্থিত চত্বরটি ভাঙার কাজ চলছে। অপসারণের কাজ নিয়োজিত কর্মীরা জানান, এ বিষয়ে পৌরসভায় যোগাযোগ করে জানা যাবে।
ঝিনাইদহ পৌরসভার শহীদ মশিউর রহমান সড়কের ২৬/৪ উপশহর পাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আবু তোয়াব অপু বলেন, যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে এই ভাস্কর্য ভাঙা আগে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমান স্মারক ভাস্কর্য আরেকটি যথাযথ মর্যাদায় প্রতিস্থাপন ও নির্মাণ করা জরুরি ছিল। ঝিনাইদহের কৃতিসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমান স্মরণে আলোচিত ও ধ্বংসস্তুপে পরিণত ভাস্কর্যটিকে পরিপূর্ণভাবে সংরক্ষণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে যথাযথ স্থানে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না করে ভাঙার ঘটনা মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকেই অবমাননা ও অসম্মানিত করা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহ তথা সারা দেশের গর্ব। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের জীবন দিয়ে বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস লিখে গেছেন। তার নামে একটি চত্বর থাকলে নতুন প্রজন্ম তার সম্পর্কে জানবে। সেটা যদি জেলার প্রবেশমুখে হয়, তাহলে যেকেউ জেলায় প্রবেশের পথেই তার সম্পর্কে জানতে পারবে।
ভেঙে ফেলার বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, কেন ভাঙা হচ্ছে তা জানিনা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় বলতে পারবেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, এটা যে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য তা জানা ছিল না। তাছাড়া জেলা প্রশাসন ভাঙছে বিষয়টি এমন নয়। তবে এটি ওই জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় অনেক আগেই। সড়ক ও জনপথ এবং পৌরসভা সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করছে সম্ভবত। তবে নতুন করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। ভাঙার বিষয়ে তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, কারা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ভাস্কর্য ও চত্বরটি অপসারণ করছে তা আমার জানা নেই।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আমার চাচা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন ঝিনাইদহ পৌরসভা চেয়ারম্যান। সে সময়ের পৌর চেয়ারম্যান আমাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ভাস্কর্য নির্মাণ শুরুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমার ভাই মুস্তাফিজুর রহমান ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এখন ফেসবুকের মাধ্যমে দেখছি ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কেন ভাঙা হচ্ছে, কার নির্দেশে ভাঙা হচ্ছে বা কোন দপ্তর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এসব বিষয়ে আমাদের পরিবারের সঙ্গে কেউ কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।