বন্যায় মৃত্যু অর্ধশতাধিক, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি, নতুন শঙ্কা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১২ লাখের বেশি মানুষ। বন্যার কারণে স্থগিত করা হয়েছে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা জেলাগুলোর পরীক্ষা। গত ৫ জুলাই রাত থেকে টানা পাঁচ দিনের অতিভারি বর্ষণে দেশের ৪৩ জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সাত জেলা। সেগুলো হলো- চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা বন্যা ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হারে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। ১৬ জুলাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাত জেলার ৫৭টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬২টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভা। এসব এলাকায় মোট ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি রয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ৪৯৩ পরিবার। দুর্গত এলাকায় খাদ্য, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে। তাদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে মোট ৪০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজারেই আহত হয়েছেন ২৫ জন। কক্সবাজারে এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এবার উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা এদিকে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিলফামারী, কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ১৭ জুলাই বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানায়, উত্তরের সাতটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এ সময়ে মোটামুটি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হবে। এ কারণে লালমনিরহাট, নীলফামারি, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এ কারণে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..