
একতা বিদেশ ডেস্ক :
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটের ধাক্কা বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশ চীনকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলেছে। তবে এ ধরনের সংকটের জন্য বেইজিং কয়েক বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
চীন বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করে রেখেছে; পাশাপাশি দেশটি সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে দেশটিতে পরিশোধিত তেল, ডিজেল ও গ্যাসোলিনের (পেট্রল) চাহিদা কমতে শুরু করেছে। তা ছাড়া নিজেদের কলকারখানার উৎপাদন সচল রাখতে বিদেশি কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমাতেও তারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি তাদের শিল্প খাতকে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের (২০১৭-২০২১) পর থেকে বেইজিং এ কৌশলকে আরও জোরালো ও বিস্তৃত করেছে। স্থানীয় শিল্প গড়ে তোলার নীতিতে চীন এখন দ্বিগুণ শক্তি নিয়োগ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে সম্পদ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের (সাপ্লাই চেইন) ওপর তাদের আধিপত্যকে আরও শক্তিশালী করেছে।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়া গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের পরিচালক হেইওয়াই টাং বলেন, ‘আপনি এখন ওপরমহল থেকে নেওয়া আরও বেশি সুদূরপ্রসারী শিল্পনীতি দেখতে পাচ্ছেন। কৌশলগত কিছু খাতকে শক্তিশালী করতে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশটিকে পশ্চিমা শক্তির নিয়ন্ত্রণে পড়তে না হয়।’
চীনের এই পুরো পরিকল্পনার মূল চাবিকাঠি ছিল জ্বালানি।
কৌশলগত কিছু খাতকে শক্তিশালী করার জন্য চীনের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশটিকে পশ্চিমা শক্তির নিয়ন্ত্রণে পড়তে না হয়।
এক দশক আগে চীন ছিল জ্বালানিচালিত গাড়ির বিশ্বের বৃহত্তম বাজার। আজ তারা বৈদ্যুতিক যানের (ইভি) শীর্ষ বাজারে পরিণত হয়েছে। একটা সময় প্লাস্টিক, ধাতু, রাবার এবং কলকারখানার অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে পেট্রোকেমিক্যাল আমদানিতে চীন ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এখন তারা মিথানল ও সিন্থেটিক অ্যামোনিয়ার মতো নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক তৈরিতে কয়লা ব্যবহার করছে। এসব কয়লা মূলত তারা নিজেরা উৎপাদন করে। এই অগ্রগতির পেছনে সরকারের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
এশিয়ার প্রায় সব দেশের তেল আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যা ইরান বর্তমানে প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। (এর ফলে বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।) কিন্তু চীন এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি স্থিতিশীল রয়েছে।
চীন এখন তাদের অনেক গাড়ি ও ট্রেন বিদ্যুৎ দিয়ে চালাতে পারছে, যা তেলের ওপর তাদের নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। তা ছাড়া দেশটি পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে তেলের পরিবর্তে কয়লার ব্যবহারেও দক্ষতা অর্জন করেছে। জার্মানি এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অর্থনীতি সচল রাখতে তারা তা ব্যবহার করেছিল। এ প্রযুক্তিই বেইজিংকে তাদের কলকারখানার কাঁচামাল তৈরির জন্য তেলের একটি বিকল্প পথ করে দিয়েছে।