
বগুড়া সংবাদদাতা:
পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানে স্থায়ীভাবে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং শোষণ লুণ্ঠন চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উপর চরম আঘাত নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে এদেশের ছাত্র সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে রুখে দাঁড়ায়। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন।
ছাত্র সমাজ জীবন উৎসর্গ করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে। বরকত, সালাম, রফিক জব্বার, শফিউল বুকের তাজা রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করে ও বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। ভাষা সংগ্রামের সিড়ি বেয়ে চুয়ান্নর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয়, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয়দফা ও এগার দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বিজয় অর্জন সুনিশ্চিত করে।
বক্তারা বলেন, বাংলা ভাষা এখনো উপেক্ষিত, আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক ভাষা বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি ব্যবহার করা হয়। অবিলম্বে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর দাবি জানান সিপিবি নেতারা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বগুড়া জেলা কমিটির উদ্যোগে সকাল ৭.৩০টায় সাতমাথাস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত, কালো পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সকাল ৮টায় মিছিলসহ শহীদ খোকন পার্ক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সিপিবি নেতা-কর্মীরা পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং নিরবতা পালন করেন। সিপিবি বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি আমিনুল ফরিদ ও সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অখিল পালের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
একই দিনে, বগুড়ায় শেরপুরে কমিউনিস্ট পার্টি, ক্ষেতমুজুর সমিতি এবং আদিবাসী ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি পালিত হয়েছে। স্থানীয় উপজেলা শহীদ মিনারে শহীদদের স্মরণে নিরবতা এবং পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় একুশের তাৎপর্য এবং ভবিষ্যত কর্মপন্থা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সিপিবি উপজেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হরিশংকর সাহা, সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্তো মাহাতো, ক্ষেতমুজুর সমিতির উপজেলা সভাপতি কবি আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নিমাই ঘোষ, সদস্য শাজাহান আলী সাজা, মিজানুর রহমান, আদিবাসী নেতা কমল সিং, গৌতম সিং, শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম প্রমুখ।