বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ১২৯ সংবাদকর্মী নিহত দুই-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী ইসরায়েল
একতা বিদেশ ডেস্ক :
২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক স্বাধীন সংগঠন ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে) বুধবার তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই নিহতের সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই ঘটেছে ইসরায়েলের হামলার কারণে।
সংগঠনটি বলছে, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সংবাদকর্মীদের প্রাণহানির রেকর্ড হয়েছে। একইভাবে ২০২৪ সালের মতো ২০২৫ সালেও দুই-তৃতীয়াংশ সাংবাদিকের প্রাণহানির জন্য ইসরায়েলই দায়ী।
সিপিজে-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক।
তবে এই তালিকায় ইয়েমেনে হুতিদের একটি মিডিয়া সেন্টারে হামলায় নিহত ৩১ জন কর্মীও রয়েছেন। সিপিজে সাংবাদিক হতাহতের সংখ্যা নথিভুক্ত করার কাজ শুরুর পর থেকে এটি ছিল দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী হামলা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত ৪৭ জন সাংবাদিককে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮১ শতাংশ ঘটনার জন্য দায়ী ইসরায়েল।
তবে গাজায় প্রবেশে কড়াকড়ি ও যাচাই-বাছাইয়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে তারা দাবি করেছিল যে, তাদের সেনারা কেবল যোদ্ধাদের নিশানা বানায় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করা সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ।
গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের মিডিয়া সেন্টারে হামলার কথা স্বীকার করে তারা বলেছিল, সেটি হুতিদের প্রোপাগান্ডা শাখা ছিল।
সিপিজে বলছে, তিন দশকেরও বেশি সময় আগে থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর আর কোনও দেশের সামরিক বাহিনী গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এত বেশি সুপরিকল্পিত হামলা চালায়নি।
গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে না দেওয়ায় সেখানে নিহতদের সবাই ফিলিস্তিনি। কয়েকটি ঘটনায় ইসরায়েল গাজায় সাংবাদিকদেরকে হামলার নিশানা করার কথাও স্বীকার করেছে।
তবে বলেছে, ওই সাংবাদিকদের সঙ্গে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের সংশ্লিষ্টতা ছিল। যদিও এর পক্ষে ইসরায়েল যাচাইযোগ্য কোনও প্রমাণ দেয়নি।
আন্তর্জতিক সংবাদ সংস্থাগুলোও সাংবাদিকদের সঙ্গে হামাসের যোগ থাকার অভিযোগ জোরালভাবে অস্বীকার করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ১২৯ জন সংবাদকর্মীর মধ্যে অন্তত ১০৪ জনই বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা ও ইয়েমেন ছাড়াও সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ ছিল সুদান (৯ জন নিহত) এবং মেক্সিকো (৬ জন নিহত)।
তাছাড়া রুশ বাহিনীর হামলায় ৪ জন ইউক্রেনীয় সাংবাদিক এবং ফিলিপিন্সে ৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
রাশিয়া বরাবরই সাংবাদিকদের নিশানা বানানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। উল্টো ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে রুশ সাংবাদিকদের হত্যার অভিযোগ তুলেছে মস্কো। তাবে ইউক্রেইন তা নাকচ করে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক
কিউবার সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ অনুপ্রবেশকারী নিহত
আবার উত্তর কোরিয়া ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান হলেন কিম জং-উন
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিরোধের মধ্যে ডেনমার্কে নির্বাচনের ঘোষণা
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা
৭ দিনের দুনিয়া
ইরান নিয়ে যে কারণে ট্রাম্পের হিসাব মিলছে না
চীনের জাহাজবিধ্বংসী সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ইরান
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন