
একতা প্রতিবেদক :
প্রথমবারের মতো তিন দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা বিশ্বকাপ। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় এ প্রতিযোগিতা ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনা যেন পিছু ছাড়ছে না।
বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে অংশ নিচ্ছে সবচেয়ে বেশি ৪৮ দল। এবার তাই আরও অনেক বেশি দর্শক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায়। সবচেয়ে বাজে অবস্থায় পড়তে হচ্ছে এই দর্শকদেরই! তাদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই।
টিকেটের দাম বেশিরভাগের নাগালের বাইরে। অভিযোগ আছে কিছু টিকেটের দাম হাজার ডলারেরও বেশি! বাংলাদেশের মুদ্রায় যা ১ লাখ ২২ হাজার টাকারও বেশি।
অতো দামে টিকেট কিনেও স্বস্তি নেই। কেনার সময় সিট ম্যাপ ছিল একরকম। হাসপিটালিটি ও ভিআইপি প্যাকেজকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে ম্যাপ করেছে ফিফা। এতে যারা ক্যাটাগরি ১ এর টিকেট কিনেছেন, তাদের এখন বসতে হবে কর্নার সেকশনে বা আপার ডেকে।
ভক্তদের প্রতি ফিফার বিমাতাসুলভ আচরণের শেষ এখানেই নয়। জুনের শুরুতে টিকেটের শর্তে পরিবর্তন এনেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রা সংস্থা। ভক্তদের বারবার তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাইরে থেকে পানির বোতল নিয়ে যেতে পারবেন তারা। কিন্তু হঠাৎ বিস্ময়করভাবে নিরাপত্তাকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে, পানির বোতল নেওয়ার অনুমতি বাতিল করে দিয়েছে তারা।
তীব্র গরমের মধ্যে ভক্তদের স্টেডিয়াম এলাকায় পানি কিনে পান করতে হবে। ফিফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, পানির দাম বাড়বে না। কিন্তু তাদের এই প্রতিশ্রুতিতে ভুলছেন না ভক্তরা। তারা কঠোর সমালোচনা করেছেন ফিফার। ইংল্যান্ডের ভক্তদের একটি গ্রুপ শ্লেষের সঙ্গে বলেছেন, এখন কী সান স্ক্রিনও মাঠ থেকে কিনতে হবে? স্টেডিয়ামের ঝর্নার পানি পানের জন্য লাইনে দাঁড়াতেও কি অর্থ দিতে হবে?
ভিসা পলিসিতে পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। টিকেট কিনলেও অনেক দেশ থেকেই খেলা দেখতে সেখানে যাওয়া অনিশ্চিত। ইবোলা ছড়িয়ে পড়ায় টিকেট কেনার পরও ডিআর কঙ্গোসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশ থেকে ভ্রমণ করতে পারবেন না। তাদের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে ফিফার সঙ্গে কথা বলছে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলো।
জুন ও জুলাইয়ে প্রচণ্ড গরমে খেলতে হবে ফুটবলারদের। প্রতি অর্ধে ২২ মিনিটের সময় তিন মিনিটে একটি কুলিং ব্রেক দেওয়া হয়েছে। তবে এটা যথেষ্ট মনে করছেন না গবেষকরা। পেশারদার ফুটবলারদের সংগঠনও ফুটবলার এবং মাঠে থাকা ভক্তদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই আসর থেকে কমবেশি ৯০ লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হবে। এর পেছনে মূল ভূমিকা থাকবে প্রচুর বিমান ভ্রমণের। দা গার্ডিয়ানের মতে, এই আসর হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দূষণকারী বিশ্বকাপের একটি।
রাজনৈতিক সঙ্কটও কম নয় এবার। বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় যেন এখনও কাটছে না। এশিয়ার দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর সঙ্কটের শুরু। ইরানের সব খেলা যুক্তরাষ্ট্রে, তাদের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল সেখানেই। ইরান দাবি জানিয়েছিল, ম্যাচ মেক্সিকোয় সরিয়ে নিতে হবে। সেই দাবিতে কান দেয়নি ফিফা। ইরানের ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মেক্সিকোয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে সাবেক ও বর্তমান ফুটবলারাও প্রাণ হারিয়েছেন। এতে সাবেকদের কেউ কেউ, এই প্রসঙ্গে ফিফা প্রধানকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে বলেছেন। সেটা করেননি জিওভান্নি ইনফান্তিনো। ইউক্রেন প্রসঙ্গে অতীতে কথা বললেও ইরান প্রসঙ্গে তিনি পুরোপুরি চুপ। গত কয়েকটি আসরের মতো এবারও ইরানের ‘সিংহ ও সূর্য পতাকা’ স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।