‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রণয়নের দাবি দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রণয়নের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন
একতা প্রতিবেদক : ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন। আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবসে গত ২৯ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীসহ দেশের ৩০টি জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানায় তারা। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক উদ্যোগের সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগের আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রম অধিকার ফোরাম এর আহ্বাায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন। সঞ্চালনা ও দলিত জনগোষ্ঠীর পক্ষে দাবিসমূহ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন বিডিইআরএম-কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এর প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, মতিঝিল শাখার সাবেক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, জাত-পাত বিলোপ জোটের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট উৎপল বিশ্বাস, বাংলাদেশ মতুয়া সম্প্রদায়ের সভাপতি অধ্যক্ষ নীরদ বরণ মজুমদার, বিডিইআরএম- ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি গগণ লাল, বিডিইআরএম-কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক তামান্না সিং বাড়াইক, নাগরিক উদ্যোগের ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর ইসতিয়াক মাহমুদ। মানববন্ধনে ঢাকার বিভিন্ন কলোনী থেকে দলিত নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না বলেন, ‘যতদিন সমাজে পুজিবাদী ব্যবস্থা টিকে থাকবে, ততদিন বৈষম্য হতে মুক্তি মিলবে না। কেননা, পুজিবাদীরা তাদের স্বার্থেই ধনী-গরীব, দলিত-অদলিত বৈষম্য ও বিভেদ টিকিয়ে রাখবে। এই চরম বাস্তবতা থেকে মুক্তি পেতে সম্মিলিতভাবে আমাদের আন্দোলন করতে হবে।’ শিপন কুমার রবিদাস বলেন, ‘বিগত এক যুগেরও অধিক সময় ধরে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রণয়নের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। ৫ এপ্রিল, ২০২২ এ একাদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘বৈষম্য বিরোধী বিল-২০২২’ উত্থাপন করা হয় এবং তা পর্যালোচনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নিকট পাঠানো হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণবশতঃ বাংলাদেশে বৈষম্যের শিকার একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্খিত ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ আজও আলোর মুখ দেখেনি। চলতি সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি পাশ হওয়া সময়ের দাবী। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সে বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করছি।” জাত-পাত বিলোপ জোটের সদস্য সচিব উৎপল বিশ্বাস বলেন, ‘বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বর্তমান সরকারে দলিত তথা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে ন্যূনতম ১ জনকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা উচিত। নতুবা অনগ্রসর সম্প্রদায়ের দাবীগুলো যথাযথভাবে উঠে আসবে না।’ বিডিইআরএম ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি গগন লাল বলেন, দলিতরা তীব্র আবাসন সমস্যার মধ্যে থাকে সেটা সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন। দলিতরা কোথাও বাসা ভাড়া পায় না, তাদেরকে বাসা ভাড়া দেয়া হয় না ফলে বাধ্য হয়ে তাদেকে নির্দিষ্ট কলোনীর মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি দেশের সকল দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য আবাসন ব্যবস্থা করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি দাবি জানান। তিনি আরো বলেন খুব ভোর বেলায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঘুম থেকে উঠে শহরকে পরিস্কার করে অথচ সারাদেশে কোন হোটেল রেস্তোরায় বসে তারা খেতে পারে না এই মানবাধিকার লঙ্ঘন আর কত দিন চলবে? দেশের মধ্যে কেন তারা এমন বৈষম্যের শিকার হবেন? সরকারের প্রতি তিনি এ প্রশ্ন রাখেন। নাগরিক উদ্যোগ এর ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর ইসতিয়াক মাহমুদ বলেন, ‘জন্ম ও পেশাগত পরিচয়ের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন মন্দির, সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং জনসমাগমস্থলে তাদের বৈষম্যের সম্মুখীন হতে হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে বৈষম্যবিরোধী কোনো আইন না থাকায় তারা এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার চাইতে পারেন না। শুধুমাত্র জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতি চলমান বৈষম্য নিরসন কোনভাবেই সম্ভব নয়। অন্যদিকে শুধুমাত্র সংবিধানে উল্লেখিত ২৭ এবং ২৮ নং অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার দলিত জনগোষ্ঠীর একজন মানুষের পক্ষে আইনী প্রতিকার চাওয়া অত্যন্ত দুরূহ বিষয়।’ সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রম অধিকার ফোরারমর আহ্বাায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন বলেন, ‘দেশের দলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ভিক্ষা চায় না, করুনা চায় না। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার চায়। তাই আমরা চাই এ সরকার অনতিবিলম্বে ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রণয়নের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের আকাক্সিক্ষত দাবী বাস্তবায়ন করবেন।’ ঢাকাসহ যে ৩০টি জেলায় অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়েছে, সেগুলো হলো- রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জ, খুলনা, জয়পুরহাট, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, জামালপুর, শেরপুর, মৌলভীবাজার, যশোর, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, মাগুরা, চট্টগ্রাম, লক্ষ¥ীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..