ইইউ ও ভারত ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য চুক্তি সই

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : প্রায় দুই দশকের আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতি দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারত একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রেক্ষাপটে পণ্য বাজারে আরও বৈচিত্র্য আনার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সম্প্রতি চুক্তি সইয়ের এ ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন ও ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। এই চুক্তির বিষয়ে জার্মান পত্রিকা ডের স্পিগেল বলেছে, বাণিজ্যিক বাধা ও শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে ইইউ ও ভারতের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা বিনিময় বাড়ানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের ওপর অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা কমানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক শুল্ক ও বাণিজ্যনীতি এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিকে ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চুক্তি সইয়ের পর ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভন ডার লেন বলেন, ‘আজ ইউরোপ ও ভারত ইতিহাস তৈরি করেছে। আমরা সব চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি সম্পন্ন করেছি।’ এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইইউ কমিশনের মতে, প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি হচ্ছে, যা উভয় পক্ষের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকে বার্তা দেবে যে নিয়মভিত্তিক সহযোগিতা এখনো চমৎকার ফল দিতে পারে। এই চুক্তি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে সম্প্রতি ইইউর করা মেরকোসুর চুক্তির মতো এতটা বিস্তৃত না হলেও ভারতের বিশাল বাজারের কারণে এটি এখন পর্যন্ত করা সবচেয়ে বড় চুক্তিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১৪৬ কোটির কাছাকাছি। চীনের ১৪০ কোটি জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গিয়ে ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..