কাস্তে নিয়ে লড়ছেন যারা

নারায়ণগঞ্জ-৫ এ মন্টু ঘোষ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কিছু এলাকা ও বন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে কাস্তে মার্কার প্রার্থী হয়েছেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ। মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার ঝাউটিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া মন্টু ঘোষের বাবা শিক্ষক হরেন্দ্র চন্দ্র ঘোঘ, মা স্বদেশী আন্দোলনকারী কনক প্রভা ঘোষ। ১৯৬৯ সালে বিজ্ঞান বিভাগে লেটারসহ প্রথম শ্রেণিতে এসএসসি পাস করা মন্টু ঘোষ স্কুল জীবনেই রাজনীতি ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শের দীক্ষা পান লৌহজংয়ের ব্রাহ্মণগাঁও বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক আব্দুর রহমান স্যারের কাছে। এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার পূর্বেই আন্দোলন করায় মামলায় নাম ওঠে তার। পরে নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজে ভর্তি হয়েই যোগ দেন ছাত্র ইউনিয়নে। ‘৬৯ এর পাকিস্তানি স্বৈরশাসক বিরোধী গণ আন্দোলনে সক্রিয় হন এবং একাত্তরে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনীর সাঁথে ঝাপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিযুদ্ধে। ‘৭২ এ তোলারাম কলেজ থেকে বিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণিতে পাশ করেন এইচএসসি। স্বপ্ন ছিলো ডাক্তারী পড়ার কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেটি আমল পায়নি। এরপরই মন্টু ঘোষ কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত থেকে কিংবদন্তি শ্রমিক নেতা সুনীল রায়ের সঙ্গে সক্রিয় হন শ্রমিক আন্দোলনে। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ পাটকল ও কল কারখানার শ্রমিক র্স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন গড়ে তোলেন। দেশে গার্মেন্টস শিল্পের প্রচলন বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে মন্টু ঘোষ পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে যুক্ত হন। তৃতীয়বারের মতো নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্টেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব। আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি বহুবার মালিক পক্ষের রোষানলে পারে তাদের লেলিয়ে দেয়া গুন্ডাদের আক্রমণের স্বীকার হন। ‘৭৬,’৮৪,’৯০,২০১০ সালে বিভিন্ন সময়ে বিনা বিচারে ডিটেনশানে দীর্ঘসময় জেল খেটেছেন, রিমান্ডে গিয়েছেন। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনে ২০১০ সালে তাকে ৮টি মামলার আসামি করা হয়। জেল থেকে মুক্তি পেলেও মাসের পর মাস হুলিয়া মাথায় মানুষের জন্য কাজ করেছেন। একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে যে অর্থ উপার্জন করেন, এখনো তার সিংহভাগ বিলিয়ে দেন শ্রমিকদের প্রয়োজনে। নারায়ণগঞ্জ জেলার কমিউনিস্ট পাটির্, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি মন্টু ঘোষ ‘৯১ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে কাস্তে মার্কায় দাঁড়িয়েছিলেন। সে সময় নারায়ণগঞ্জ ছিল কমিউনিস্ট পার্টি’র অন্যতম দূর্গ কিন্তু পরে পার্টির নির্দেশে তিনি সরে দাঁড়ান নির্বাচন থেকে। এবারও তিনি একই আসনে কাস্তে মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..