লাভজনক নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারার তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করুন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার দেশ বিরোধী তৎপরতা বন্ধের দাবিতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চার বিক্ষোভ
একতা প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার দেশ বিরোধী তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চা। একই সঙ্গে লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে এবং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন-লুণ্ঠন রুখে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছে তারা। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চার আয়োজনে গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান হয়। এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, বাংলদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য; গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন আহমেদ নাসু, বাসদ (মাহবুব) কেন্দ্রীয় নেতা মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, বাংলাদেশের সোস্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর হলো বাংলাদেশের প্রবেশ দ্বার, এখানে কাছেই নৌবাহিনীর ঘাঁটি, তেল শোধনাগার ও বিমান বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কৌশলগত স্থাপনা রয়েছে। ফলে বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দিলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌত্ব ও নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকিতে পড়বে। তাছাড়া এনসিটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এই টার্মিনালের মাধ্যমে সব থেকে বেশি পরিমাণ কন্টেইনার ওঠা-নামা অর্থাৎ হ্যান্ডলিং করা হয়। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গ্রান্টি ক্রেন রয়েছে। নিজেদের টাকায় বন্দর টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবছর একহাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় হয় এই টার্মিনাল থেকে। এর পরও কেন বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দিতে হবে? এর কোনো সদুত্তর সরকারের কাছে নেই। নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড কোম্পানির সাথে মার্কিন নৌবাহিনীর চুক্তি রয়েছে, এই কোম্পানি পৃথিবীর যে দেশেই বন্দর পরিচালনা করবে সেখানে মার্কিন নৌ-বাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ নোঙর করতে পারবে। রিফুয়েলিং ও মেরামতি কাজ করতে পারবে। ফলে বুঝতেই পারা যায় যে, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া মানে পরোক্ষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এখানে কর্তৃত্ব করবে। এ অঞ্চলে তার সামরিক ও প্রতিরক্ষা নজরদারি চালাবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় বসে গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্য বিরোধী আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করছে। শ্রমিকের বুকে গুলি চালিয়েছে। ৪ কোটি ৭ লক্ষ শ্রমিকের ন্যূনতম জাতীয় মজুরি ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করেনি। কিন্তু মাত্র ২২ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর জন্য আড়াইগুণ বেতন ভাতা বাড়ানোর পে-স্কেল ঘোষণা করেছে। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্য বিলোপ অথচ বৈষম্য বেড়েছে, দারিদ্র বেড়েছে। একই সাথে এক বছরে ১০ হাজার নতুন কোটিপতি জন্ম নিয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের কাছে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে ভোট ছাড়া জোরপূর্বক ১৫ বছর ক্ষমতা দখল করেছিল। বর্তমান সরকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে আমেরিকার সাথে গোপন চুক্তি করেছে যার ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের চেয়ে প্রতি টনে ৯ হাজার টাকা বেশি দামে গম কিনতে হচ্ছে আমেরিকা থেকে। সেখান থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। বোয়িং বিমান কিনতে চাপ দিচ্ছে। সামরিক অস্ত্রশস্ত্র ক্রয়ে বাধ্য করা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে লাল দিয়ের চর ও পানগাঁও টার্মিনাল ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ডের কোম্পানির কাছে ইজারা চুক্তি অতিগোপনীতায় সম্পাদন করেছে জনগণকে না জানিয়ে। নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে এনসিটি ইজারা চুক্তি ও ৬ দিন আগে জাপানের সাথে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নিয়ে এগুচ্ছে সরকার। যা দেশকে এক বিপদজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দেবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার একটি অনির্বাচিত সরকার ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি করার এখতিয়ার তার নাই। তাছাড়া একটি জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকারের কেবল রুটিন কাজ করা এবং নির্বাচন কমিশনকে চাহিদা মতো সহযোগিতা করা ছাড়া অন্য কোনো কিছু করার অধিকার বা এখতিয়ার একেবারেই নেই। ফলে এসব দেশ বিরোধী চুক্তি করার মধ্য দিয়ে সরকার দেশকে এক ভয়ংকর বিপদে ঠেলে দিচ্ছে। এজন্য তাদের একদিন বিচারের সম্মুখীন করবে দেশবাসী। নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় বসে যে সকল অপরাধ করছে তার দায়মুক্তির জন্য নানা তোষামোদি কাজ কারবার করছে। যেমন, ৭১টি বাংলো-ফ্লাট মন্ত্রীদের জন্য থাকার পরও নতুন করে সাধারণ কর্মচারীদের চেয়ে ১৪ গুণ বড় অর্থাৎ ৯ হাজার ৩০ বর্গফুটের ৭২টি ফ্লাট নির্মাণ করা, আগামী মন্ত্রীদের জন্য নতুন গাড়ি কেনার মতো অপচয়ের প্রকল্প সর্বশেষ একনেকে গ্রহণ করেছে যা সরকারের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নেতৃবৃন্দ দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আস্ফালন, মব সন্ত্রাসীদের সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সজাগ থাকা ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। একই সাথে নিউমুরিং টার্মিনাল চুক্তি করা থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..