ইতিহাসের চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হতে নির্বাচনি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ুন
মো. কিবরিয়া
ইতিহাসের এক দিকনির্ধারণমূলক বাঁকে দাঁড়িয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বছর দেড়েক আগের ‘২৪-এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে হতে চলা এ নির্বাচন গণঅভ্যুত্থান ও এর পরবর্তী নানা ঘটনাপ্রবাহের কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি এক গভীর সম্ভাবনা ও সংকটের যুগসন্ধিক্ষণে প্রবেশ করেছিল। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিস্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন স্বৈরাচারী কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের মরণপণ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছিল। সেই সরকারের পতন হয়েছে, তার শাসনের অবসান হয়েছে। শেখ হাসিনার এই শাসনামলকে বিভিন্ন গবেষণায় ‘ফ্যাসিস্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনতুষ্টিবাদী কর্তৃত্ববাদের নয়া উপনিবেশিক রূপ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শাসনের পতনের পর রাষ্ট্রক্ষমতা কোন পথে অগ্রসর হলো? আজ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগে অর্জিত এই গণঅভ্যুত্থান দ্রুতই সিভিল-মিলিটারি ব্যুরোক্রেসি ও পশ্চিম অনুগত ধনিক শ্রেণির অভিজাতগোষ্ঠীর খপ্পরে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনব্যবস্থার চরিত্র বিশ্লেষণ করলে একে হয়তো ‘উগ্র দক্ষিণপন্থী জনতুষ্টিবাদী ফ্যাসিস্ট শক্তির সহায়তায় পশ্চিমা শক্তি সমর্থিত নয়া উদারবাদী অন্তর্বর্তী অভিজাততন্ত্র’ হিসেবেই ভবিষ্যতে চিহ্নিত করা হবে। বস্তুতঃ এই শাসনের অন্যতম লক্ষ্য- এদেশে নয়া উপনিবেশিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
ইতিহাস একথা বলে যে- যে কোনো দীর্ঘস্থায়ী কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে আগে পরে যে কোনো সময় গণবিস্ফোরণ ঘটা অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু সেই গণবিস্ফোরণের পর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো দুর্বল থাকলে, সেই সুযোগে সাম্রাজ্যবাদী ও নয়া উদারবাদী শক্তির দুরভিসন্ধিমূলক হস্তক্ষেপের সুযোগ তদানুপাতে কম বেশি হয়। একারণেই নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এক নয়; আবার ইরাক, আফগানিস্তান বা ইউক্রেনের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও বাংলাদেশের বাস্তবতাকে হুবহু মেলানো যাবে না। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা একটি স্বতন্ত্র বাস্তবতা- যাকে কোনো একটি নির্দিষ্ট ছকে ফেলে ব্যাখ্যা করলে গণঅভ্যুত্থান ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের বহুমাত্রিকতা বোঝা যাবে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও কর্তাসত্তাকে স্বীকৃতি দিয়ে, জনগণের সাথে কায়েমি স্বার্থবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীসমূহের বাস্তব দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রগুলোকে পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত করার মাধ্যমেই এই অস্থির সময়ের সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে পারে।
আমরা দেখেছি গণঅভ্যুত্থানের পর পরই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া সংগঠিত হয়েছিল জনগণের সক্রিয় ভূমিকাকে অগ্রাহ্য করেই। এমনকি শেখ হাসিনা দেশত্যাগের আগেই পশ্চিমা সমর্থিত অলিগার্কি ও দক্ষিণপন্থি শক্তির অক্ষ রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। গণআন্দোলনের ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্রকে একটি তথাকথিত ‘মেটিকুলাস ডিজাইন তত্ত্ব’-এর কাঠামোতে আবদ্ধ করে তার সমস্ত কৃতিত্ব গুটিকয়েক মানুষের হাতে যেভাবে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল, তা ছিল এই দখল পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যেই। পরিণতিতে, গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত নায়ক- জনগণ ও তাদের বৈষম্যবিলোপের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা- ধীরে ধীরে রাজনৈতিক বয়ান থেকে মুছে যেতে থাকে। পরাজিত বা বিতাড়িত শক্তিগুলোও অপরাধ-ভুল স্বীকার না করে নিজেদেরকে নিছক ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে এই ‘মেটিকুলাস ডিজাইনের’ বয়ানকে সমর্থন করে। ফলে রাষ্ট্রক্ষমতার দখল ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে গুটিকয়েকের সম্মতিকেই ‘গণসম্মতি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ছক অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বহুল পরিমাণে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
ক্ষমতা সংহত করার সাথে সাথেই শাসকশ্রেণি উগ্র দক্ষিণপন্থা ও মববাজি-মাস্তানিকে রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয় দিতে শুরু করে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে কার্যত অকার্যকর করে রাজনীতির গতিমুখকে পশ্চিমা-প্রতিক্রিয়াশীলতা অভিমুখী করে ফেলা হয়। পরিবর্তনকামী জনগণকে বিভ্রান্ত, সন্ত্রস্ত ও বিভাজিত করে সংস্কারের নামে রাষ্ট্রকে শুধু লুটেরা পুজিবাদের পুরনো নয়া উদারবাদী মডেলের একটি আপডেটেড রক্ষণশীল সংস্করণে রূপান্তর করাই নয়, তাকে চরম দক্ষিণপন্থা ও উগ্র সাম্প্রদায়িক মধ্যযুগীয় অন্ধকারে টেনে নামানোর অপচেষ্টা শুরু হয়। উপরিকাঠামোকেন্দ্রিক কিছু সংস্কারের তর্কে রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্যস্ত রেখে দেশের মৌলিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হয়। জনগণের দৈনন্দিন জীবনসংক্রান্ত প্রশ্ন- দাম, মজুরি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার ইত্যাদি পাস কাটিয়ে এই অলিগার্কি নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখে। জনগণের অগোচরে অতি সংগোপনে চুপচাপ করে বন্দর ইজারা দেওয়া হয় পশ্চিমা শক্তির হাতে। এ যেন নাওমি ক্লেইনের শক ডক্ট্রিন তত্ত্বের আরেকটি ক্লাসিক উদাহরণ- সংকটকে পুঁজি করে নয়া উপনিবেশিক নীতি চাপিয়ে দেওয়া।
এই সময় বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সৃষ্ট ন্যায্য ভারতবিরোধী ক্ষোভকে সাম্প্রদায়িক ও বিদ্বেষমূলক রূপ দেওয়া হলো। ভারতের অন্যায্য আধিপত্যবাদী আচরণের কারণে মানুষের মাঝে যে ক্ষোভ জন্ম রয়েছে তাকে ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজনের ভাষায় উপস্থাপন করা হতে থাকে। এতে লাভবান হয় উভয় দেশের সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। পশ্চিমাদের উদ্দেশ্য ভারতের আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করা নয়; উদ্দেশ্য হলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের ভূরাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নের জন্য ভারতকে ‘লাইনে’ রাখা। ফলে ভারতের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য ক্ষোভকেও এ ধরনের নানা পক্ষ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে সচেষ্ট হয়। এই সুযোগে প্রতিক্রিয়ার শক্তি সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের গতিমুখকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। সেই ধারাতেই হামলা চালানো হলো প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের মত পত্রিকায়, উদীচী-ছায়ানটের মত প্রতিষ্ঠানে।
উগ্র দক্ষিণপন্থার এই উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার তৎপরতা জোরদার করেছে। পশ্চিমা শক্তির প্রধান একটি উদ্দেশ্য হলো সংবিধান থেকে সমাজতন্ত্র ও মুক্তবাজারবিরোধী সকল ধারাকে অপসারণ করা। এদিকে উগ্র সাম্প্রদায়িক ও চরম দক্ষিণপন্থিদের একটি মূল লক্ষ্য হলো ধর্মনিরপেক্ষতা ও মুক্তিযুদ্ধের নাম নিশানা সংবিধান থেকে মুছে ফেলা। এই দুই শক্তি এখানে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। একদিকে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদের ‘নয়া উদারবাদী নয়া উপনিবেশবাদ’, অন্যদিকে ‘সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদ’- দুটিই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর।
এই নাজুক ও সংঘাতপূর্ণ বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে কে বা কারা সরকার গঠন করবে কেবল সেটিই নির্ধারিত হবে না, একই সাথে বহুলাংশে নির্ধারিত হবে যে রাষ্ট্র ভবিষ্যতে কোন পথে যাবে। এ নিয়ে যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত রয়েছে তা নিরসনে মরিয়া প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর গভীর ষড়যন্ত্রমূলক নানা সক্রিয় তৎপরতা। অনির্বাচিত সরকার ও অস্থিতিশীলতা-অনিশ্চয়তা বজায় রাখতে পারলে তাদের ষড়যন্ত্র করতে সুবিধা হয়। তাই তারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র, বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টিতে সচেষ্ট। এ নাজুক পরিস্থিতিতে সরকার ও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী অবাধ-নিরপেক্ষ-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরকে তার প্রধান কাজ বলে গণ্য না করে একটি বিতর্কিত প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রতারণাপূর্ণ ‘হ্যাঁ-না’ ভোটকে সামনে নিয়ে এসেছে। এভাবে তার মূল দায়িত্ব পালন না করে নানা অযুহাতে অনির্বাচিত সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করেছে। এ বিষয়ে সরকার তার কাজে নিরপেক্ষ থাকার প্রতিশ্রুত এখিতায়ের বাইরে গিয়ে তার ম্যান্ডেটও লঙ্ঘন করেছে এবং নির্লজ্জভাবে জলাঞ্জলি দিয়ে তারা রাষ্ট্রীয় খরচে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। অথচ এই হ্যাঁ-না ভোটের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়।
ভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে, এবং ভিন্নমতের বিষয়গুলোকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ছলচাতুরী করা হয়েছে। জনগণের সামনে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থার প্রকৃত সংস্কার-প্রস্তাব হাজির না করে, বিদ্যমান ব্যবস্থাকে হয় মেনে নেওয়া আর তা না হলে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া- এই দুইয়ের মধ্যে বেছে নিতে ভুয়া ‘ঐক্যমত্যের সনদের’ পক্ষে ভোট দিতে জনগণকে বাধ্য করা হচ্ছে। জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্টে আলাপ-আলোচনা না করে উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া প্রশ্নে গণভোট এবং সেক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা নেওয়া কোনোভাবেই গণতন্ত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। এই অপ্রয়োজনীয় এবং ভুয়া ও প্রতারণাপূর্ণ গণভোটে জনগণের কোনো স্বার্থ নেই, তারা হ্যাঁ ভোট তো দিবেই না, এই ভোটে তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।
কমিউনিস্টরা কেবল বর্তমানের প্রতিবাদী শক্তি নয়; তারা ভবিষ্যতের আন্দোলনের প্রতিনিধিও। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চূড়ান্ত লক্ষ্য সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ দীর্ঘ, ধারাবাহিক ও ধাপে ধাপে সে সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হতে পারে, কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য তারা সেই লক্ষ্যের কথা ভুলে যায় না। বাংলাদেশে সমাজতন্ত্রের দিকে রাষ্ট্রের গতিমুখ ঘুরাতে হলে বিদ্যমান শোষণমূলক, বৈষম্যমূলক ও কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বদল অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রামকে তাই কমিউনিস্ট ও বামপন্থীরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। সেই সংগ্রামের বর্তমান পর্বে তাদের কর্তৃত্ব ও অপরাপর বিভিন্ন শ্রেণির সমন্বয়ে একটি সমাজতন্ত্র অভিমুখীন শক্তি সমাবেশ গড়ে তুলে বাম গণতান্ত্রিক ধারার বিকল্প সরকার প্রক্রিয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটেই গত ২৯ নভেম্বর রাজনৈতিক কনভেনশনের মাধ্যমে ‘জনতার সনদ’-এর কর্মসূচির ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’। এই যুক্তফ্রন্ট গঠন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ, যা গণতন্ত্রকামী, প্রগতিশীল ও বাম শক্তিগুলোর ঐক্যকে আরো ব্যাপক মাত্রায় সংগঠিত করবে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি এই গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক রাজনৈতিক দল। যুক্তফ্রন্ট এখনো বিকাশমান; ভবিষ্যতে এটি আরও বৃহৎ ও ব্যাপক গণভিত্তিসম্পন্ন রূপ নেবে। আপাতত যারা যুক্ত হয়েছেন, তারা একসাথে নির্বাচনি সংগ্রামে অংশগ্রহণ করছে। এই নির্বাচনি সংগ্রামে অংশগ্রহণ ও একই সাথে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে জনগণকে সচেতন ও সংগঠিত করা, দুটি কাজকেই বামপন্থিরা এগিয়ে নিচ্ছে।
দেশের মানুষ স্বৈরাচারী হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে গণতন্ত্র ও প্রগতির পথে আরোও সামনের দিক এগুনোর জন্য। পেছনের দিকে যাওয়ার জন্য নয়। গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী গণমানুষের গণ আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়েছিল বৈষম্য বিরোধিতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্লোগানে। গ্রাফিতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল বহুত্ববাদী অসাম্প্রদায়িক সাম্যের সমাজের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী এই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেনি, বরং এই গণঅভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে স্থাপন করার চক্রান্তকে পথ করে দিয়েছে এবং ঐক্যমত্যের নামে দেশকে বিভাজিত করে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে।
আজ দেশবাসীর সামনে একটি প্রধান দায়িত্ব হলো বাংলাদেশকে এই উগ্র দক্ষিণপন্থা ও পশ্চিমা মদদপুষ্ট অলিগার্কির হাত থেকে উদ্ধার করা। তবে মনে রাখতে হবে এই লড়াই কেবল এই অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেই নয়; এই লড়াই নয়া উপনিবেশিক শক্তিগুলোর মদদে পরিচালিত নানা চেহারার ফ্যাসিবাদী-গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংগ্রামেরই অংশ। নির্বাচনের আগে যেমন, নির্বাচনের পরেও গণবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে এই সংগ্রামকে কমিউনিস্ট ও বামপন্থিরা দৃঢ়তার সাথেই অগ্রসর করে নিয়ে যাবে।
প্রথম পাতা
কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় অনুমোদিত ‘নির্বাচন পর্যালোচনা’ ও ‘রিপোর্ট’ থেকে উদ্ধৃতি
নববর্ষ
গোলামীর চুক্তি সম্পাদনে যুক্তদের বিচার কর, চুক্তি বাতিল কর
সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুক্ত হলেন ৩ জন
অসম বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে গানের মিছিল
দাসত্বের বাণিজ্য চুক্তি জনগণ মানে না
সর্বনাশা চুক্তি প্রণয়নকারীদের শাস্তি দিতে হবে
সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আত্মপ্রকাশ
পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না
সিপিবির পথ পরিক্রমণের তথ্য-কণিকা
জাতীয় স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল কর
সমস্যা-সংকটের অচলায়তন ভাঙতে জোর কদমে পা বাড়াও-কমরেডস
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন