
একতা প্রতিবেদক :
ভাষা সংগ্রামী, প্রথিতযশা গবেষক ও লেখক আহমদ রফিকের মৃত্যুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) গভীর শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
গত ৩ অক্টোবর এক শোক বার্তায় সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, সমাজ প্রগতি, অসাম্প্রদায়িকতা, মানুষের স্বাধীনতা ও অধিকারের স্বপক্ষে আজীবন নিবেদিত আহমদ রফিকের প্রয়াণ একটি প্রজন্মের সমাপ্তি। তিনি ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছাত্র ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা, পাকিস্তান পর্বের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী স্বাধীন দেশে প্রায় সকল ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আহমদ রফিকের অপরিসীম গুরুত্ব হলো, তিনি ছিলেন ইতিহাসের মুখপাত্র। বহু যুগ ধরে আগামী প্রজন্ম ইতিহাস অন্বেষণে আহমদ রফিকের শরণ নেবে।
সিপিবি নেতৃবৃন্দ প্রয়াত ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিকের রেখে যাওয়া গবেষণা, সাহিত্য ও চিন্তাকে কৃতজ্ঞতার সাথে বয়ে নিয়ে চলার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে তারা প্রয়াত আহমদ রফিকের শোকাচ্ছন্ন স্বজন ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। নেতৃবৃন্দ ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে আহমদ রফিক রচিত ‘যখন রাস্তায়’ কবিতার ‘পথে যেতে মিছিলের মুখে- দেখা, চোখের তারায়/দেখেছি অভ্যস্ত হাসি তীক্ষè অভিযোগ’ স্তবকের মাধ্যমে প্রয়াতকে স্মরণ করেন।
উদীচীর শোক: শোকবার্তায় উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, আহমেদ রফিক আজীবন অসাম্প্রদায়িক ও মুক্ত চিন্তার পক্ষে কাজ করে গেছেন। ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। মানুষের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ও মুক্তির পক্ষে তিনি ছিলেন একজন সাহসী যোদ্ধা। কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষণাসহ শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছেন। রবীন্দ্রচর্চার ক্ষেত্রে তার গবেষণাকর্ম অবদান দুই বাংলায় সমানভাবে শ্রদ্ধার আসন পেয়েছে।
নেতৃবৃন্দ তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তার জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে, মানব মুক্তির লড়াইয়ে আমরা তাকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবো।
ছাত্র ইউনিয়নের শোক : বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আহমদ রফিকের শোকবার্তায় ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় সংসদের নেতারা বলেন, আহমদ রফিক এক বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন। ছাত্র জীবন থেকেই আহমদ রফিক বামপন্থী প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন।
ভাষা আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া এ ভূখণ্ডের লড়াই-সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন আহমদ রফিক। প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত থাকায় প্রশাসনিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
শোকবার্তায় জানানো হয়, সাহিত্য চর্চা ও রবীন্দ্র গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য আহমদ রফিক ১৯৭৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৫ সালে একুশে পদক, ১৯৯৭ সালে টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক রবীন্দ্রত্ত্বাচার্য উপাধিসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হন। মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার আদর্শের প্রতি তার নিরন্তর অঙ্গীকারের জন্য তিনি সর্বস্তরে পরিচিতি ও বিশেষ সম্মান অর্জন করেছেন।
আহমদ রফিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ছাত্রনেতারা মুক্তমত প্রকাশ ও সাহিত্যচর্চায় আহমদ রফিকের জীবন তরুণদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।